একই গতিতে ছুটছে আবাহনী রহমতগঞ্জ

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৫, ০১:০১ এএম

ফেডারেশন কাপে একই গতিতে ছুটছে আবাহনী ও রহমতগঞ্জ। মোহামেডানের বিদায়ে ‘বি’ গ্রুপ থেকে পরের ধাপে যাওয়া আগেই নিশ্চিত হয়েছিল দুই দলের। মঙ্গলবার দুদলই পেয়েছে টানা তৃতীয় জয়ের দেখা। কুমিল্লায় আবাহনী ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্সকে হারিয়েছে ৩-০ ব্যবধানে। ঠিক একই ব্যবধানে ময়মনসিংহে চট্টগ্রাম আবাহনীকে ধরাশায়ী করেছে রহমতগঞ্জ। শতভাগ জয়ে দুদলেরই সংগ্রহ সমান ৯ পয়েন্ট। তবে গোল গড়ে এগিয়ে থেকে এই গ্রুপের শীর্ষে রয়েছে রহমতগঞ্জ। ৩১ জানুয়ারি দুদল মুখোমুখি হবে একে অপরের। সেই ম্যাচ শেষেই জানা যাবে, গ্রুপসেরা হয়ে প্রথম কোয়ালিফায়ার্স খেলার সুযোগ পাবে কোন দল। সেই ম্যাচটা ড্র হলে রহমতগঞ্জের শীর্ষে শেষ করার সুযোগ থাকবে।

রহমতগঞ্জ ও আবাহনীর কাছে হারে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই বিদায় নিশ্চিত হয়েছিল চলতি প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে থাকা মোহামেডানের। তাই মঙ্গলবার পরের ধাপে যাওয়ার স্বস্তি নিয়ে মাঠে নেমেছিল আবাহনী ও রহমতগঞ্জ। লিগের পারফরম্যান্সের ধারা অব্যাহত রেখে নিজ নিজ প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে জয় হাসিল করেছে দুই দল।

কুমিল্লার ভাষাসৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে অবশ্য ফকিরেরপুল প্রতিরোধ গড়ে আবাহনীকে গোল বঞ্চিত রেখেছিল এক ঘণ্টারও বেশি সময়। তবে ছয় মিনিটের ঝড়ে ফকিরেরপুলের সব প্রতিরোধ ভেঙে দিয়ে জয়ের দেখা পায় মারুফুল হকের শিষ্যরা। ৬৫ মিনিটে সফল স্পটকিকে আবাহনীকে এগিয়ে নেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ইয়াসিন খান। এর ছয় মিনিটের মধ্যে হাসান মুরাদ ও মাহাদি ইউসুফের গোলে আবাহনী শিবিরে স্বস্তি আসে।

স্থানীয়দের নিয়ে গড়া আবাহনী প্রথমার্ধে সেভাবে সুবিধা করে উঠতে পারেনি। ম্যাচের অষ্টম মিনিটে আসাদুল মোল্লা বল নিয়ে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে সুবিধা করতে পারেননি। গোলমুখ থেকে দ্রুত বল ক্লিয়ার করেন ফকিরেরপুলের এক ডিফেন্ডার। ২৪ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত ফকিরেরপুল। আবাহনীর এক খেলোয়াড়ের ব্যাক পাস থেকে বলের নাগাল প্রায় পেয়ে গিয়েছিলেন আকবির তুরায়েভ। কিন্তু ভারসাম্য হারিয়ে বক্সে পড়ে যান এই উজবেক ফরোয়ার্ড। দ্রুত ছুটে এসে বল আয়ত্তে নেন আবাহনী কিপার মাহফুজ হাসান প্রিতম।

বিরতির পর অবশ্য ম্যাচের লাগাম নিজের করে নেয় আবাহনী। ৬৫ মিনিটে ইয়াসিন খান পেনাল্টি থেকে এগিয়ে নেন দলকে। এর আগে ডান দিক দিয়ে বক্সে প্রবেশ করা এনামুল গাজী ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। এর তিন মিনিট পর ব্যবধান বাড়ান হাসান মুরাদ। বক্সের ভেতরে এনামুল গাজীর পাস প্রথম স্পর্শে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিখুঁত শটে গোল করেন। ৭১তম মিনিটে তৃতীয় গোলে মধ্য দিয়ে জয়টা নিশ্চিত করে ফেলে আবাহনী। ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে জায়গা করে নিয়ে বাঁ পায়ের জোরালো শটে বল জালে জমা করে আরেকবার আবাহনী সমর্থকদের উৎসবের সুযোগ করে দেন মিডফিল্ডার মাহাদি ইউসুফ।

ময়মনসিংহে অবশ্য গোলের জন্য খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি রহমতগঞ্জকে। দুর্বল চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষে তারা এগিয়ে যায় ৩২ মিনিটে। রায়হান হাসানের লম্বা থ্রো-ইন ভালো জায়গায় পেয়েও ঠিকঠাক শট নিতে ব্যর্থ হন নাবিব নেওয়াজ জীবন। তার দুর্বল শট চট্টগ্রাম আবাহনীর এক ডিফেন্ডারের শরীরে লেগে ফিরলে ফিরতি বল জালে জড়ান গাম্বিয়ান মোস্তফা মাহমুদ। এর ছয় মিনিট পর চট্টগ্রাম আবাহনী দশজনের দলে পরিণত হলে রহমতগঞ্জের কাজটা আরও সহজ হয়। সরাসরি লালকার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় সুজন মিয়াকে। ম্যাচের ৪২ মিনিটে স্যামুয়েল বোয়াটেং ও ৭১ মিনিটে ফাহিম নুর তোহা গোল করে রহমতগঞ্জের জয় নিশ্চিত করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত