খুঁড়িয়ে চলছে তৃতীয় লিঙ্গের আবাসন কেন্দ্র

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৫, ১২:০৬ এএম

অযত্ন আর অবহেলায় খুঁড়িয়ে চলছে শেরপুরের তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) জনগোষ্ঠীদের একমাত্র আবাসন কেন্দ্রটি। সম্প্রতি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুর্বৃত্তরা হামলা চালায় পল্লীটিতে। এতে আবাসন কেন্দ্রটির অনেক জিনিসপত্র খোয়া গেছে বলে অভিযোগ করেন আবাসস্থলে বসবাসরত হিজড়ারা।

২০২১ সালের ৭ জুন সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের আন্ধারিয়া সুতিরপাড় এলাকায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২ একর জমির ওপর নির্মিত হয় হিজড়াদের এই আবাসন পল্লীটি। এরপর ৪০ জন হিজড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে জমিসহ ঘরবাড়ি বুঝিয়ে দেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক আনারকলি মাহবুব।

সেখানে বসবাসরত হিজড়ারা জানান, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ৪ সেপ্টেম্বর দুর্বৃত্তরা হামলা করে ঘরের আসবাবপত্র গ্যাসের  চুলা টিউবওয়েলসহ সমস্ত কিছু লুট করে নিয়ে যায়। পরে লুট হওয়া মালামাল ফেরত এবং দুর্বৃত্তদের বিচারের দাবিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি, মানববন্ধন ও মিছিল করেও কোনো প্রতিকার পাননি। পরে হিজড়া পল্লীতে হামলার বিষয়টি তৎকালীন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হযরত আলীর নজরে আসলে তিনি দলীয় নেতা কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পুনরায় আবাসন কেন্দ্রটিতে হিজড়াদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে দেন। বর্তমানে অনেকটাই কষ্টে বসবাস করতে হচ্ছে এখানকার হিজড়া জনগোষ্ঠীর।

পল্লীতে বসবাসরত হিজড়া আখি আক্তার বলেন, ‘আমরা ভিক্ষাবৃত্তি নয় কর্মের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে চাই। আমাদের যেন কর্মের সুযোগ করে দেয় সেটাই সরকারের কাছে দাবি জানাই।’

শেরপুর জেলা হিজড়া কল্যাণ সমিতির সভাপতি নিশি সরকার বলেন, ‘জেলা প্রশাসন থেকে আমাদের আবাসনের ব্যবস্থা  করে দিলেও ৪ সেপ্টেম্বর দুর্বৃত্তদের হামলার পর প্রশাসন কোন খোঁজ খবর নেয় নাই। বিএনপি নেতা হযরত আলী অভিভাবকের দায়িত্ব নিয়ে পুনরায় আমাদের আবাসন ফিরিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু এক সময় আমরা সরকারি যে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা পেতাম এখন আর পাচ্ছি না। আমাদের দাবি সরকার যেন আমাদের পুনরায় সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করেন।’

শেরপুর জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী বলেন, ‘হিজড়া পল্লীতে দুর্বৃত্তদের হামলার খবরটি শোনার পর দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তাদের পুনরায় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেছি। আসবাবপত্র কিনে এবং নগর টাকাও দিয়েছি। বর্তমান অন্তর্র্বর্তী সরকারের উচিত তাদের স্থায়ী কর্মের ব্যবস্থা করে দেওয়া।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ভূঁইয়া বলেন, ‘আবাসন কেন্দ্রটি নানান সমস্যায় জর্জরিত। এটি প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তৃতীয় লিঙ্গের কেউ যদি সমস্যাগুলো লিখিতভাবে জানায় তাহলে প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত