প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরেই নরসিংদীর রায়পুরায় মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে কয়েকটি চক্র। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে একাধিকবার জেল-জরিমানা করা হলেও থামানো যাচ্ছে না তাদের। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে বিভিন্ন সময় রাতেও বালু তুলছে তারা। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ ও স্থানীয়দের অভিযোগের পর গতকাল বৃহস্পতিবার মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে যান জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। সে সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন পুলিশসহ সাংবাদিকরাও। তবে দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলির মুখে শেষ পর্যন্ত অভিযান শেষ করতে পারেনি প্রশাসন।
গতকাল সকালে রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানার নেতৃত্বে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শফিকুল ইসলাম ও জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেনের আদালত উপজেলার মির্জাচর ইউনিয়নের ধরাভাঙ্গা গ্রামের পাশের নদীতে অভিযানে যায়। সেখানে কমপক্ষে ২০-৩০টি ড্রেজার দিয়ে তোলা হচ্ছিল বালু। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখান থেকে বালুবাহী কার্গো ও ড্রেজার নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা। ওই স্থানের প্রায় এক কিলোমিটার দূরে রায়পুরা উপজেলার চরমধুয়া ইউনিয়নের একটি ইটভাটায় আর কিছু বালুবাহী কার্গো ও ড্রেজার রেখে পালাতে থাকে তারা। সে সময় একটি স্পিডবোট নিয়ে সেই ইটভাটার দিকে রওনা হয় প্রশাসন। ভাটার কাছাকাছি যেতেই স্পিডবোট লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে দুর্বৃত্তরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার স্পিডবোট ঘুরিয়ে ফিরে আসেন প্রশাসনের লোকজন। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত বা কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
জানা গেছে, পাশের জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রশাসনের অনুমতিতে মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলন করেন ইজারাদাররা। তবে তাদের সীমানা পেরিয়ে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মির্জাচর ও চরমধুয়া ইউনিয়নের সীমানায় ড্রেজার বসিয়ে মাটি কাটেন তারা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে প্রতিনিয়তই বালু উত্তোলন হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে আমরা দেখি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সীমানা পেরিয়ে রায়পুরা উপজেলার মির্জাচরে এসে অনেকগুলো চুম্বক ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সে সময় আমরা সেখানে অভিযান পরিচালনা করি। পরে একটি ড্রেজারে থাকা দুজনকে আটক করি। ইতিমধ্যেই তাদের ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ টাকা দিতে না পারলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
ইউএনও বলেন, ‘এদিন চরমধুয়া ইউনিয়নে একটি অবৈধ ইটভাটার পাশে ড্রেজার লাগিয়ে একদল লোক বালু উত্তোলন করছিল। সে খবর পেয়ে সেখানে যাওয়ার পথেই তারা আমাদের ওপর গুলিবর্ষণ করতে থাকে। সে সময় আমাদের সঙ্গে পর্যাপ্তসংখ্যক ফোর্স না থাকায় ফিরে আসি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যদি মেঘনা নদীসহ ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি বাঁচাতে চাই, তাহলে এখানে পর্যাপ্তসংখ্যক ফোর্স যেমন কোস্ট গার্ড, নৌপুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীর সহযোগিতা লাগবে।’
