অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে তিনটি বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের ৮১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামরিক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এসব মামলা করা হয়। সংস্থাটির মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দুদকের ডিজি বলেন, চারটি মামলায় তারিক সিদ্দিক, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব মহিবুল হক ও বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্র্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এম মফিদুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্ম সচিব জনেন্দ্রনাথ সরকার, বেবিচকের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আবদুল মালেক, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান, অ্যারোনেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবুল আনাম, পরিচালক লুৎফুল্লাহ মাজেদ, প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আফরোজা নাসরিন সুলতানা, সাবেক পিডি পরিচালক একেএম মনজুর আহমেদ, থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের পিডি একেএম মাকসুদুল ইসলাম ও সুবেন্দু বিকাশ গোস্বামী, সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের পিডি মইদুর রহমান মো. মওদুদ, সাবেক পিডি উপসচিব শাহ জুলফিকার হায়দার, সাবেক পিডি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আনিসুর রহমান, কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের সাবেক পিডি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আমিনুল হাসিব, সাবেক পিডি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম এবং সাবেক পিডি মো. ইউনুছ ভূঁইয়া।
মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশ করে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যোগাযোগ, নেভিগেশন ও নজরদারি ব্যবস্থাপনা, রাডার স্থাপন প্রকল্পের আওতায় রাডার নির্মাণ কাজের প্রায় ২০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে। এ ছাড়া একই বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ (তৃতীয় টার্মিনাল) প্রকল্পের ২৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুটি মামলা করা হয়েছে।
অন্য মামলার এজাহারে বলা হয়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যারোনাস ইন্টারন্যাশনালের কর্ণধারের সঙ্গে যোগসাজশ করে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ প্রকল্প থেকে ২১২ কোটি টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল নির্মাণ ও রানওয়ে উন্নয়ন প্রকল্পের ১৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুটি মামলা করা হয়েছে।
