গাজার ছক পশ্চিম তীরেও

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৫, ১২:০৭ এএম

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তৃতীয় দিনের মতো অভিযান অব্যাহত রেখেছে দখলকৃত পশ্চিম তীরের জেনিনে। পশ্চিম তীর জুড়ে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চলমান হামলা আরও তীব্র হয়েছে। অঞ্চলটি থেকে জোর প্রয়োগ করে হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে সরিয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বুরকিন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যম আল কুদস টুডে জানিয়েছে, নিহত মুহাম্মদ আবু আল-আসাদ ও কুতাইবা আল-শালাবি দীর্ঘক্ষণ ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত ছিলেন। এ নিয়ে জেনিনে তিন দিনের অভিযানে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১২-তে।

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর এ অভিযানকে দেশটির নিরাপত্তা কৌশলের পরিবর্তন বলে আখ্যা দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, নিহত দুই ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের সদস্য। চলতি মাসে কালকিলিয়া প্রদেশের ফুন্দুক গ্রামে ইসরায়েলি নাগরিকদের ওপর হামলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তারা। সে হামলায় তিনজন ইসরায়েলি নিহত ও ছয়জন আহত হয়। ইসরায়েল এখনো নিহতদের মরদেহ হস্তান্তর করেনি বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, তাদের অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে জেনিনের শরণার্থী শিবির ও আশপাশের এলাকায় হতাহতদের কাছে পৌঁছাতে বাধা দিচ্ছে আইডিএফ। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফার প্রতিবেদনে জানানো হয়, বুরকিনে অভিযানের সময় একটি বাড়ি ঘিরে ফেলে গুলি ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। পরে তা বুলডোজার দিয়ে ধ্বংস করা হয়। বুরকিনের মেয়র হাসান সোবহ অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েলি সেনারা হামলার সময় ফিলিস্তিনি নারীদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে। সেই সঙ্গে শহরের একটি সরকারি হাসপাতাল অবরোধ করে রেখেছে ইসরায়েলি সেনারা। পশ্চিম তীর জুড়ে বেড়েছে সেটেলারদের সহিংসতাও।

১৯৫৩ সালে উদ্বাস্তুদের আশ্রয়ের জন্য জাতিসংঘ কর্তৃক স্থাপিত জেনিন শরণার্থী শিবির দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের লক্ষ্যবস্তু। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র নাদাভ শোশানি দাবি করেছেন, শিবিরটি থেকে সন্ত্রাসী হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব হামলার উদ্দেশ্য পশ্চিম তীরকে ধীরে ধীরে দখল করা। আলজাজিরাকে ফিলিস্তিনি আইনজীবী মোহাম্মাদ দালেহ বলেন, গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় পশ্চিম তীরকে নতুন লক্ষ্য বানিয়েছে ইসরায়েল। তারা যেকোনো মূল্যে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে যুদ্ধ বজায় রাখতে চায়। এদিকে, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ওষুধ ও খাদ্য সরবরাহ বাড়াতে দাতা সংস্থাগুলো প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত