টানা চার ম্যাচ হারার পরও ঢাকার ভাগ্য বদলায়নি। সাব্বির রহমানের বিধ্বংসী ৮২ রানের ইনিংসেও জয়ের দেখা পায়নি ঢাকা ক্যাপিটালস। চিটাগং কিংসের ব্যাটিং দৃঢ়তায় সিলেটে নিজেদের টানা পঞ্চম পরাজয়ের মুখ দেখেছে দলটি।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ১৭৭ রানের লক্ষ্যও কোনো চ্যালেঞ্জ ছিল না চিটাগং কিংসের জন্য। উসমান খান ও গ্রাহাম ক্লার্কদের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৭ উইকেট হাতে রেখেই ম্যাচ শেষ করে তারা। ঢাকার হয়ে সাব্বিরের ফেরার বার্তাও ম্লান হয়ে গেল বোলিং ব্যর্থতায়।
১৭৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় চিটাগং দারুণ শুরু করে। ওপেনিং জুটিতে উসমান খান ও পারভেজ হোসেন ইমন ৫৫ রান যোগ করেন। তবে পাওয়ার প্লে শেষেই ১৭ রান করা ইমন ফিরে যান ফারমানুল্লাহ শাফির বলে স্টিফেন এস্কিনাজির গ্লাভসে ক্যাচ দিয়ে।
উসমান নিজের দারুণ ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। নাজমুল ইসলামের এক ওভারে দুই ছক্কা মেরে ২৫ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন পাকিস্তানি এই ব্যাটার। তবে মুস্তাফিজুর রহমানের বলে বাউন্ডারিতে অপুকে ক্যাচ দিয়ে থেমে যান তিনি। তার ৫৫ রানের ইনিংসে ছিল ৩ চার ও ৫ ছক্কা।
এরপর ক্লার্ক ও মোহাম্মদ মিঠুনের জুটিতে এগিয়ে যেতে থাকে চিটাগং। ক্লার্ক ৩৯ রান করে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের বলে আউট হলেও মিঠুন অপরাজিত থেকে ম্যাচ শেষ করেন। ৩৩ রান করা মিঠুনের সঙ্গে ৩০ রানে অপরাজিত ছিলেন শামীম হোসেন পাটোয়ারি।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ঢাকার শুরুটা ছিল হতাশাজনক। দুই ম্যাচের জন্য দলে আসা জেসন রয় এক রানে আউট হন। এরপর এস্কিনাজি ও শাহাদাত হোসেন দিপু ব্যর্থ হলে ৬৬ রানে ৩ উইকেট হারায় ঢাকা।
সেখান থেকে দলকে উদ্ধার করেন তানজিদ হাসান তামিম ও সাব্বির রহমান। তানজিদ ৪৮ বলে ৫৪ রান করলেও ইনিংসটি ছিল ধীরগতির। অন্যদিকে সাব্বির ছিলেন ভয়ঙ্কর। এক মৌসুম পর বিপিএলে ফিরে ২২ বলে ফিফটি করেন সাব্বির। শেষ পর্যন্ত ৯ ছক্কা ও ৩ চারে ৩৩ বলে অপরাজিত ৮২ রান করেন তিনি।
তবে সাব্বির ছাড়া অন্য কেউ দ্রুত রান তুলতে না পারায় ১৭৭ রানেই থামে ঢাকার ইনিংস। চিটাগংয়ের হয়ে পেসার খালেদ আহমেদ ২১ রানে ৩ উইকেট নেন।
পাঁচ ম্যাচে টানা হার এখন ঢাকার জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ। সাব্বিরের ইনিংস যতই আলো ছড়াক, দলের বোলিং ব্যর্থতা তাদের জয়বঞ্চিত রাখছে। বিশেষ করে মুস্তাফিজুর রহমান ছাড়া ঢাকার কোনো বোলারই নিয়মিত সাফল্য এনে দিতে পারছেন না।
পয়েন্ট তালিকার তলানিতে থাকা ঢাকার সামনে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ। তবে দলের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান না করলে টুর্নামেন্টে তাদের পথ আরও কঠিন হয়ে যাবে।
তামিম-হেলস বাকবিতণ্ডা, কি ছিল মূল ঘটনা
বৃথা গেল সাব্বির ঝড়, কিংসের বড় জয়