রেলওয়ের রানিং স্টাফদের কর্মবিরতিতে সারাদেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সোমবার (২৭ জানুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাতের পর থেকে দেশের সব রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা।
যাত্রীদের বড় অংশই এ বিষয়ে অবগত না থাকায় চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের অপেক্ষায় অনেক যাত্রীকে পরিবার বাচ্চাসহ বসে থাকতে দেখা গেছে।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম থেকে দেশের বিভিন্ন রুটের মোট ১১টি ট্রেনে ৩ হাজার ৬৩৪ টি টিকেট অনলাইন ও অফলাইনে বিক্রি করেছে রেলওয়ে। এসব টিকেট ফেরত দেওয়া হচ্ছে। বিকল্প হিসেবে ট্রেনের সময়সূচির সঙ্গে মিলিয়ে বিআরটিসির বাস ছাড়া হচ্ছে।
আল আমিন নামে স্টেশনে অপেক্ষারত এক যাত্রী দেশ রূপান্তরকে জানান, জরুরি কাজে তিনি ঢাকায় যাবেন। তাই সময়ের আগেই স্টেশনে চলে আসেন। এসে দেখেন শত শত যাত্রী ট্রেনের বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছেন। কাছে গিয়ে জানতে পারেন ট্রেনের স্টাফদের কর্মবিরতির কথা। এরপর বাকিদের মত দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেন রেলের নির্দেশনার জন্য।
তিনি আরও বলেন, আমাদের পরে বাসে করে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু আমিসহ অনেকেই বাসে যাতায়াত করতে পারি না। তাই আমরা টিকিট ফেরত দিব।
রেলের পক্ষ থেকে থেকে জানান হয় বিকল্প হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ রেল রুটগুলোতে যাত্রী পরিবহনের জন্য বিআরটিসি বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। যেসব ট্রেনের যাত্রা বাতিল হবে সেসব ট্রেনের টিকিটের টাকা যাত্রীদের ফেরত দেবে বাংলাদেশ রেলওয়ে। পাশাপাশি কেউ চাইলে বিআরটিসি বাসে যাতায়াত করতে পারবেন গন্তব্যে।
চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী ফরিদা। অগ্রিম টিকিট নিয়েছিলেন কুমিল্লা যাওয়ার জন্য। তার রেলযাত্রাও বাতিল হয়েছে। এবার তাকে যেতে হচ্ছে বিআরটিসির বাসে। এ ব্যবস্থা তার জন্য রেলওয়ে করে দিয়েছে। তার সাথে কথা হয় বিআরটিসির দ্বিতল বাসের নিচতলায়। তবে কিছুটা ভোগান্তি হলেও রেলের এ বিকল্প ব্যবস্থায় খুশি তিনি। বলেন, ‘একটা ব্যবস্থা তো হলো।’
মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের আরেক যাত্রী সিদ্দিক মিয়া যাবেন ভৈরব। তিনিও বাধ্য হয়ে বিআরটিসির বাসে রওনা দিয়েছেন গন্তব্যে। তিনি বলেন, ‘দেশটা তো মগের মুল্লুক। এখানে এসব নিয়ে কথা বলে লাভ নাই। রেলের টিকিট নিছি স্বাছন্দ্যে যাত্রার জন্য কিন্তু এখন আমাদের পাঠানো হচ্ছে বিআরটিসির বাসে।
মিলন নামের একজন যাত্রী বলেন, মহানগর গোধূলির টিকিট কেটেছিলাম পরিবারসহ পাঁচ জনের জন্য। এসে দেখি আমাদের জন্য বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যদি বাসেই যেতে হত তাহলে আমরা ট্রেনের টিকিট কাটতাম না। ছোট বাচ্চারা আছে সাথে এখন তাদের নিয়ে যেতে আমাদের বেলা পাড় হয়ে যাবে।
আমিরুল ইসলাম যাবেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া। তিনিও মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি যাবো আখাউড়া। কিন্তু এই বাস সেখানে যাবে না। এখন কী আর করার এটাতেই যেতে হবে।’
বিআরটিসির চট্টগ্রাম বিভাগীয় বাস ডিপোর ম্যানেজার জুলফিকার আলী বলেন, ‘আমাদের মোট ৬৭টি বাসের মধ্যে সাধারণত ৪২টি বাস চট্টগ্রাম থেকে ৩৫টি জেলায় যাতায়াত করে। কিন্তু আজ ট্রেন বন্ধ থাকায় আরো ২০টি বাস চলছে ট্রেনের সময়সূচির সঙ্গে মিলিয়ে। শহরের চলাচলকারী বাসগুলোও কাজে লাগানো হচ্ছে। স্কুল যেহেতু বন্ধ, তাই স্কুলের স্মার্ট বাসগুলো রাতে স্বল্প দূরত্বের গন্তব্যে ছেড়ে আবার ফিরিয়ে আনার চিন্তা চলছে। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলাপ করা হবে। যদি চাহিদা থাকে, তাহলে চালানো হবে।’
তিনি আরো বলেন, আজ দুপুর দেড়টা পর্যন্ত চারটি বাস ছাড়া হয়েছে। আমরা যাত্রীদের থেকে শুধু টিকেট জমা নিচ্ছি। বাকি আনুষ্ঠানিকতা পরে।
রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা তৌষিয়া আহমেদ বলেন, সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সময়সূচির ট্রেনগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পাঁচটি ট্রেন বাতিল হয়েছে। যাত্রীরা চাইলে টিকেট ফেরত দিয়ে রিফান্ড করতে পারেন। অথবা বিআরটিসি বাসে করেও গন্তব্যে যাত্রা করতে পারেন।
বাংলাদেশ রেলওয়ের রানিং স্টাফদের কর্মবিরতির কারণে সারাদেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সোমবার (২৭ জানুয়ারি) মধ্যরাতের পর থেকেই রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্টে’ যোগ দেবেন জায়মা রহমান
অনুমতি ছাড়া শহর ও সামাজিক বনায়নের গাছ কাটা নয়
স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসা ভাড়া, তালাবদ্ধ ঘরে মিলল পঁচা লাশ
দুর্বল ব্যাংকের গ্রাহকদের সুখবর দিলেন গভর্নর
পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণ হবে সব ইবতেদায়ি মাদরাসা