১৯৯০ সাল থেকে জেরিন কাশফী রুমা মঞ্চে অভিনয় করছেন। ১৯৯১ সালে সময় নাট্যদলের ‘আসমান তারা শাড়ি’ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে নাটকপাড়ায় পরিচিতি পান। আলোচনায় আসেন। আয়না বিবি চরিত্রটি তাকে মঞ্চের মানুষদের কাছে পরিচয় করিয়ে দেয়। এরপর একে একে মঞ্চ, নৃত্য, টেলিভিশন বিভিন্ন মাধ্যমে হাঁটছেন রুমার সঙ্গে কথা বলেছেন অনন্যা সুগরা
যখন মঞ্চে এলেন
আমি আসলে একটি কর্মশালায় অংশ নিয়েছিলাম সময় সাংস্কৃতিক সংগঠনের। সেই কর্মশালার পর আমি নাট্যদলে যুক্ত হয়েছি। এখন পর্যন্ত সেই নাট্যদলেই রয়েছি। ১৯৯০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সময় নাট্যদলের বিভিন্ন প্রযোজনায় কাজ করে গিয়েছি। সময় প্রযোজিত অসংখ্য পথ নাটক নিয়ে ঢাকা শহরসহ বাংলাদেশের নানা জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছি। আমার অভিনীত উল্লেখযোগ্য পথ নাটকগুলো হলো ‘একটি নবজাতক শিশু ও এবং কিন্তু, এখানে এখনো, জননী বিরাঙ্গনা, গণরায়, মৃত্যুঞ্জয়ী মানুষেরা, লক্ষ প্রাণের মূল্যে, যুদ্ধবাজ, রেফারি।
আলোচিত চরিত্র
আমি চেষ্টা করেছি অভিনীত চরিত্রের আত্মা-সত্তা বৈশিষ্ট্যে একীভূত হয়ে মঞ্চমায়ায় ফুটিয়ে তুলতে। এভাবেই একে একে করেছি আসমান তারা শাড়ী নাটকে আয়না বিবি, বাবা তার্তুফ নাটকে আলমারি, বাজিমাৎ নাটকে ফুলবানু, ভাগের মানুষ নাটকে লাইলী, একাত্তরের ক্ষুধিরাম নাটকে শোভা, শেষ সংলাপ নাটকে মহাতারেমা তথা বেগম সাহেবা, যযাতি নাটকে দেবযানির মতো নাটকগুলোর কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছি।
চরিত্রের মধ্যে আত্মা হয়ে প্রবেশ
আমার স্মৃতি এবং কল্পনার রঙে চরিত্রকে প্রাণে প্রতিষ্ঠা দিই। যেমন ধরেন আয়না বিবিতে প্রেম-বিরহের রসায়ন, আলমারি চরিত্রে ভক্তি-ছলনার টানাপড়েন, ফুলবানু চরিত্রে বিদ্রোহী সত্তা, লাইলী চরিত্রে দিশাহীনতার চূড়ান্তে পৌঁছানো, মহাতারেমা বা বেগম সাহেবা চরিত্রে দাম্ভিকতা মহানুভবতার সূক্ষ রেখা নির্মাণ, শোভা চরিত্রে ক্ষুধিরামের বিশ্বস্ত সহপাঠী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করা, দেবযানির আত্মসম্মান বোধ প্রভৃতির লব্দি ভাবকে মাথায় রেখে একটু একটু করতে করতে আস্ত চরিত্রটাকে এক সময় দাঁড় করিয়ে ফেলা। প্রতিনিয়ত এই চরিত্রগুলোর সঙ্গে আমাকে বসবাস করতে হয়েছে। চরিত্রগুলোর শরীরি ভাষা, ডায়ালগ থ্রোয়িং এগুলো নিয়ে প্রচুর কাজ করতে হয়েছে আমাকে এবং এখনো করে চলেছি।
নাটকের বাইরে
দেশে-বিদেশে নৃত্য নিয়ে প্রচুর কাজ রয়েছে আমার। দলগত কিংবা একক, দেশে কিংবা বিদেশে যখনই নৃত্য-সংগীত পরিবেশন করেছি প্রথমেই দেশ মাতৃকার বন্ধনা এবং তারপর লোকনৃত্য ও কথকনৃত্যের পরিবেশনা করি। আমার এই নৃত্যের চলার পথে সাজু আহমদ, আশরাফ উদ্দীন খান, হুদা ভাই, শামীম আরা নিপা, শিবলী মোহাম্মদ মন্টু ভাইয়ের মতো শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ পেয়েছি, এটা আমার ক্যারিয়ারে সম্পদ।
টেলিভিশন
একজন অভিনেতা নিঃসন্দেহে অভিনয়ের সব প্ল্যাটফর্মে কাজ করবে এটাই সত্য। তবে নিজের কথা যদি বলি তাহলে আমি মঞ্চে কাজ করতেই সবচেয়ে বেশি আনন্দ পাই। আমি টেলিভিশনে খুব বেশি একটা কাজ করিনি। বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেছি, করেছি কিছু বিজ্ঞাপনচিত্রও। তবে ইচ্ছে রয়েছে এই মাধ্যমে একটু জোরালোভাবে কাজ শুরু করব। নাটক প্রযোজনা করার ইচ্ছেও রয়েছে। এর আগেও প্রযোজনা করেছি আমি। তবে অভিনয় আর প্রযোজনাটা হয়তো নিয়মিত হবে।
আগামীর চরিত্রায়ন নিয়ে বলেন, ভাবনায় তার প্রশান্ত এবং দূরদৃষ্টি সপ্ত রঙের রংধনুর মতো আলোক রোশ্নাই রঙ ছড়িয়ে যায়। দূর দিগন্তে চোখ ভাসিয়ে তিনি বললেন, আগামীর প্রযোজনা এবং চরিত্রের প্রসঙ্গে দল যথাসময়ে জানাবে। আপনারা জানবেন। তবে মাই নেম ইজ গহরজান চরিত্রাভিনয়ের মধ্যে দিয়ে উপমহাদেশের আনপ্যারালাল ক্লাসিক্যাল শিল্পী গহরজানকে মঞ্চাভিনয়ে পোট্রেট করা। কারণ, আমার জীবনটা শেষ পর্যন্ত অভিনয় জীবন।
