জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চোখে ও মেরুদণ্ডে গুলিবিদ্ধ আরও দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর পাঠাল সরকার। তারা হলেন চোখে গুলিবিদ্ধ ইমরান হোসাইন ও মেরুদণ্ডে গুলিবিদ্ধ মহিউদ্দিন রাব্বি।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইট রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আহত দুজনকে নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। দুজনের মধ্যে ইমরানের চিকিৎসা হবে সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল আই সেন্টারে ও রাব্বির ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন এ তথ্য জানান। আন্দোলনে আহত ইমরান রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে এবং রাব্বি ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ২২ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাল সরকার। এর আগে সর্বশেষ গত ২৪ জানুয়ারি শুক্রবার সাতজনকে চোখের উন্নত চিকিৎসায় সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। তারা সবাই জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
বিদেশ পাঠানো ২২ জনের মধ্যে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছে ১১ জনকে। তাদের মধ্যে দুজন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন ও বর্তমানে ৯ জন সে দেশে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বাকি ১১ জনে থাইল্যান্ডে পাঠানো হয়েছে। এসব দেশে পাঠানো আহতদের চিকিৎসাব্যয় সরকার বহন করছে। এ ছাড়া আহতরা দেশের ভেতর বিনামূল্যে চিকিৎসা পাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই যারা বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ও চিকিৎসাব্যয় হয়েছে, সেই টাকাও ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
গত শনিবার স্বাস্থ্যবিষয়ক কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য শাহরিয়ার মোহাম্মদ ইয়ামিন দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছিলেন, উন্নত চিকিৎসায় আরও ১৫-২০ জনকে বিদেশে নিয়ে যাওয়া হবে। তারই অংশ হিসেবে গতকাল দুজনকে নিয়ে যাওয়া হলো। বাকিদের পাসপোর্ট, ভিসা ও বিদেশের যে হাসপাতালে চিকিৎসা নেবেন, সে হাসপাতালের ট্রিটমেন্ট প্ল্যানÑ ঠিক হয়ে গেছে।
এ ছাড়া আহতরা দেশেও বিনামূল্যে চিকিৎসা পাচ্ছেন। সরকারের পক্ষ থেকে সব বেসরকারি হাসপাতালকেও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা দিতে বলা হয়েছে। যেসব রোগী এর আগে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন, তাদের অর্থও ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন।
