পাকিস্তানে স্বাস্থ্যসেবার বেহাল অবস্থা

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২৫, ০৬:৩৬ পিএম

পাকিস্তান সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার (ইউএইচসি) জন্য প্রয়োজনীয় মান অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যৌথভাবে প্রস্তুত করা ২০২৪ সালের একটি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন অনুসারে, দেশটি ৮০ শতাংশ বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পিছিয়ে রয়েছে।খবর পাকিস্তানি গণমাধ্যম বিজনেস রেকর্ডারের।

স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার জন্য দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে গত বছরের ফলাফল পরিমাপ করা হয়েছে। সেই দুটি বিষয় হলো—প্রয়োজনীয় পরিষেবা সরবরাহ এবং আর্থিক সুরক্ষা।

স্বাস্থ্যসেবার মানের দিক থেকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ অঞ্চলে ৬৩.৯ শতাংশ, পাঞ্জাব ৫৫.৫ শতাংশ, খাইবার পাখতুনখোয়া ৫১ শতাংশ, সিন্ধু ৫০.৭ শতাংশ এবং বেলুচিস্তান ৩৮.৪ শতাংশ।

এই পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশের অন্যান্য অংশের তুলনায় বেলুচিস্তান এবং গিলগিট-বালতিস্তানে গুরুতর বৈষম্য রয়েছে। যদিও স্বাস্থ্যসেবা ক্রমবর্ধমান একটি মৌলিক মানবাধিকার হিসাবে স্বীকৃত, কিন্তু এটি আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রক্রিয়ার সাথেও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।

তবে বর্তমানে পাঞ্জাবে কিছু ধনী উদ্যোক্তা সরকারি হাসপাতালে ভালো মানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে অর্থায়ন করছেন এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীদের বিনামূল্যে ওষুধ ও খাবার সরবরাহ করছেন। এটি অনেকটা সিন্ধু সরকারের পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ পদক্ষেপের মতো।

পাকিস্তানে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনার অধীনে বেশ কিছু জনহিতৈষী মানুষ দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে আর্থিক অনুদান দেয়। তারা সরকারের সঙ্গে মিলেমিশে সরকারি হাসপাতালগুলোর তত্ত্বাবধানও করে, যার মাধ্যমে মানুষ বিনামূল্যে মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা পায়। অন্যান্য প্রদেশগুলোও এই মডেলটি গ্রহণ করে তাদের জনগণকে আরও ভালোভাবে স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারে।

তবে সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি উপলব্ধি করার সময় এসেছে যে, সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ শুধুমাত্র ব্যক্তি পর্যায়ের উপকারে আসে না; বরং এটি জাতীয় পর্যায়েও অবদান রাখে। তাই পাকিস্তানের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বোঝা অর্ধেকেরও বেশি আন্তঃক্ষেত্রীয় নীতি এবং হস্তক্ষেপের মাধ্যমে মোকাবেলা করা যেতে পারে। কিন্তু কেন সেই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না সেটিই বোধগম্য নয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত