বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল পুনরুজ্জীবনের আবেদনের ওপর ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। গতকাল মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বেঞ্চে দ্বিতীয় কার্যদিবসে শুনানি হয়। আদালতে জামায়াতের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শুনানি শুরু হয়।
২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতকে নিবন্ধন দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে এ নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, জাকের পার্টি, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানসহ ২৫ রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি। ওই বছরের ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট জামায়াতকে দেওয়া নিবন্ধনের বৈধতা প্রশ্নে রুল দেয়। ২০১৩ সালের ১ আগস্ট সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের একটি বৃহত্তর বেঞ্চ। এ রায় স্থগিত চেয়ে জামায়াতের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতে আবেদন করলে একই বছরের ৫ আগস্ট সেটি খারিজ হয়ে যায়। পরে ওই বছরের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে জামায়াত। ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর আপিল বিভাগ জামায়াতের করা আপিল খারিজ করে রায় দিলে হাইকোর্টের রায়টি বহাল থাকে। আপিলের শুনানিতে জামায়াতের পক্ষের আইনজীবী অনুপস্থিত থাকায় আদেশে সর্বোচ্চ আদালত উল্লেখ করেন ‘ডিসমিসড ফর ডিফল্ট’। এরপর জামায়াতের পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির মামলাটি পুনরুজ্জীবনে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেন। চেম্বার আদালতে আবেদনটি তোলা হলে আদালত আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠায়।
