ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক না পাওয়া নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা রাজশাহী দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। পারিশ্রমিক হাতে পাওয়ার পরের ম্যাচেই সিলেট স্ট্রাইকার্সকে ৬৫ রানে হারিয়ে এবারের আসরে নিজেদের তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে দলটি। হ্যাটট্রিক হারের পর টানা দুই জয়ে এবারের বিপিএলে ফর্মে ফেরার আভাস দিয়েছিল সিলেট স্ট্রাইকার্স। তবে সিলেটের ভক্ত-সমর্থকদের আশা নিরাশায় পরিণত হতে খুব একটা সময় লাগেনি। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি হারল টানা দুই ম্যাচ।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে রাজশাহী ৭ উইকেটে ১৮৪ রানের লড়াকু স্কোর তোলে। দলটির হয়ে রায়ান বার্ল ২৭ বলে ১ চার ও ৪ ছক্কায় করেন ৪১ রান। রাজশাহী অধিনায়ক এনামুল হক বিজয় ৩ চার ও ২ ছক্কায় ২২ বলে ৩২ রানের ইনিংস খেলেন। নাগালের মধ্যে থাকা লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ভেঙে পড়ে সিলেটের ব্যাটিং লাইনআপ। ১৭.৩ ওভারে মাত্র ১১৯ রানেই গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল রাজশাহীর ব্যাটিং। প্রথম ওভারেই ১৫ রান তোলে তারা। মোহাম্মদ হারিস ১৪ বলে ১৯ রানের ইনিংসের সঙ্গে বিজয়ের হাত ধরে পাওয়ার প্লেতে ৩৮ রান তোলে দলটি। জিসান আলম (১৮ বলে ২০) ও ইয়াসির আলী রাব্বী (১০ বলে ১৯) ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংস খেলেন। তবে ইনিংসের মাঝপথে দলের রান বাড়ানোর মূল দায়িত্ব পালন করেন রায়ান বার্ল। বার্লের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি শেষ দিকে মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর ৬ বলে ১২ রানের ক্যামিওতে ১৮৪ রানের সংগ্রহ গড়ে রাজশাহী। সিলেটের হয়ে রুয়েল মিয়া ৩২ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। নাহিদুল ইসলাম এবং নিহাদুজ্জামান দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
১৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই দলীয় দুই রানে বিদায় নেন পল স্টার্লিং। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে রনি তালুকদারও (৪) বিদায় নেন। জাকির হাসান (২৮ বলে ৩৯) একপ্রান্তে চেষ্টা চালালেও সঙ্গীর অভাবে সিলেটের রান তোলার গতি থেমে যায়। শেষ দিকে জাকের আলী অনিক ৩ ছক্কায় ২০ বলে ৩১ রান করলেও তা হারের ব্যবধান কমানোর বাইরে কিছুই করতে পারেনি। রাজশাহীর বোলারদের মধ্যে সানজামুল ইসলাম ২৫ রানে ৩ উইকেট নেন। দুটি করে উইকেট পেয়েছেন তাসকিন আহমেদ, মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী ও আফতাব আলম। পাওনা টাকা পরিশোধের পর দলের এমন পারফরম্যান্স যেন নতুন শক্তি এনে দিয়েছে রাজশাহীর তাঁবুতে। সপ্তম ম্যাচে তৃতীয় জয় তুলে নিয়ে তারা এখন পয়েন্ট টেবিলের মাঝামাঝি অবস্থানে।
