নামাজের ১০ ফজিলত

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৫, ১২:০৫ এএম

মুসলমানদের জন্য প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া ফরজ। ইমান আনার পর সর্বপ্রথম ফরজ ইবাদত হচ্ছে নামাজ। নামাজ মুমিনের মর্যাদা বৃদ্ধি করে। নামাজের অনেক উপকারিতা কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। সেগুলোর মধ্য থেকে ১০টি উপকারিতা তুলে ধরা হলো।

মানসিক প্রশান্তি : সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য মানসিক প্রশান্তি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক ছাড়া মানুষ ইহকালে প্রকৃত সুখী হতে পারে না। অনেক সম্পদ থাকতে পারে, কিন্তু প্রশান্তি নাও থাকতে পারে। আর প্রশান্তির জন্য জরুরি হলো একনিষ্ঠভাবে নামাজ আদায় করা। কেননা এর মাধ্যমেই মানসিক প্রশান্তি লাভ করা যায়। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) বেলাল (রা.)-কে বলেছেন, হে বিলাল। আজান দাও, আমরা নামাজের মাধ্যমে প্রশান্তি লাভ করব। (আবু দাউদ ৪৯৮৬)

যার নামাজ ঠিক তার সব ঠিক : রাসুল (সা.) বলেছেন, কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম বান্দা থেকে নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। কেউ নামাজ যথাযথভাবে আদায় করে থাকলে, তার অন্যান্য আমলও যথাযথ ধরে নেওয়া হবে এবং সে মুক্তি পাবে। আর নামাজ যথাযথ আদায় না করে থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হবে। যদি ফরজ নামাজ কিছু কম হয়ে থাকে তবে আল্লাহ দেখবেন তার নফল নামাজ আছে কি না? থাকলে তা দ্বারা ফরজ পূর্ণ করে দেওয়া হবে। এরপর অন্যান্য আমলের ব্যাপারেও একই অবস্থা হবে। (নাসয়ি ৪৬৫)

অস্থিরতা থেকে মুক্তি : আল্লাহতায়ালা কোরআনে বলেন, ‘বস্তুত মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে অতিশয় অস্থির চিত্ত রূপে। যখন কোনো কষ্ট তাকে স্পর্শ করে, তখন সে অত্যন্ত অস্থির হয়ে পড়ে। আর যখন তার স্বাচ্ছন্দ্য আসে, তখন হয় অতি কৃপণ। তবে নামাজিরা ব্যতীত, যারা তাদের নামাজ নিয়মিত আদায় করে।’ (সুরা মাআরিজ ১৯-২৩) এই আয়াতগুলোতে আল্লাহতায়ালা নামাজিদের দুটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন। তারা কষ্টে নিপতিত হলে অস্থির হয় না। স্বাচ্ছন্দ্য এলে কখনো কৃপণ হয় না তথা দান করা থেকে বিরত হয় না।

নামাজ খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে : সুরা আনকাবুতের ৪৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘(হে নবী!) ওহির মাধ্যমে তোমার প্রতি যে কিতাব নাজিল করা হয়েছে, তা তেলাওয়াত করো, নামাজ আদায় করো। নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীল ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে। আর আল্লাহর জিকিরই তো সর্বাপেক্ষা বড় কাজ। তোমরা যা কিছু করো, আল্লাহ তা জানেন।’

গুনাহ মাফ : হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি উত্তমরূপে ওজু করে নামাজ আদায় করবে তার সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। (সহিহ মুসলিম) তাই আমরা নিয়মিত নামাজ আদায় করব। এতে আমাদের আগের ছগিরা গুনাহগুলো মাফ হয়ে যাবে।

মর্যাদা বৃদ্ধি : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি বাড়ি থেকে পবিত্র হয়ে (ওজু করে) কোনো ফরজ নামাজ আদায় করার জন্য হেঁটে আল্লাহর কোনো ঘরে (মাসজিদে) যায়, তার প্রতিটি পদক্ষেপে একটি পাপ ঝরে পড়ে এবং মর্যাদা বৃদ্ধি হয়। (সহিহ মুসলিম)

ওজুর অঙ্গ চমকাবে : আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, আমার বড় ইচ্ছা হয় আমার ভাইদের দেখি। সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা কি আপনার ভাই নই? তিনি বললেন, তোমরা তো আমার সাহাবি। যারা এখনো পৃথিবীতে আসেনি তারা আমার ভাই। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আপনার উম্মাতের মধ্যে যারা এখনো পৃথিবীতে আসেনি তাদের আপনি কীভাবে চিনবেন? তিনি বললেন, কেন? যদি সাদা রঙের কপাল ও সাদা রঙের পাবিশিষ্ট ঘোড়া অনেকগুলো কালো ঘোড়ার মধ্যে মিশে যায় তবে কি কোনো ব্যক্তি এই ঘোড়াকে চিনে নিতে পারবে না? তারা বললেন, হ্যাঁ, আল্লাহর রাসুল, পারবে। তিনি বললেন, আমার উম্মাত কেয়ামতের এমন অবস্থায় আসবে যে, ওজুর ফলে তাদের মুখম-ল, হাত-পা জ্যোতির্ময় হবে। (সহিহ মুসলিম)

জান্নাত নসিব : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তার বান্দাদের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। যে ব্যক্তি তা যথাযথভাবে পালন করবে এবং আর অবহেলা বশত পরিত্যাগ করবে না, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর অঙ্গীকার করেছেন। আর যে ব্যক্তি তা (যথাযথভাবে) আদায় করবে না, তার জন্য আল্লাহর কাছে কোনো প্রতিশ্রুতি নেই। তিনি ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি দেবেন কিংবা জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। (আবু দাউদ)

জান্নাতে নবীজির সঙ্গ : রবিয়া ইবনে কাব আসলামি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-এর ওজুর পানি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস এনে দিতাম। একদা তিনি আমাকে বললেন, আমার কাছে কিছু চাও। আমি বললাম, জান্নাতে আপনার সাহচর্য প্রার্থনা করছি। তিনি বললেন, এ ছাড়া আরও কিছু চাওয়ার আছে কি? আমি বললাম, এটাই আমার আবেদন। তিনি বললেন, তাহলে তুমি অধিক পরিমাণে সেজদাহ করে তোমার নিজের স্বার্থেই আমাকে সাহায্য করো। অর্থাৎ বেশি বেশি নামাজ পড়লে জান্নাতে তুমি আমার সাহচর্য পাবে। (সহিহ মুসলিম)

জান্নাতে মেহমানদারি : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি নামাজ আদায় করতে মাসজিদে যায় এবং যতবার যায় আল্লাহ তায়ালা ততবারই তার জন্য জান্নাতের মধ্যে মেহমানদারির উপকরণ প্রস্তত করেন। (সহিহ মুসলিম)

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত