বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র উৎসব ঘুরে দেশের ১১টি হলে মুক্তি পেল নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরীর সিনেমা ‘রিকশা গার্ল’। প্রেক্ষাগৃহের সঙ্গে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বঙ্গতেও দেখা যাবে সিনেমাটি।
সিনেমাটি নিয়ে অমিতাভ রেজা চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের দেশের রিকশা পেইন্টিংয়ের মতো দারুণ একটা শিল্পকে সারা বিশ্বের দর্শকের সামনে তুলে ধরা হয়েছে এই সিনেমায়। আমাদের কিশোর-কিশোরী যারা ছবি আঁকতে চায়, তাদের অনুপ্রাণিত করবে সিনেমাটি। সেই জায়গা থেকেই রিকশা গার্ল নির্মাণ করা।’
বাংলাদেশের রিকশা শ্রমিকরা যাতে ফ্রিতে দেখতে পারে তাদের জন্য আমরা বিভিন্ন জায়গায় সিনেমাটি দেখানোর পরিকল্পনা করছি। একটা সিনেমা নির্মাণ করার পর যখন প্রথম সিনেমাটা দেখানো হয় তখন যেমন আনন্দ লাগে আবার একই সঙ্গে ভয়টাও হয়। কারণ আমি একভাবে ভেবে সিনেমাটি নির্মাণ করেছি। মানুষ কীভাবে রিয়্যাক্ট করবে, সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করি।
সিনেমাটি নির্মাণ করার সময় কোনো চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়েছে কি নাÑ এ প্রসঙ্গে নির্মাতা বলেন, জীবনে বেঁচে থাকাটাই একটা চ্যালেঞ্জ। প্রতিদিন লড়াই করে বেঁচে থাকতে হয়। সিনেমাও বড় একটা চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশে ইন্ডি ফিল্ম বানানো আরও বড় একটি চ্যালেঞ্জ। এই সিনেমাটা বানানোর জন্য যেহেতু প্রযোজক আগে থেকেই ছিল তাই আমার খুব একটা চ্যালেঞ্জ মনে হয়নি। আমি রাজি হয়ে যাই। আমরা এক বছর ধরে স্ক্রিপ্টের কাজ করেছি। বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে বসেছি। সেটা একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। শুটিং করাটা কোনো চ্যালেঞ্জ ছিল না। শুটিংটা মজার ছিল। শুটিং করতে মজা লাগে।
চরিত্র নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিনেমায় চরিত্র নির্বাচনে একটাই গুণ লাগে, সেটা ভালো অভিনয়। নভেরা খুব ভালো অভিনয়শিল্পী। এই সিনেমাটা করার জন্য এক মাস রিকশা চালানোর ট্রেইনিং করেছে নভেরা। তখন নভেরাকে খুব কম মানুষ চিনত, যার ফলে আমরা রিকশা দিয়ে ছেড়ে দিয়েছি একটা লোক ঘুরেও তাকায়নি। আমরা আরাম করে শুটিং করতে পেরেছি।
সিনেমার গল্পটা নিয়ে নির্মাতা বলেন, সিনেমার গল্প তৈরি হয়েছে শিল্পীমনা নারী নাঈমাকে ঘিরে। ছবি আঁকতে পছন্দ করে সে কিন্তু দরিদ্র সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবা হঠাৎ অসুস্থ হলে স্রোতের প্রতিকূলে লড়াই শুরু হয় তার। ছবি এঁকে যেহেতু পয়সা মেলে না, তাই নাঈমা উপায়ান্তর না পেয়ে রিকশা নিয়ে রাস্তায় বের হয়। জটিল হতে থাকে সিনেমার গল্প। প্রশ্ন এসে দাঁড়ায় নাঈমা কীভাবে তার স্বপ্ন পূরণ করবে!
গল্পটা শিশু-কিশোরদের সিনেমা। এই সিনেমার গল্পটা যেকোনো মানুষকে অনুপ্রেরণা জোগাবে। এই সিনেমার দরিদ্রতার গল্প ফুটে উঠেছে। এদের সংগ্রাম অনেক বেশি থাকে।
আমি বিশেষ করে বলতে চাই স্কুল, কলেজের শিক্ষকদের, আপনারা বাচ্চাদের এই সিনেমাটা দেখানোর আয়োজন করেন, আমরা সবভাবে সহযোগিতা করব। আমি মনে করি বাংলাদেশের সব জায়গায় এই সিনেমাটা দেখানো উচিত।
রিকশা গার্ল সিনেমায় নাঈমা চরিত্রে অভিনয় করেছেন নভেরা রহমান। অন্যান্য চরিত্রে রয়েছেন চম্পা, মোমেনা চৌধুরী, নরেশ ভূঁইয়া, অ্যালেন শুভ্র প্রমুখ।
যুক্তরাষ্ট্রের লেখক মিতালি পারকিন্সের উপন্যাস অবলম্বনে রিকশা গার্ল নির্মিত হয়েছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ প্রযোজনায়। প্রযোজনা করেছেন এরিক জে অ্যাডামস, ফরিদুর রেজা সাগর, জিয়াউদ্দিন আদিল ও শিহাব আহমেদ সিরাজী। নির্বাহী প্রযোজক মো. আসাদুজ্জামান।
