অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের নেতাকর্মীদের। আড়াই মাস পর পূরণ হচ্ছে নেতৃত্ব শূন্যতা। যে কোনো সময় ঘোষণা আসতে পারে নতুন কমিটির। তবে বিলুপ্ত কমিটির শীর্ষ নেতারাই কি পুনরায় নেতৃত্বে আসছে নাকি নতুন নেতৃত্ব তা নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির এই সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীল একাধিক নেতা জানিয়েছেন ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের কমিটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। হাইকমান্ডের সবুজ সংকেত পেলেই তা ঘোষণা করা হবে।
গত বছর ২১ সেপ্টেম্বর নগরীর পুরাতন চান্দগাঁও এলাকায় একটি টার্ফের আধিপত্য নিয়ে যুবদলের দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষে একজনের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই দিনই চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা হয়। ওই কমিটির সভাপতি ছিলেন মোশাররফ হোসেন দীপ্তি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ শাহেদ। নতুন কমিটিতে তাদের দুজনকেই আবার আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব হিসেবে দেখা গেলেও আশ্চর্যের কিছু থাকবে না। তবে একটি সূত্র বলছে, শিগগির মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হবে। সেখানে সাবেক যুবদল সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হতে পারে। তাই যুবদলের কমিটিতে তাকে না রেখে সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদকে আহ্বায়ক করা হতে পারে। তার সঙ্গে সদস্য সচিব হিসেবে কমিটিতে আসতে পারেন সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশা। নগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি গাজী সিরাজ ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি এইচ এম রাশেদ খানেরও কমিটির মূল দায়িত্বে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, মহানগর যুবদলের নতুন কমিটির নেতৃত্ব নিজেদের বলয়ে রাখার বিষয়ে শুরু থেকেই তৎপর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী চট্টগ্রামের বিএনপি নেতারা। গুরুত্বপূর্ণ পদপ্রত্যাশীরাও জোর লবিংয়ে রয়েছেন এসব নেতার কাছে। বিশেষ করে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মীর হেলাল ও চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের অনুসারীরা এক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়।
কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা যতদূর জেনেছি মহানগর যুবদলের কমিটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যে কোনো সময় তা ঘোষণা হতে পারে। তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে যারা সবসময় মাঠে ছিলেন, হামলা, মামলা আর নির্যাতনের পরও যারা রাজপথে ছিলেন নতুন কমিটিতে তাদের মূল্যায়ন হবে এমনটাই আশা করছেন নেতাকর্মীরা।
সংগঠনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, প্রথমে একটি আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হবে। একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানা কমিটি গঠনের পর সম্মেলনের মাধ্যমে মহানগর যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হবে।
