সাগরিকায় ডুবল শাকিব খানের ঢাকা

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২৫, ১২:৫০ এএম

তারকাদের নিয়ে থিম সং, পাঁচতারকা হোটেলে বিশাল আয়োজন...মাঠের বাইরে ঢাকা ক্যাপিটালস যতটা বর্ণিল, ২২ গজে ততটাই বিবর্ণ। ঢাকাই ছবির নায়ক শাকিব খান যখন ঢাকা ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা নেন, তখন থেকেই শোরগোল। শাহরুখ খানের কলকাতা নাইট রাইডার্সের সঙ্গে খেলার মতো উচ্চাভিলাসী কথাও শোনা গিয়েছিল ঢাকার কর্তা-ব্যক্তিদের মুখে। তবে সেসব হাওয়াই কথা ভেসে গেছে হাওয়ায় হাওয়ায়। সাগরিকায় ডুবে গেছে ঢাকার আশারতরী। ফরচুন বরিশালের কাছে ৮ উইকেটে হেরে গেছে ঢাকা। তাতেই শেষ হয়ে গেছে এবারের বিপিএলে ঢাকার শেষচারে খেলার সম্ভাবনা। ৮ ম্যাচে ৭ হার ঢাকার, হাতে আরও ৪ ম্যাচ থাকলেও শেষচারে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।

আগের ম্যাচেই দুর্বার রাজশাহীকে রেকর্ডের মালা পরিয়ে জিতেছিল ঢাকা। বিপিএলের সর্বোচ্চ দলীয় ইনিংস, দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরি...কত যে কীর্তি। তবে সেটা দুর্বল রাজশাহীর এমন সব বোলারদের বিপক্ষে, যাদের এনসিএল টি-২০-তেও দল পেতে কষ্ট হয়। বোলিং আক্রমণ একটু ধারালো হতেই লিটন দেখা দেন স্বমূর্তিতে। তার সেঞ্চুরি দেখে যারা চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে দলে না রাখায় নির্বাচকদের একহাত নিয়েছিলেন, তারাই বোধহয় রিপন ম-লের বলে লিটনকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে দেখে বলেছেন ‘ঠিক হয়েছে’। ১৩ বলে ১৭ রানের ইনিংস, দুটো চার। ঠিক লিটনের মতোই। তানজিদ তামিম আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করেও আলোচনায় জায়গা পাননি। কাল লড়াকু হাফসেঞ্চুরি করেছেন, তার ৪৪ বলে ৬২ রানের ইনিংসটা না থাকলে ঢাকার রান ১০০-ও হয় না! মুনিম শাহরিয়ার, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতরা কেন জাতীয় দলে নেই সেই প্রশ্নের উত্তর তারাই দিয়েছেন। সিলেটের উইকেট ছিল বোলারদের দুঃস্বপ্ন। চট্টগ্রামে উইকেট থেকে স্পিনাররা একটু সহায়তা পেয়েছেন। তাতেই তানভির ইসলামের বল খেলতে খাবি খেয়েছেন এরা। বরিশালের ফিল্ডাররা বেশ কিছু সহজ ক্যাচ ফেলেছেন। হাতছাড়া করেছেন রানআউটের সুযোগও। এত কিছুর পরেও ফরমানউল্লাহ শাফির ১৬ বলে ২২ রানে ঢাকার ইনিংসটা শেষ হয়েছে ১৩৯ রানে, ১৯.৩ ওভারে। জোড়া শিকার ফাহিম আশরাফের, ৩ উইকেট নিয়েছেন তানভীর।

১২০ বলে ১৪০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নাজমুল হোসেন শান্ত শুরুতেই আউট হয়ে দলকে একটা চাপে ফেলে দিয়েছিলেন। অভিজ্ঞ তামিম ইকবাল ও দাউইদ মালান জানতেন, এই উইকেটে তাড়াহুড়ো করার কোনো দরকার নেই। আস্কিং রেট এমন বেশিও নয় যে খুব চালিয়ে খেলতে হবে। একটু সময় নিয়ে বুঝেশুনে খেলেছেন দুজনে। তাদের ৮০ বলে ১১৭ রানের জুটিতেই ম্যাচ কার্যত শেষ। ৬ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায় ৪৮ বলে ৬১ রান করে তামিম আউট হয়েছেন দলীয় ১২৫ রানে, জয় যখন মাত্র ১৫ রান দূরে। এরপর জাহানদাদ খান নেমে ৪ বলে ২ ছক্কায় খেল খতম করে দিয়েছেন ঢাকা ক্যাপিটালসের। ২৪ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটে জিতেছে ফরচুন বরিশাল। একপ্রান্তে মালান তখন ৪৯ রানে অপরাজিত।

৮ ম্যাচে ৭ হার, নিট রানরেট-০.৩৪৪। বাকি ৪ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট পেলে হয়তো ১০ পয়েন্টে পৌঁছাতে পারবে ঢাকা। কিন্তু রানরেটের হিসেবে হয়তো বাদ পড়েই যেতে হবে তাদের। তাই সাগরিকাতেই স্বপ্নভঙ্গ শাকিব খানের দলের। অন্যদিকে ছয় ম্যাচে চতুর্থ জয় বরিশালের। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা শেষ চারের আরেকটু কাছাকাছি। তাদের ওপরে শুধুই রংপুর রাইডার্স।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত