জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ে লিটনের 'বিস্ফোরণ'

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২৫, ০৯:১৭ পিএম

মাঠে আসার আগেই দুঃসংবাদটা পেয়েছেন লিটন দাস। ঘোষণাটা হয়তো অনুমিতই ছিল তার কাছে। ওয়ানডে সংস্করণে গত বছরে তার ফর্ম দুঃস্বপ্নকেও হার মানাবে, ৫ ম্যাচে করেছেন ৬ রান। তবুও বাংলাদেশে তো কত কিছুই হয়, কেউ টেস্টে ভালো করে টি-টোয়েন্টি দলে সুযোগ পায় কেউ আবার ওয়ানডেতে ভাল করে টেস্টে। দল ঘোষণার আগে বিপিএলে শুক্রবার সিলেটের বিপক্ষে ৭৩ রানের ইনিংসটাকে ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত মনে করে তাকে একটা সুযোগ দেয়া যেতেই পারত।

কিন্তু দেননি জাতীয় নির্বাচকরা। তাকে ছেঁটে ফেলেছেন আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দল থেকে। শুধু বাদই দেননি, প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু বলেছেন লিটন তীব্র রান খরার ভুগছেন। তাকে অনেকবার সুযোগ দেয়া হয়েছে। প্রতিপক্ষের বিশ্লেষকরা বের করে ফেলেছেন লিটনের দূর্বলতা। ইন্টারনেটের কল্যাণে সিলেটে বসেও ঢাকার সংবাদ সম্মেলনে কে কি বলেছেন সেসব জেনে যেতে এক মুহূর্তও সময় লাগবে না কারো। লিটনও নিশ্চয়ই জেনেছেন। তার প্রতিক্রিয়াতেই কি এই বিস্ফোরণ!

৫৫ বলে ১২৫ রানের অপরাজিত ইনিংস। ৯ চার আর ১০ ছক্কা। ইনিংসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উইকেটে থাকা। লিটনের ব্যাটিং নিয়ে ধারাভাষ্যকারদের উচ্ছসিত প্রশংসা। সেই সঙ্গে বারবার ফিরে আসে তার চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দল থেকে বাদ পড়ার প্রসঙ্গ। যদিও দুবাই আর রাওয়ালপিন্ডিতে গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোতে সিলেটের মাঠের মত চমৎকার ব্যাটিং উইকেট হয়তো থাকবে না। প্রতিপক্ষের বোলারদের নামগুলোও সানজামুল ইসলাম, সোহাগ গাজী আর শফিউল ইসলাম হবে না। এই বোলাররা বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটেই ব্রাত্য হয়ে পড়ার পথে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে যোজন যোজন দূরে। জাসপ্রিত বুমরা, ট্রেন্ট বোল্ট কিংবা হারিস রউফদের বল সামলাতে হবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে। সেই মাপকাঠিতে এই সেঞ্চুরি মূল্যহীন। তবুও ব্যাটিংয়ের সৌন্দর্য্য, নান্দনিকতা, শট বাছাই; সব কিছু মিলিয়ে লিটন খেলেছেন রাজসিক ইনিংস। সানজামুলের বলে ১ রান নিয়ে শুরু, মুখোমুখি হওয়া পরের বলটা ছিল চার। শেষ করলেন শফিউল ইসলামের বলে ছক্কা মেরে। মেহেরবের বলে মেরেছেন ৩ ছক্কা, সাব্বির হোসেন আর শফিউলের ভাগ্য জুটেছে এক জোড়া করে ছয়ের মার। একটা করে মেরেছেন তাসকিন ও সোহাগ গাজীর বলে।

বিপিএলে এবারও সেঞ্চুরির খাতা খুলেছেন বিদেশীরা। উসমান খান, থিসারা পেরেরা, অ্যালেক্স হেলস। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ভেতর প্রথম সেঞ্চুরিটা করলেন সেই লিটনই। শতরানে পৌঁছেছেন শফিউলের বলে বাউন্ডারি মেরে। ৪৫ বলে ১০০ করেছেন,পরের ১০ বলে নিয়েছেন ২৪ রান।

লিটন একাই সেঞ্চুরি করেননি, তার উদ্বোধনী জুটির সঙ্গী তানজিদ হাসান তামিমও পেয়েছেন তিন অংকের রান। দুজনে মিলে ১৯.৩ ওভার খেলেছেন, যোগ করেছেন ২৪১ রান যা বিপিএলের ইতিহাসেরই সর্বোচ্চ রানের উদ্বোধনী জুটি। ঢাকা ক্যাপিটালসের রান ১ উইকেটে ২৫৪ যা সর্বোচ্চ দলীয় ইনিংস। অবাক করার বিষয় এই দলটাই এই ইনিংসের আগ পর্যন্ত কোন ম্যাচ জেতেনি। কেন এমন ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যাওয়া? সেটা কি বাদ পড়ে লিটনের বিস্ফোরণের জের ধরেই!
রাজশাহীর বিপক্ষে ঢাকা আগের ম্যাচে মিরপুরে হেরেছিল ৭ উইকেটে, তাসকিন আহমেদ একাই নিয়েছিলেন ৭ উইকেট। কাল রাজশাহীর বোলারদের মাত্র ১ জনই উইকেট পেয়েছেন, তাও মাত্র ১টি। তাদের বিপক্ষেই ঢাকা গড়ল সর্বোচ্চ দলীয় ইনিংস। বদলাটা ভালই নিয়েছে রাজধানীর বাসিন্দারা, তবে আক্ষেপ এই পারফরম্যান্স এমন সময় এল যখন তাদের শেষ চারে যাবার সম্ভাবনা বড্ড ক্ষীণ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত