দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদ পুনর্নির্মাণে তহবিল গঠন

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৫, ০৮:৩৪ এএম

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের বড় অংশ দাবানলে বিপর্যস্ত হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। পুড়ে গেছে ১২ হাজার ৩০০-এরও বেশি স্থাপনা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আল্টাডেনা ও পাসাডেনার মুসলিম কমিউনিটির প্রাণকেন্দ্র আত-তাকওয়া মসজিদ। মসজিদটি পুনর্নিমাণের প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। মুসলমানদের এমন প্রচেষ্টা প্রমাণ করে, বিশ্বাস আর ঐক্যের শক্তি সব বাধা অতিক্রম করতে পারে। ইতিমধ্যে এই পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ৭ লাখ ৪৫ হাজার ডলারেরও বেশি তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে। পুনর্নির্মাণকারীরা তহবিলের নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন, যেন আরও বেশি মানুষ এই মহৎ কাজে অংশ নিতে পারে।

পশ্চিম ক্যালিফোর্নিয়ার আল্টাডেনা ও পাসাডেনা এলাকার এই আত-তাকওয়া মসজিদ শুধুই নামাজের স্থান নয়, বরং মুসলিম কমিউনিটির শক্তিশালী একটি কেন্দ্র। এখানকার মানুষজন মসজিদটিকে তাদের দ্বিতীয় ঘর হিসেবে দেখত। স্থানীয় ঠিকাদার ও প্রকৌশলী আবু-জারাদেহ মসজিদ পুনর্নির্মাণ কাজের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আত-তাকওয়া মসজিদ আমাদের জন্য শুধু নামাজের জায়গা ছিল না; বরং এটি ছিল আমাদের শেকড়ের একটি অংশ।’ দুই দশকের বেশি সময় ধরে নামাজ আদায়, মুসলিম কমিউনিটির সমাবেশ এবং সমাজ সেবার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিভিন্ন কাজ সম্পাদন করা হয়েছে এই মসজিদে। সুতরাং এই মসজিদ বিপর্যস্ত হওয়া কেবল একটি ভবন হারানোর ক্ষতি নয়; বরং এটি পুরো মুসলিম কমিউনিটির জন্য একটি বড় ক্ষতি।

মসজিদটি পুনর্গঠনের দায়িত্ব নিয়েছে ‘বাইত কনস্ট্রাকশন’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। তারা ঘোষণা দিয়েছে, এই প্রকল্পে তারা কোনো মুনাফা করবে না। কেবল শ্রম ও নির্মাণসামগ্রীর খরচ বহন করেই কাজটি সম্পন্ন করে দিবে। আবু-জারাদেহ বলেন, ‘প্রত্যেক ডলার কেবল পুনর্গঠনের জন্য ব্যয় হবে। কোনো বাড়তি লাভের প্রশ্নই আসে না।’

তহবিলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে, অনুদানগুলো সরাসরি আত-তাকওয়া মসজিদের অফিশিয়াল ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হচ্ছে। পাশাপাশি যারা আরও আশ্বস্ত হতে চান, তাদের জন্য মসজিদ পরিচালনা পর্ষদ এবং ইমাম জুনাইদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ রাখা হয়েছে।

এই বিপর্যয়ের পরও মুসলিম কমিউনিটির অভাবনীয় সাড়া ছিল। মসজিদের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ থেকেই মানুষ দলে দলে অনুদান দিয়েছেন। তহবিলের প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জিত হওয়ায় দায়িত্বশীলরা নতুন করে লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়েছেন। দায়িত্বশীলরা বলেন, ‘আত-তাকওয়া মসজিদ আমাদের জন্য ছিল আশ্রয়ের জায়গা। আজ এটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পুনর্গঠন করা আমাদের দায়িত্ব।’ ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানলের ক্রমবর্ধমান হুমকির মধ্যে এই প্রচেষ্টা ধর্মীয় ঐক্য এবং মানুষের অটুট বিশ্বাসের প্রতীক হয়ে উঠেছে। দায়িত্বশীলরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, মসজিদটি শিগগিরই আবার নতুন আঙ্গিকে গড়ে উঠবে এবং একটি পবিত্র আশ্রয়স্থল হিসেবে প্রার্থনা, ভাবনা এবং কমিউনিটির একতাকে পুনরুজ্জীবিত করবে। আর এর পুনর্নির্মাণ শুধু একটি ভবন দাঁড় করানোর উদ্যোগ নয়; বরং এটি মানুষের আত্মবিশ্বাস, উদারতা ও ঐক্যের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

সূত্র : লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত