হাসিনাকে ফেরাতে দিল্লির জবাবের অপেক্ষা করবে ঢাকা

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৫, ০৫:৪৪ এএম

ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ফেরত চেয়ে দেশটির সরকারকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ। এই চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও এখনো জবাব দেয়নি দিল্লি। তবে চিঠির জবাব পেতে আরও অপেক্ষা করবে ঢাকা।

গতকাল বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র মোহাম্মদ রফিকুল আলম সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

সরকারের পক্ষ থেকে তাগিদপত্র দেওয়ার প্রশ্নে মুখপাত্র রফিকুল আলম বলেন, ‘কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অনেক দুর্বোধ্যতা আছে। এর মধ্যে সবকিছুর ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট উত্তর হয় না। আমরা আমাদের অনুরোধ জানিয়েছি, আমরা ফেরত চেয়েছি। আমরা ভারতের উত্তরের জন্য অপেক্ষা করব। এর মাঝখানে কী হবে বা এর কূটনৈতিক রীতিনীতি কীশ্ব এটা আপনাদের ব্যাখ্যার জন্য অবারিত, কূটনীতির ধরাবাঁধা অনেক কিছু থাকে না। এটা এ রকম একটা পরিস্থিতি।’ ভারতের কাছে শেখ হাসিনার স্ট্যাটাস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানতে চেয়েছে কি নাশ্ব এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ফেরত চাওয়ার সঙ্গে তার স্ট্যাটাস জানতে চাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।

বিভিন্ন সময় গুম ও জুলাই বিপ্লবে গণহত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ৯৭ জনের পাসপোর্ট বাতিল করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

সরকার যে শেখ হাসিনার পাসপোর্ট বাতিল করেছে ভারত তা জানে কি নাশ্ব জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘যখন একটা পাসপোর্ট বাতিল করা হয়, তখন এটা সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে সব দেশকে জানিয়ে দেওয়া হয় বাংলাদেশের এই পাসপোর্টগুলো বাতিল করা হয়েছে। এটা সাধারণ প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়াটিতে বিষয়টি যাবে।’

সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভারতকে জানানো হয়েছে কি নাশ্ব জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটার জন্য আমাকে একটু সময় নিতে হবে (তথ্য নেই)।’

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গণহত্যা, গত ১৬ বছরে গুম-ক্রসফায়ার, পিলখানা হত্যাকাণ্ড ও শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এসেছে। শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ট্রাইব্যুনাল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি তাদের গ্রেপ্তার করে হাজির করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতের কাছে ‘নোট ভারভাল’ পাঠায়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশ এবং চীন ২০২৫ সালে তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করতে চলেছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর আমন্ত্রণে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন ২০ থেকে ২৪ জানুয়ারি বেইজিং সফর করবেন। এ সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের সূচনা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এই সফরে বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা প্রণয়নকল্পে দুদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি কৃষি, শিক্ষা, অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, রোহিঙ্গাসংকটের টেকসই সমাধান প্রভৃতি ক্ষেত্রে চলমান সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে।’

রফিকুল আলম বলেন, গত আগস্ট মাসে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর হিসেবে এ সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও গভীর করার লক্ষ্যে এ সফর একটি বড় সুযোগ।

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যদিও এই বাণিজ্য ভারসাম্য বাংলাদেশের পক্ষে অনুকূল নয়। এই সফরে বাণিজ্য ভারসাম্য পুনর্গঠনের পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।’

তিনি জানান, চীন বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য কৌশলগত অংশীদার, অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক ও গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক বহুমাত্রিক।

ভারতীয় জেলেদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান : বাংলাদেশে আটক ভারতীয় জেলেদের শারীরিক নির্যাতনের যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন বলে আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ।

গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, ভারতীয় জেলেদের শারীরিক নির্যাতনসহ অযৌক্তিক মন্তব্য এবং বানোয়াট অভিযোগের জন্য বাংলাদেশ চরম ও গভীর হতাশা প্রকাশ করে।

এতে বলা হয়, কর্র্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, কোনো অবস্থাতেই আটক জেলেদের শারীরিক নির্যাতন করা হয়নি। বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা হয়েছে এবং দেখা গেছে যে এ ধরনের দুর্ব্যবহার বা শারীরিক নির্যাতনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ উল্লেখ করতে চায় যে আটক ৯৫ জন ভারতীয় জেলে/ক্রু সদস্যকে বাংলাদেশে অবস্থানকালে যথাযথ আচরণ করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসারে, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের প্রতিনিধিদের যথাযথভাবে কনস্যুলার অ্যাকসেস দেওয়া হয়েছিল, যারা আটকের সময় জেলেদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত