বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ গায়ের জোরে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চেয়েছিল। সেইসঙ্গে তারা দেশের সব কিছুকে ধ্বংস করে দেয়। জনগণের আন্দোলনের মুখে আজ দেশ থেকে শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছেন। এখন আমাদের সব থেকে বেশি যেটি প্রয়োজন সেটি হলো জাতীয় ঐক্য।
গতকাল শনিবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও পাবলিক ক্লাব মাঠে জেলা ছাত্রদলের আয়োজনে ছাত্রসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘১৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগ দেশটাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। দেশের রাজনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। ছাত্র আন্দোলনে শেখ হাসিনা কয়েক হাজার ছাত্রকে হত্যা করেছে।’
শেখ হাসিনার আমলে সারা বাংলাদেশে দুর্নীতি হয়েছে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশে যারা যুদ্ধ করেছিল জিয়াউর রহমানের ঘোষণার মধ্য দিয়ে, তারা সত্যিকার অর্থে একটি গণতান্ত্রিক দেশ চেয়েছিল। তারা বৈষম্য বিশ্বাস করত না। কিন্তু শেখ হাসিনার আমলে সবখানে বৈষম্যের সৃষ্টি হয়েছে, দুর্নীতি হয়েছে। তবে আজকে আমাদের সেই বৈষম্যকে দূর করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠান করতে হবে।’
ছাত্রদলের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সবসময় জ্ঞানভিত্তিক চর্চা করতে হবে। পড়াশোনার মধ্য দিয়ে নিজের ও দেশের কল্যাণ কীভাবে নিয়ে আসা যাবে তার কাজ করে যেতে হবে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকার এ দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়ে পালিয়েছে। দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। অনেক ছাত্রকে হত্যা করেছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে কয়েক হাজার ছাত্র-ছাত্রীকে হত্যা করেছে। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তারা গায়ের জোরে ক্ষমতায় টিকে থেকেছে।’
১৯৭৫ সালের আগে আওয়ামী লীগের শাসনব্যবস্থা নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘৭৫ সালের আগে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল। তারা ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় দুর্নীতি ও লুটপাট করেছে। দেশকে বাকশাল করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছিল। একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। সেইসঙ্গে শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করেছেন।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ছাত্রদলকে সবসময় জ্ঞানভিত্তিক চর্চা ও জ্ঞানভিত্তিক রাজনীতি করতে হবে। বিগত বছরগুলোয় ছাত্রদল অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা সহ্য করেছে, মামলা-মোকদ্দমার শিকার হয়েছে। এখন আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত হতে পেরেছি। এখন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলার এবং আজকের এই ছাত্ররাই তা পারবে আমি বিশ্বাস করি।’
এ ছাড়া সভায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি কায়েসের সভাপতিত্বে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমিন, সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর করিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ দলটির নেতারা বক্তব্য দেন।
