আরজি কর মামলার রায় আমৃত্যু কারাদন্ড দোষীর

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২৫, ০২:১৪ এএম

ভারতে পশ্চিমবঙ্গের আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক ধর্ষণ এবং হত্যার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়ের সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার শিয়ালদহের অতিরিক্ত দায়রা জজ অনির্বাণ দাস সঞ্জয়ের আমৃত্যু কারাদ-ের নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে শনিবার বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেছিলেন তিনি। তবে নারী চিকিৎসক ধর্ষণ-খুনের ঘটনা বিরলের মধ্যে বিরলতম নয় বলে রায়ে উল্লেখ করেন বিচারক। আদালতের এ সিদ্ধান্তে খুশি হতে পারেননি নিহত চিকিৎসকের বাবা-মা।

ভারতীয় দ-বিধির ৬৪, ৬৬ এবং ১০৩(১) ধারায় সঞ্জয় রায়ের অপরাধ প্রমাণিত হয়েছিল। রায় ঘোষণা করে বিচারক বলেন, তিনটি ধারাতেই সঞ্জয়কে যাবজ্জীবন কারাদ-ের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। আমৃত্যু জেলে থাকতে হবে তাকে। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ভুক্তভোগী চিকিৎসকের পরিবারকে ১৭ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

তবে আদালতের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নন নারী চিকিৎসকের বাবা-মা। রায় ঘোষণা সময় তারা বিচারককে বলেন, ক্ষতিপূরণ না, তারা ন্যায়বিচার চান। ভুক্তভোগীর মায়ের দাবি, এ ঘটনাকে বিরলের মধ্যে বিরলতম প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে মামলার তদন্ত করা সিবিআই। সে কারণেই বিচারক সঞ্জয়কে সর্বোচ্চ শাস্তি দেননি।

বহুল আলোচিত এই মামলার রায়ের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, আমরা ফাঁসির দাবি করেছিলাম। আমাদের হাতে মামলাটি থাকলে অনেক আগেই ফাঁসির অর্ডার করে নিতাম।

গত বছর ৮ আগস্ট কলকাতায় এই চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা পুরো ভারতকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল। ঘটনার বিচার চেয়ে চিকিৎসকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠেছিল পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল। নারীদের রাত দখল থেকে শুরু করে নানা প্রতিবাদী কর্মসূচিতে পরবর্তী সময়ে বৃহৎ আন্দোলনে রূপ নেয়। নাগরিক সমাজে এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল দাবানলের মতো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত