দাবানলে জ্বলছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেস শহর। ভয়াবহ দাবানলগুলো নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছেন দমকল কর্মীরা। কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না ছড়িয়ে পড়া দাবানল।
আর তাই শহর, ঘরবারি, গাড়ি দাবানলের হাত থেকে রক্ষা করতে ঢেকে ফেলা হয়েছে লাল-গোলাপি গুঁড়ায়।
মূলত ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতেই এই গোলাপি রংয়ের গুঁড়া ছড়ানো হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে লস অ্যাঞ্জেলেসে হাজার হাজার গ্যালন গুঁড়া ছিটানো হয়েছে। খবর বিবিসি
কিন্তু গোলাপি এই গুড়া পদার্থটা কি এবং এটি কিভাবে দাবানলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে?
বিবিসি জানায়, গোলাপি রংয়ের এই উপাদানটির নাম ফস-চেক। পেরিমিটার নামের একটি কোম্পানি এই পদার্থ বিক্রি করে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ১৯৬৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফস-চেকের ব্যবহার হয়ে আসছে। এছাড়া ক্যালিফোর্নিয়ার বন ও অগ্নিনিরাপত্তা বিভাগও অনেকদিন ধরে আগুন নেভাতে এই পদার্থ ব্যবহার করছে।
বিশ্বে আগুন নেভানোর কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত উপাদানগুলোর একটি এই ফস-চেক।
ফস-চেক মূলত আগুনের চারপাশে স্প্রে করা হয়, যাতে এটি আগুনের গতিপ্রবাহ বন্ধ করতে পারে। এর উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে ৮০ শতাংশ পানি, ১৪ শতাংশ সারজাতীয় লবণ এবং ৬ শতাংশ রঙিন ও ক্ষয় প্রতিরোধী উপাদান। এটি জ্বালানির তাপমাত্রা হ্রাস করে এবং অক্সিজেন সরবরাহ কমিয়ে দেয়।
তবে এই ফস-চেকের এই গুঁড়া যত শুকাবে, পুরোপুরি পরিষ্কার করা ততই কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। আর তাই পেরিমিটার কোম্পানির পরামর্শ, যেখান ফস-চেক দেওয়া হবে যত দ্রুত সম্ভব পরিষ্কার করা উচিত। ছোট কোনো জায়গা থেকে গরম পানি ও অল্প ডিটারজেন্ট ব্যবহার করে এটা উঠিয়ে ফেলা যাবে। আর পৃষ্ঠটি বড় হলে পানির উচ্চচাপ ব্যবহার করে পরিষ্কার করতে হবে।
তবে ফস-চেকের ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকদের মতে, এটা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এতে থাকা রাসায়নিক উপাদান কার্যকর নয়। জলাশয়ের মাছ মেরে ফেলে। যুক্তরাষ্ট্রের বন পরিষেবা জলপথ ও বিপন্ন প্রজাতির আবাসস্থলের মতো পরিবেশগত সংবেদনশীল এলাকায় আগুন নেভানোর কাজে ফস-চেকের ব্যবহার বাধ্যতামূলকভাবে নিষিদ্ধ করেছে। তবে মানুষের জীবন কিংবা নিরাপত্তা হুমকিতে পড়লে এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে না।
