মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা

হাসিনাকে উৎখাতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নেই

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:৩৬ এএম

শেখ  হাসিনার পতনে যুক্তরাষ্ট্রের কলকাঠি নাড়ার অভিযোগ আরও একবার উড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান। তিনি দাবি করেছেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন এবং অন্যান্য ঘটনাপ্রবাহে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো হাত ছিল না। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনার পতনে যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো ধরনের ভূমিকা নেই, সেটা ভারতীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বিশ্বাস করেন।

ভারত সফর থেকে ফিরে স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে হোয়াইট হাউজের রুজভেল্ট রুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সুলিভান এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বাইডেন প্রশাসনের একটি উল্লেখযোগ্য সফলতা মার্কিন-ভারত সম্পর্ক, যা উভয় দেশের মধ্যে আস্থা এবং কৌশলগত বিনিয়োগের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। সুলিভানকে প্রশ্ন করা হয়, মার্কিন ‘ডিপ স্টেট’ ভারতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ তুলেছে ভারতে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি এই প্রেক্ষাপটে বাইডেন প্রশাসনের অধীনে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতি নিয়ে তার মন্তব্য কী। গতকাল ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্থান টাইমসে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাইডেন প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ককে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে তুলে ধরেন সুলিভান। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ভারতীয় এক সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আমেরিকান নাগরিককে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ওঠার পর নয়াদিল্লি এবং ওয়াশিংটনের সম্পর্কে কিছুটা উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়টি উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট ঘটনার পূর্ণাঙ্গ জবাবদিহি অব্যাহত থাকার কথা জানিয়েছেন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। তিনি বলেছেন, ২০ জানুয়ারি বাইডেন প্রশাসনের দায়িত্ব শেষ হওয়ার পরও ওই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। দুই দেশ এ বিষয়ে অগ্রগতি করেছে, তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গভীরতাই প্রকাশ করে।

তবে মার্কিন মুলুকে ক্ষমতার পরিবর্তনে উভয় দেশের কৌশলগত বিনিয়োগে পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করেন সুলিভান। সম্প্রতি ভারত সফর সম্পর্কে তার কাছে বিভিন্ন ইস্যু সম্পর্কে জানতে চায় হিন্দুস্তান টাইমস। গুরপতবন্ত সিং পান্নুন হত্যা, ধনকুবের গৌতম অদানি এবং বাংলাদেশের ক্ষমতার পালাবদল উল্লেখ করে সংবাদমাধ্যমটি জানতে চেয়েছে, মোদি সরকারের অভিযোগ হচ্ছে এসব ঘটনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ডিপ স্টেট’ জড়িত রয়েছে। ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) দাবি, ভারতকে অস্থিতিশীল করছে ‘ডিপ স্টেট’। এ বিষয়ে সুলিভান বলেন, ‘আমি বিনয়ের সঙ্গে এসব ধারণা প্রত্যাখ্যান করছি। কেননা আমি নিজেই ডিপ স্টেটের প্রতিনিধিত্ব করি।’

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘ ঢাকায় ঘটে যাওয়া অভ্যুত্থানের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার বিষয়টি হাস্যকর। ভারতের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপের ভিত্তিতে আমি বলতে পারি তারাও এ কথা বিশ্বাস করেন যে ঢাকার ক্ষমতা পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো হাত নেই।’

এদিকে ভারতের বিদায়ী মার্কিন রাষ্ট্রদূত এরিক গার্সেটি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাইডেন এবং আগত ট্রাম্প প্রশাসন উভয়ই বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত গতিশীল পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার গুরুত্ব ব্যক্ত করেছে। গার্সেটি শুক্রবার কলকাতায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘গত সপ্তাহে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারা দেখা করেছিলেন এবং বাংলাদেশ প্রসঙ্গ সেই কথোপকথনের একটি প্রধান বিষয় ছিল। আমরা কীভাবে বাংলাদেশকে সর্বোত্তমভাবে সাহায্য করতে পারি? কীভাবে বাংলাদেশ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নির্বাচন সংঘটিত করতে পারে এবং বাংলাদেশের সবাইকে রক্ষা করা যেতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়। আমরা সবাই একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ, সহনশীল বাংলাদেশ দেখতে চাই। এ বিষয়ে ভারত, আমেরিকা উভয়েরই স্বার্থ জড়িত। সুতরাং, আমি মনে করি, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতকে এ বিষয়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে হবে।’

যেকোনো রাজনৈতিক পালাবদলই কঠিন এবং তা সব সময় ভালো হবেই এমনটা বলা যায় না বলে গার্সেটি মন্তব্য করেন। তার মতে, বিষয়টি  ইতিবাচক হতে পারে যদি বিশ্বের অন্যান্য সম্প্রদায় তা গ্রহণ করে এবং দেখে যে, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি মিল রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত