কর্মসূচি প্রত্যাহার সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:০৯ এএম

সরকারি সাত কলেজের সামনে দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস বা কোনো যানবাহন চলাচল করতে না দেওয়ার যে কর্মসূচি শিক্ষার্থীরা ঘোষণা করেছিলেন, তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিচার দাবি করে নিউ মার্কেট থানা ঘেরাওয়ের যে কর্মসূচি দিয়েছিলেন, সে অবস্থান থেকেও তারা সরে এসেছেন।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম এবং ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা শেষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী মো. মুঈনুল ইসলাম কর্মসূচি থেকে সরে আসার কথা জানান। গত সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকা কলেজের শহীদ মিনারে সংবাদ সম্মেলন করে ওই কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা।

মুঈনুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা কলেজের সামনে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস চলতে না দেওয়া ও নিউ মার্কেট থানা ঘেরাওয়ের যে কর্মসূচি আমরা দিয়েছিলাম, সেটি প্রত্যাহার করে নিলাম। আমাদের দাবিগুলো এখানে উপস্থাপন করেছি। দাবিগুলো বিভিন্ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মেনে নেওয়া হবে বলে আমাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।’

দাবিগুলো তুলে ধরে এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘সাত কলেজশিক্ষার্থী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘাতের দায় নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য মামুন স্যারকে ক্ষমাপ্রার্থনা করে পদত্যাগ করতে হবে। আমাদের এখান থেকে বলা হয়েছে, মামুন স্যার এখন থেকে ঢাকা কলেজসহ সাত কলেজের সংশ্লিষ্ট কোনো কমিটির সঙ্গে থাকবেন না। আর তার পদত্যাগের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য স্যারের সঙ্গে আলোচনা করে আগানো হবে। এ বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য স্যারের সঙ্গে বসবেন।’

ঢাকা কলেজশিক্ষার্থী রাকিবকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলাসহ শিক্ষার্থীদের ওপর নিউ মার্কেট থানা-পুলিশের যে আক্রমণ, সেটার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবির বিষয়ে মুঈনুল বলেন, ‘তদন্ত করার জন্য তিন দিন সময় নেওয়া হয়েছে। এই তিন দিনের মধ্যে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আমাদের জানানো হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছিল। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর আগে আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে আক্রমণ করেছিল, সেজন্য ক্ষমা চাওয়াসহ আমরা যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি স্যারের সঙ্গে বসব, সেখানে এ বিষয়টি সমাধান করা হবে। এ বিষয়ে এখান থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত বাতিলের যে দাবি, সেটি ইতিমধ্যে পূরণ হয়েছে।’

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘তাদের দাবি ও সমস্যা নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা হয়েছে। সেগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।’ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দপ্তরে এক বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বরাষ্ট্র) মো. খোদা বখস চৌধুরী, ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী রহমতুল্লাহ, ইডেন মহিলা কলেজের সাদিয়া আফরিন মৌ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি থেকে মুক্ত করে ঢাকার সরকারি সাত কলেজকে আলাদা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামোয় আনার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা গত রবিবার সন্ধ্যায় পাঁচ দফা দাবি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি মামুন আহমেদের সঙ্গে আলোচনা করতে যান। সেখানে তিনি ‘দুর্ব্যবহার’ করেন বলে পরে অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা। এর প্রতিবাদে রাতে শাহবাগ, সায়েন্সল্যাব ও টেকনিক্যাল মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। পরে সায়েন্সল্যাব মোড়ের অবরোধ থেকে মিছিল নিয়ে প্রোভিসি মামুন আহমেদের বাসভবন অভিমুখে রওনা হয় শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।

মিছিলটি নীলক্ষেত মোড় হয়ে ক্যাম্পাসের মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের সামনে এলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। আর সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থান নেয় বলে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ। পুলিশের বিরুদ্ধে ‘পক্ষপাতের’ অভিযোগ তুলে তারা হামলায় জড়িত সবার বিচারের দাবিতে সোমবার সকাল ৯টা থেকে নিজ নিজ কলেজের সামনের সড়ক অবরোধ করার ঘোষণা দেন।

এমন পরিস্থিতিতে সোমবার দুপুরে সাত কলেজের অধ্যক্ষদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করে সংবাদ সম্মেলনে আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান। তিনি ঘোষণা দেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অধিভুক্ত সাত কলেজের ‘সম্মানজনক পৃথককরণের’ সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ২০২৪-২৫ সেশন, অর্থাৎ চলতি বছর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সাত কলেজের শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত