এইচএমপিভি ভাইরাস কি করোনার চেয়েও ভয়াবহ?

  • এইচএমপিভি করোনার মতই একটি শ্বাসযন্ত্রের ভাইরাস 
  • এর লক্ষণ অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ
  • অনেকক্ষেত্রে এই ভাইরাস অন্য রোগ সৃষ্ট করে শরীরে জটিলতা সৃষ্টি করে
আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২৫, ০৪:০০ পিএম

অনেক আশা-প্রত্যাশা নিয়ে নতুন বছরের সূচনা করতে না করতেই নতুন ভাইরাস হিউম্যান মেটানিউমোভাইরাস (এইচএমপিভি) আতঙ্কে চীনসহ বেশ কিছু দেশ। ইতিমধ্যে মালয়েশিয়া, ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশে পাওয়া গেছে আক্রান্তের সংখ্যা।

ভারতেও দুই শিশু আক্রান্ত হয়েছে এই ভাইরাসে। একের পর এক দেশে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় চিন্তার ভাঁজ পড়ছে সারা বিশ্বের চিকিৎসকদের। 

এইচএমপিভি কি করোনার চেয়েও ভয়াবহ?

গত বছরের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে চীনে দ্য হিউম্যান মেটানিউমোভাইরাসের (এইচএমপিভি) প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। যা নিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকেই স্বাস্থ্য সংকটের উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। তবে চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশ্বস্ত করেছেন, এইচএমপিভি ভাইরাস বড় কোনো হুমকি নয়। যদিও সংক্রমণ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে চীনসহ বিভিন্ন দেশের রোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো।

চীনা বিশেষজ্ঞরা বলেছেন এইচএমপিভি নতুন কোনো হুমকি নয়। চীনা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের ভাইরোলজি ইনস্টিটিউটের গবেষক ঝেং লিশু বলেন, এইচএমপিভি একটি সাধারণ ভাইরাস যা ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও বৃদ্ধির হার কম এবং অস্পষ্ট লক্ষণের কারণে বিজ্ঞানীরা প্রায় দুই দশক আগে প্রথমবারের মতো এইচএমপিভি ভাইরাস শনাক্ত করতে পেরেছেন।

তবে বয়স্কদের তুলনায় শিশু ও নবজাতকদের এই ভাইরাসে ঝুঁকি বেশি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এইচএমপিভি আর করোনা কি একই?

হিউম্যান মেটাপনিউমোভাইরাস (HMPV) করোনার মতই একটি শ্বাসযন্ত্রের ভাইরাস যা সব বয়সের মানুষকে প্রভাবিত করে, প্রায়শই অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রের অসুস্থতার মতো উপসর্গ সৃষ্টি করে।

সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) অনুসারে, এইচএমপিভি শ্বাসযন্ত্রের রোগ সৃষ্টি করতে পারে এবং সহজেই ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

যদিও এটি ২০০১ সালে আবিষ্কৃত হয়েছিল (সিডিসি অনুসারে) এটি এখন উচ্চ এবং নিম্ন শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য ভাইরাস। লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে কাশি, জ্বর, নাক বন্ধ হওয়া এবং শ্বাসকষ্ট।

লক্ষণ ও উপসর্গ

হিউম্যান মেটাপনিউমোভাইরাসে (HMPV) লক্ষণ অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ যেমন করোনা, ইনফ্লুয়েঞ্জার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এই রোগের সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে কাশি, জ্বর, নাক বন্ধ, শ্বাসকষ্ট, গলা ব্যাথা, ফুসকুড়ি ইত্যাদি।

তবে শিশু, বয়স্ক বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল তাদের ক্ষেত্রে অনেকসময় এই ভাইরাস অন্য রোগ সৃষ্ট করে শরীরে জটিলতা সৃষ্টি করে। যেমন, ব্রঙ্কিওলাইটিস, ব্রংকাইটিস, নিউমোনিয়া, হাঁপানি বা সিওপিডি ফ্লেয়ার আপ, কানের সংক্রমণ (ওটিটিস মিডিয়া)।

এইচএমপিভির কি ভ্যাকসিন আছে?

হিউম্যান মেটানিউমোভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য কোনও টিকা এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। অন্যদিকে এতে সংক্রমিত হলে চিকিৎসার জন্য ওষুধও নেই। 

এই ভাইরাস প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাগুলির মধ্যে ঘন ঘন হাত ধোয়া, অসুস্থ ব্যক্তিদের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এড়ানো এবং শ্বাসযন্ত্রের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিরোধে করণীয়

বর্তমানে হিউম্যান মেটানিউমোভাইরাসের সংক্রমণের কোন টিকা বা সঠিক চিকিৎসা না থাকায় স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুষ্টিকর খাবার খেলে, পর্যাপ্ত ঘুমোলে ও শরীরচর্চা করলে একজনের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ে। এছাড়া…

১. সাধারণত হাঁচি কাশির মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায়। এছাড়া সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলেও ছড়াতে পারে। তাই নিয়মিত হাত ধুতে হবে হ্য়ান্ড স্যানিটাইজার বা সাবান দিয়ে। হাত না ধুয়ে নাকে, মুখে হাত দেওয়া যাবে না।

২. বাইরে বেরোলে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। হাঁচি, কাশির সময় মুখ ঢেকে নিতে হবে।

৩. বাচ্চাদের সর্দিকাশি হলে তাদের কিছুদিন স্কুলে না পাঠানোই ভালো। এতে অন্য বাচ্চারাও অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

৪. প্রচণ্ড জ্বর, শ্বাসকষ্ট, তীব্র কাশির মতো সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে।

৫. চিকিৎসকের কথায়, মূলত আপার ও লোয়ার রেসপিরেটরি ট্র্যাক্টে (অর্থাৎ শ্বাসনালীর উর্দ্ধাংশ ও নিম্নাংশে) সংক্রমণ ছড়ায় HMPV ভাইরাস। কিন্তু কিছুক্ষেত্রে ফুসফুসেও পৌঁছে যেতে পারে এই ভাইরাস। তাই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা হলে ফেলে না রাখাই ভালো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত