বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অগ্রাধিকার কী সেটা একটা বড় প্রহেলিকা বটে। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের একটা আদর্শ বা দর্শন থাকে; আবার নির্বাচনের আগে তারা ইলেকশন ম্যানিফেস্টো ঘোষণা করে। কিন্তু এ সরকারের তো সে রকম কিছু ছিল না; এ সরকারপ্রধানের নিয়োগকর্তা ছাত্ররা; তাদের আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ে লক্ষ্য ছিল নিয়োগে বৈষম্য নিরসন আর শেষ পর্যায়ে হয়ে যায় স্বৈরাচারের পতন। তাই এখন ক্ষমতায় গিয়ে এই সরকারকে লক্ষ্য ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হয়েছে। তাতে কোনো সমস্যা নেই; সমস্যা হলো সরকার অন্তর্বর্তীকালীন, অর্থাৎ স্বল্পমেয়াদি; কিন্তু তারা এমন কিছু স্বপ্নদর্শী লক্ষ্যের কথা বলছে, যেগুলোর জন্য প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য, দীর্ঘমেয়াদি এসব লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজন নতুন আইনসভা বা গণপরিষদের (কনস্টিটিউয়েন্ট অ্যাসেম্বলি) অনুমোদন। এই ফাঁকে স্বল্পমেয়াদি জ¦লন্ত সমস্যাগুলো ব্যাক বেঞ্চে চলে যায়; এগুলো এখন জনমানুষের বাঁচামরার প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
সবারই ধারণা ছিল যে, যাদের রক্তের বিনিময়ে এ বিজয় সূচিত হলো এ সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার থাকবে তাদের জন্য পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দান এবং সুচিকিৎসা নিশ্চিতকরণ। কিন্তু শহীদদের তালিকাভুক্তিকরণ ও আহতদের চিকিৎসা নিয়ে চলছে চরম অবহেলা এবং অব্যবস্থাপনা; এক উপদেষ্টার গাড়িতে হামলার আগ পর্যন্ত বিষয়টা তেমন গুরুত্বই পায়নি। স্বৈরাচারের পতনের পর দেশে শুরু হয় মব জাস্টিস। রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা দানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুলিশ তখন লুপ্তপ্রায়। এখনো যে পরিস্থিতির বাঞ্ছিত উন্নতি হয়েছে, সেটা বলা যাবে না। তবে দেশে সবচেয়ে বড় রক্তক্ষরণ ঘটাচ্ছে আর্থিক খাতের নৈরাজ্য, দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ নিনাদের মুদ্রাস্ফীতি, যার দুর্দমনীয় উদ্ভাস। স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে জনসাধারণের যে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও আত্মদান, তার পেছনে ছিল মুদ্রাস্ফীতির এই শঙ্কু। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ খাতে কোনো উন্নতি তো হয়ইনি, সরকারি কাজকর্মে বরং উল্টো বিপরীত ধারা বেগবান হতে দেখা যাচ্ছে। এসব জ¦লন্ত সমস্যা সমাধানে সরকারি তৎপরতা তেমন দৃশ্যমান না হলেও কিছু কাজ কিন্তু অতি দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। প্রথমটা হলো জনপ্রশাসনে পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের আবেদনপত্র যাচাই ও সুপারিশ প্রণয়নের কাজ। ১৫৪০ জন আবেদন করেছিলেন। কমিটি যাচাই-বাছাই করে বিভিন্ন পর্যায়ে ৭৬৪ জনকে পদোন্নতির সুপারিশ করে। অতিরিক্ত সচিব পদে সুপারিশ করা পদ সংখ্যা ১৩১। এখনকার কর্মরত ৩৯৫ জনের সঙ্গে এরা যুক্ত হলে মোট সংখ্যা দাঁড়াবে ৪৬৭। অথচ এ ক্ষেত্রে অনুমোদিত পদ সংখ্যা মাত্র ১৫০। এর মানে হলো, এ পর্যায়ে মোট ৩১৭টি সুপারনিউমেরারি পদ সৃষ্টির প্রয়োজন হবে। অনুরূপভাবে যুগ্ম সচিব ও উপসচিবদের পদোন্নতির জন্য যথাক্রমে ৬২৬ ও ১১৪৯টি সুপারনিউমেরারি পদ সৃজন করতে হবে (ঞযব উযধশধ ঞৎরনঁহব,১০.১২.২০২৪)। এটা বাস্তবায়নে বড় ধরনের আর্থিক সংশ্লেষ অবশ্যম্ভাবী। তারপর এখন আবার চলছে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির এন্তেজাম। সরকারের আর্থিক দুরবস্থা ও মূল্যস্ফীতির যাঁতাকলে পিষ্ট মানুষের দৈন্যদশার মধ্যে এটা যে কীভাবে প্রথমে চলে এলো, সেটাও একটা প্রশ্ন!
অনেক দৃষ্টান্তেরই লহরী প্রভাব (জরঢ়ঢ়ষব ঊভভবপঃ) থাকে। প্রশাসনের এই পদবিহীন পদোন্নতির ঢেউ এখন ব্যাংকিং সেক্টরে আছড়ে পড়ছে। এক সংবাদে দেখলাম, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রায়ত্ত ৪ ব্যাংকে প্রায় দশ হাজার কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়েছেন। এর মধ্যে ৭,২১৫টি পদেই হয়েছে সুপারনিউমেরারি পদোন্নতি। এর মধ্যে শুধু এজিএম পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে ১০৬৭ জনকে। এ পদোন্নতি সম্পর্কে সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জনাব মুসলিম চৌধুরী বলেছেন, পদোন্নতিপ্রাপ্তরা ৬ থেকে ৯ বছর ধরে একই পদে আটকে ছিলেন। দীর্ঘদিন একই পদে থাকলে হতাশা চলে আসে। পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তারা ব্যাংকের উন্নয়নে যথাযথ ভূমিকা রাখবেন (বণিক বার্তা, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৫)। জনাব চৌধুরী একজন সজ্জন মানুষ। তার কল্যাণে আমরা এখন ঘরে বসে পেনশন পাচ্ছি। কিন্তু তার ব্যাংকের দেওয়া ঋণের যে প্রায় ৫০ শতাংশ খেলাপি ও দুর্দশাগ্রস্ত, তার বেলায় এ পদোন্নতি কী ভূমিকা রাখবে, সেটা তিনি উল্লেখ করেননি। অন্যান্য ব্যাংকের অবস্থা তো আরও খারাপ। এখন শোনা যাচ্ছে যে, পতনোন্মুখ বেসিক ব্যাংকেও নাকি সুপারনিউমেরারি পদ সৃজনের মাধ্যমে পদোন্নতির তোড়জোড় চলছে। প্রশাসন বা ব্যাংকের চেয়ে অন্যান্য ক্যাডার বা সরকারি সংস্থায় পদোন্নতির জট কম না; বরং বেশি। আমি নিজে যে ক্যাডারে ছিলাম সেখানে এক পদে ১২ বছর চাকরি করেছি। আরও অনেক জায়গায় এ দুরবস্থা এখনো বিরাজমান। বঞ্চনা ও বৈষম্য যদি দূর করতে হয়, তবে যেখানে যেখানে জট রয়েছে, সেসব জায়গায় আগে পদ সৃজন করে সুযোগের সমতা আনতে হবে। তারপর পদোন্নতিতে যদি কেউ বঞ্চনা বা বৈষম্যের শিকার হন তখন সেটা বিবেচনা করা যুক্তিসঙ্গত হবে। কিন্তু এখন এক দল পদশূন্যতা নির্বিশেষে চাকরিতে নির্দিষ্ট মেয়াদপূর্তিতে পদোন্নতি (সুপারনিউমেরারি) পেয়ে যাবেন, আর আরেক দল পদশূন্যতার অভাবে দীর্ঘদিন একই পদে আটকে থাকবেন এটা তো চরম বৈষম্যমূলক এক ব্যবস্থা। বৈষম্যমূলক এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যারা একবার পদোন্নতি পেয়েছেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ দ্বিতীয় দফায় বঞ্চনার শিকার হয়ে থাকতেই পারেন। কিন্তু সেটাই যেন এখন প্রধান বিবেচ্য বিষয় হয়ে গেছে।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে প্রশাসনে পদ-পদবির সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমিয়ে এনে ব্যয় সাশ্রয় করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু এদেশে চলছে উল্টো রথ। স্বৈরাচারী সরকার যোগ্যতা বিচার না করে নিজেদের লোকজনকে শূন্যপদ না থাকা সত্ত্বেও পদোন্নতি দিয়েছিল। ফলে সার্ভিস ও প্রশাসন হয়ে পড়েছে মেধাহীন, মাথা ভারী ও পেটমোটা। এখন মন্ত্রণালয়ে সহকারী সচিব পদধারীদের দেখা মেলা ভার; তাদের চেয়ে উপসচিব বা তদূর্ধ্ব মর্যাদার পদধারীদের দ্বারা সচিবালয় জনাকীর্ণ। সরকারের উচিত ছিল প্রশাসনকে পরিশুদ্ধ করা এবং অধস্তনদের মধ্য হতে যোগ্য ও মেধাবীদের পদোন্নতি প্রদান করা। এতে শৃঙ্খলা ও সুশাসনের নীতি প্রতিষ্ঠিত হতো, প্রশাসনিক ব্যয় কমে যেত ও দক্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বেড়ে যেত।
ডিজিটাল যুগে উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসন যেমন দক্ষতার পরাকাষ্ঠা দেখাতে পারে, তেমনি হতে পারে সাশ্রয়ী হয়ে ওঠার কেন্দ্রবিন্দু। অনেক ডক্টরেট সমৃদ্ধ বর্তমান ক্যাবিনেট ওই দিকে না গিয়ে স্বৈরাচার সূচিত অত্যন্ত ব্যয়বহুল, কর্মে নিস্তেজ এবং দাবিতে উচ্চকিত প্রশাসনের ধ্বজা ধরে বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। অথচ তাদের অগ্রাধিকার থাকার কথা ছিল ব্যয়সংকোচন। এ প্রসঙ্গে তাদের নতুন মার্কিন প্রশাসনের দিকে একটু দৃষ্টি দিতে বলব। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় জয়লাভ করার পর প্রযুক্তির সহায়তায় ফেডারেল সরকারের ব্যয় কমাতে টেক জায়ান্ট ইলন মাস্ক ও ভিভেক রামেস্বামীকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তারা ফেডারেল সরকারের অন্তত ২ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থাৎ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ব্যয় কমাতে স্বল্পমেয়াদে DOGE (Department of Government Efficiency) গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন। এ জিনিসটা আমাদের জন্য একটা পথনির্দেশ হতে পারে।
এদিকে সরকারের কোষাগারে প্রয়োজনীয় অর্থ নেই। রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী অর্জিত হচ্ছে না; বিগত পাঁচ মাসে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি হয়েছে ৪২.৫ হাজার কোটি টাকা। বর্ধিত ব্যয় নির্বাহ করার জন্য রাজস্ব বাড়াতে সরকার যে নির্বাহী আদেশে কত রকম ফন্দিফিকির করছে, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। ব্যাংকে আমার দুটি সঞ্চয়ী হিসাব রয়েছে। ডিসেম্বর মাসে হিসাব সমাপনান্তে দেখি সে দুটি অ্যাকাউন্ট থেকে ৫,০০০ করে মোট ১০,০০০ টাকা আবগারি শুল্ক কর্তন করে নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে শতাধিক পণ্য ও পরিষেবার ওপর ভ্যাট আরোপের আদেশ জারি হয়েছে। এটা হলো ভোগ্যপণ্যের ওপর আরোপিত পরোক্ষ কর, যার আপাতন বেশিরভাগ গিয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে। আর উপদেষ্টারা মাঠে-ময়দানে বলে বেড়াচ্ছেন যে, কিছু পণ্যে ভ্যাট বাড়ায় তেমন অসুবিধা হবে না। এসব অসুবিধার জন্যই সাধারণ মানুষ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিল। আন্দোলনে যে দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ আত্মাহুতি দিল এবং ২০ হাজারের মতো মানুষ আহত হলো, তাদের বেশিরভাগই তরুণ ও দরিদ্র পরিবারের সন্তান; কোনো সরকারি চাকুরে কিন্তু এ আন্দোলনে শাহাদাতবরণ বা পঙ্গুত্ব ধারণ করেননি। সাধারণ মানুষ চেয়েছিল স্বস্তি, এখন তারা পেল ভ্যাটের ফিরিস্তি। তাও যদি সেটা উন্নয়নে বিনিয়োগের জন্য হতো, কথা ছিল না। এর এক বড় অংশ ব্যয় হবে আমলাদের সুযোগ-সুবিধা ও বর্ধিত বেতনভাতা বাবদ। গণমানুষের কর্মসংস্থান বা আয় বৃদ্ধি নিয়ে সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই; তারা হয়তো ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে’র পরিবর্তে ‘জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ’ পাবে, কিন্তু তাদের আয়-উন্নতির খতিয়ান থাকবে তথৈবচ। এর চেয়ে বড় পরিহাস আর কী হতে পারে?
কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে একদিন চায়ের আড্ডায় বন্ধুদের সঙ্গে খোশগল্প হচ্ছিল। তারা সবাই ছিলেন সরকারি মহলে দক্ষ কর্মকর্তা ও সজ্জন হিসেবে পরিচিত। মুদ্রাস্ফীতিতে জীবনযাপন ব্যয়বহুল হয়ে পড়ায় তারা সবাই এখন কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর পক্ষে। বেতন বাড়ানো হলে নুনের ছিটার মতো আমার পেনশনও হয়তো কিছুটা বাড়বে। তাই বেতন বাড়ানোর বিপক্ষে আমার অবস্থানকে তারা সেখানে স্ববিরোধিতা বলে ঘোষণা করলেন। তখন আমার বক্তব্য ছিল যে, বেতন বৃদ্ধিতে পেনশনাদের যে যৎসামান্য প্রাপ্তিযোগ ঘটবে, বেতন-বর্ধন-তাড়িত মুদ্রাস্ফীতি সেটা গিলে খাবে। কিন্তু সবারই বর্ধিত পরিবারের যে সব সদস্য যারা চাকরি করেন না, তাদের অবস্থা তো ত্রিশঙ্কু হয়ে পড়বে। গোদের উপর বিষফোড়ার মতো এই ব্যয় মেটাতে বর্ধিত বা নতুন শুল্ক আরোপ করা হবে, তখন সেটা জুলুমবাজ জমিদারদের আরোপিত ‘বিবিয়ানা’ বা ‘মোটরানা’র কথা স্মরণ করিয়ে দেবে (জমিদাররা নতুন বিয়ে করলে বা মোটর গাড়ি কিনলে প্রজাদের কাছ থেকে উল্লিখিত নামে নির্ধারিত খাজনার অতিরিক্ত কর আদায় করতেন)।
আমরা এমন এক সমাজে বাস করছি, যেখানে আয় ও সম্পদবৈষম্য দিনে দিনে চরম আকার ধারণ করছে; দরিদ্র মানুষের আয়ের অংশ ধনীদের চেয়ে অতি দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। সরকারের অনুসৃত স্বজনতোষণ নীতি, জবাবদিহি ও সুশাসনের ঘাটতি, অসঙ্গত অগ্রাধিকার নির্ধারণ, প্রশাসনিক অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনা, একপেশে সম্পদ বণ্টন, দুর্নীতি রোধে অন্তঃসারশূন্য বাগাড়ম্বর, অপব্যয় প্রভৃতি পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত ছিল এই অব্যবস্থার পরিবর্তন এনে শক্ত হাতে রাষ্ট্রের গতিপথ ঠিক করা এবং জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে কতগুলো স্বপ্নদর্শী লক্ষ্য অর্জনের জন্য সামাজিক চুক্তি সম্পাদন করা। তারপর দেশে স্থিতিশীলতা আনতে দ্রুত নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, সরকার তার মেয়াদ ও কৌশল সম্পর্কে সুস্পষ্ট করে কিছু বলছে না। আবার নিজের ক্ষমতা ও সক্ষমতা জাহিরও করছে না। আর এই সুযোগে বিভিন্ন প্রেশার গ্রুপ রাজপথ দখল করে দাবি আদায়ের পথ বেছে নিচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে সফলও হচ্ছে। ফলে আস্থাহীনতা, অস্থিতিশীলতা ও অনিশ্চয়তা জেঁকে বসেছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সাংঘর্ষিক কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করা যাচ্ছে; মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদ হার একের পর এক বাড়িয়ে চলেছে, অপরপক্ষে সরকার শতাধিক পণ্যে শুল্ক আরোপ করে মুদ্রাস্ফীতি উসকে দিচ্ছে। বাজার কারসাজি নিয়ন্ত্রণেও তেমন কোনো কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ফলে অর্থনীতিতে বিনিয়োগের পরিবেশ ভঙ্গুর হয়ে পড়ছে এবং কর্ম সৃজন স্থবির হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় জনমানুষকে স্বস্তি দিতে নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কর্ম সৃজন এই সরকারের প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত, অন্য কিছু নয়।
লেখক: সাবেক মহাপরিচালক খাদ্য অধিদপ্তর ও কলামিস্ট
