দেশবাসীকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:১৩ এএম

উৎপাদনের ভুল তথ্য দিয়ে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টির জন্য শেখ হাসিনার সরকারের সমালোচনা করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার এতদিন দেশবাসীকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে; বলেছে বছরের পর বছর ধরে উৎপাদন বেড়েছে। কিন্তু ঘটনা ঠিক উল্টো। এ কারণেই অন্তর্বর্তী সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে।’ সিন্ডিকেটবাজি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আলুর উৎপাদন কম হওয়ায় দাম বেড়েছে, যদিও বিগত সরকার আলুর বাম্পার ফলন দেখিয়েছে।’

গতকাল রবিবার রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে (পিআইবি) বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরামের (বিএজেএফ) সদস্যদের জন্য কৃষি সাংবাদিকতাবিষয়ক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

শফিকুল আলম বলেন, ‘হাসিনার আমলে সরকারি প্রতিবেদনে খাদ্যোৎপাদনে উদ্বৃত্তের কথা বলা হলেও পরিসংখ্যান সে কথা বলে না। এ মিথ্যা তথ্য খাদ্যের দাম বাড়াতে ভূমিকা রেখেছিল। কারণ ব্যবসায়ীরা প্রকৃত উৎপাদনের মাত্রা সম্পর্কে ঠিকই জানতেন।’ উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘গত বছর অতিরিক্ত চাল উৎপাদন হয়েছে দাবি করা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ১ কোটি ২৫ লাখ টন চাল আমদানি করেছে।’

প্রেস সচিব বলেন, ‘অতীতে মূল্যস্ফীতি ও জিডিপির পরিসংখ্যানে গড়বড় করায় ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও অর্থনীতিতে ভারসাম্যহীন অবস্থা তৈরি হয়েছিল। অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকার অর্থনৈতিক তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করতে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। সঠিক তথ্য প্রকাশের ফলে নাগরিকরা টেকসই অর্থনীতি ও কৃষির সুবিধা পেতে সক্ষম হবে।’

২০২৫ সালের বাজেট জনবান্ধব হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেও আয়বৈষম্য কমাতে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সরকার দেশের দীর্ঘমেয়াদি চাহিদাপূরণে স্থিতিশীল অর্থনীতি ও টেকসই কৃষিব্যবস্থাপনা তৈরির দিকে মনোনিবেশ করছে।’

সরকারি চাকুরেদের বেতনসংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম বলেন, ‘বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে কম। মহার্ঘ্য ভাতা এ সমস্যা সমাধানের জন্য একটি যৌক্তিক পদক্ষেপ। যৌক্তিকতা বিবেচনা করেই সরকারি চাকরিজীবীদের মহার্ঘ্য ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।’

হত্যা ও গুমের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচারের আওতায় আনাকে অন্তর্বর্তী সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানান শফিকুল আলম। তিনি বলেন, হত্যা, গুম ও খুনে আওয়ামী লীগের যাদের হাতে রক্তের দাগ আছে, যারা এ গুম, খুন ও চোরতন্ত্র কায়েমে জড়িত তাদের প্রত্যেকের বিচার হবে। তারপর বাংলাদেশের মানুষ ও রাজনৈতিক দলগুলো নির্ধারণ করবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির ভবিষ্যৎ কী হবে। তবে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা অন্তর্র্বর্তী সরকারের নেই।’

প্রেস সচিব বলেন, হাসিনার শাসনামলে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষকে গুম করা হয়েছে এবং প্রায় দুই হাজার যুবক খুন হয়েছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে।

শফিকুল আলম বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কারও মধ্যে অনুশোচনা নেই। জাতির কাছে দুঃখ প্রকাশের পরিবর্তে তিনি (শেখ হাসিনা) একের পর এক মিথ্যা বলে যাচ্ছেন। উনি তো তাহাজ্জুদের নামাজের পর থেকেই মিথ্যা বলা শুরু করতেন। এখনো এ প্রবণতা অব্যাহত রেখেছেন তিনি। মিথ্যা বলেই যাচ্ছেন।’

নির্বাচন বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম বলেন, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য দুটি সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। তবে নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত করার বিষয়টি নির্ভর করবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ওপর।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে নির্বাচন কমিশন কাজ করছে। প্রস্তুতি কেমন হবে সেটা নির্ভর করছে অনেক রিফর্মের (সংস্কার) ওপর। এ সংস্কারগুলো মাঠপর্যায়ে নির্বাচনকে অনেকাংশে প্রভাবিত করবে। সব রাজনৈতিক দল বসে যদি ঠিক না করি যে, কী পরিমাণ সংস্কার হবে তাহলে নির্বাচন কবে হবে তা বলা সম্ভব নয়। কেউ স্থানীয় নির্বাচন আগে হবে বললে তখন অন্য রকমের প্রস্তুতির দরকার হবে। যদি কম রিফর্ম হয় তাহলে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হবে। আর রাজনৈতিক দলগুলো যদি মনে করে অন্তর্র্বর্তী সরকারকে দিয়ে তারা আরও কিছু সংস্কার করিয়ে নেবে, তাহলে ২০২৬ সালের জুন মাসের কথা তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) বলেছেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত