বিশ্বকাপের টিকেট পেতে জ্যোতির পরিষ্কার বার্তা 'সিরিজ জিততে হবে'

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:১৮ পিএম

মেয়েদের প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরি নিগার সুলতানা জ্যোতির। বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক শনিবার সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন আল্লাহ যেন তার জন্যই এই কীর্তি গড়ার সুযোগটা রেখে দিয়েছিলেন! ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ৩টি করে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি খেলতে ক্যারিবিয়ানে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। তার আগে সংবাদ সম্মেলনে এসে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন জ্যোতি। সেখানেই প্রথমবারের মত চালু হওয়া মেয়েদের প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সফরের প্রস্তুতি নিয়ে জানাতে জ্যোতি বলেছেন তার এই কীর্তির পেছনের গল্প।

ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের মেয়েদের মধ্যে প্রথম সেঞ্চুরি ফারজানা হক পিঙ্কির। গত জুলাইতে ভারতের বিপক্ষে যে ম্যাচটায় পিঙ্কি সেঞ্চুরি করলেন, সেই ম্যাচটা হয়েছিল টাই। সংবাদ সম্মেলনে পিঙ্কির সঙ্গে এসেছিলেন জ্যোতিও। জানিয়েছিলেন প্রথম সেঞ্চুরি নিয়ে দুজনের খুনসুটির কথা, সেঞ্চুরি পিঙ্কি করলেও প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিটা করবেন জ্যোতি এমন একটা প্রতিজ্ঞার কথাও শুনিয়েছিলেন! সেই কীর্তি এখনো কেউ গড়েনি, তবে মেয়েদের প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরিটা জ্যোতি করেছেন, যে রেকর্ডটা হতে হতেও হয়নি পিঙ্কির, 'আমার জন্য বড় একটা অর্জন। আমার আগেও অনেক ক্রিকেটার ছিল যারা এটা করতে পারত। আমরা তো প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং করতে পারিনি। দুই মাঠে খেলা হচ্ছিল। নব্বইর ঘরে কেউ কেউ আউট হয়েছে, ৮৮ করেছে অনেকে। পিঙ্কি আপু তো আমাদের বিপক্ষ দলে খেলছিল, সেও ৮৮ করে (আসলে ৮৬) করে আউট হয়ে যাবার পর মনে হয়েছে আল্লাহ এখনো সুযোগ রেখে দিয়েছেন। (সেঞ্চুরি) হয়তো বা হলেও হতে পারে। আমি আমার প্রসেসে ছিলাম।'

প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবার খেলার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জ্যোতি বলেছেন, ‘প্রথমবারের মত ৩ দিনের ম্যাচ। বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচ অবশ্যই অনেক সাহায্য করে প্রস্তুতিতে, লম্বা ইনিংস খেলতে অভ্যস্ত করে। রাজশাহীর উইকেট অনেক ব্যাটিং সহায়ক। সহজ ছিল না কারণ লাল বলে খেলার অভিজ্ঞতা আমার একদমই ছিল না। সবশেষ যখন একটা দুই দিনের ম্যাচ হয়েছিল তখন আমি খেলিনি, দেশের বাইরে ছিলাম। এইবার আমার জন্য, সব ক্রিকেটারের জন্য একটা শিক্ষা ছিল এই ম্যাচগুলো। নতুন বলে খেলা একটু কঠিন, বিশেষ করে লাল বলে। সেসব সামলে লম্বা সময় ধরে সারাদিন ব্যাটিং করা, আমাদের এই অভ্যাস নাই বললেই চলে। সেসব অভ্যাস গড়তে এই ম্যাচগুলো আমাদের খুব সাহায্য করেছে। সবাই অনেক উপভোগ করেছে। বোলারদেরও অনেক ওভার বল করার অভিজ্ঞতা হয়েছে। তাদের ২০+ ওভার থেকে ৩০ ওভার বল করতে হয়েছে। সবাই মাঠে খুবই এফোর্ট দিয়েছে।'

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ভালো করার সঙ্গে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার একটা যোগসূত্র আছে। যদিও কাজটা কঠিন, ক্যারিবিয়দের হারাতে হবে অন্তত ২ ম্যাচে । জ্যোতি আশা রাখছেন ভাল কিছুর, ‘আমাদের লক্ষ্য তো একটাই। ওখানে যেন ৪টা পয়েন্ট নিতে পারি, বিশ্বকাপে যেন সরাসরি কোয়ালিফাই করতে পারি। তো আমাদের আসলে কোনো কনফিউশন নেই। ওয়ানডে দলটা সবশেষ সিরিজে যেমন ভালো ক্রিকেট খেলেছে, আমি বলব বেশ দাপুটে ক্রিকেটই খেলেছে। অনেকের মাথায় অনেক সমীকরণ থাকবে। তবে আমি আমার দলকে পরিষ্কার বার্তা দিয়েছি, ওখানে ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে এবং সিরিজ জিততে হবে। পরের হিসেব পরে। ম্যাচ জিতলে পরের সমীকরণ আসবে। তাই ম্যাচ জেতার দিকেই আমাদের মনোযোগ।‘ 

সপ্তম শ্রেণীর পাঠ্যবইতে ‘স্পোর্টস হিরো’ হিসেবে জ্যোতির নামটা যোগ হয়েছে। তবে এই নিয়ে জ্যোতির চেয়ে তার মায়ের আনন্দই বেশি, ‘না! আমি... (জানতাম না)। গতকাল আম্মু আমাকে বলতেছিল। হয়তো কারও কাছ থেকে শুনেছে। ভালো লাগার বিষয় অবশ্যই। তবে আমার থেকে আমার পরিবার বেশি খুশি এই বিষয়ে।‘

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত