স্টিভ স্মিথ অবশেষে পৌঁছে গেলেন সেই মাইলফলকে, যেখানে যেতে তিনি মাত্র ১ রান দূরে থেমেছিলেন সিডনিতে। গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনই ১০ হাজার টেস্ট রানের ক্লাবে নাম লিখিয়েছেন এই অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটার।
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে ১৩৭ রানে দুই উইকেট পতনের পর ক্রিজে আসেন স্মিথ। প্রথম বলেই প্রভাত জয়সুরিয়ার বলে মিড-অনে ঠেলে এক রান নিয়ে গড়ে ফেলেন ইতিহাস। সঙ্গী উসমান খাজার সঙ্গে মুহূর্তটি উদযাপন করেন তিনি। গ্যালারির ছোট্ট একদল অস্ট্রেলিয়ান সমর্থকও করতালিতে অভিবাদন জানায় তাদের ব্যাটিং ভরসাকে।
৩৫ বছর বয়সী স্মিথ এই কীর্তি গড়লেন অস্ট্রেলিয়ার তিন কিংবদন্তি অ্যালান বোর্ডার, স্টিভ ওয়াহ এবং রিকি পন্টিংয়ের পর চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে। গলেতে আবহটা সিডনির মতো জাঁকজমকপূর্ণ না হলেও মাইলফলকটি বিশেষ ছিল স্মিথের জন্য।
স্মিথ মাত্র ১১১ টেস্ট ইনিংসে এই অর্জন ছুঁয়েছেন, যা ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম। ব্রায়ান লারা (১১১ ইনিংস) সবচেয়ে কম ইনিংসে এটি করেছেন। অন্যদিকে শচীন টেন্ডুলকার, কুমার সাঙ্গাকারা (১৯৫ ইনিংস) এবং রিকি পন্টিং (১৯৬ ইনিংস) তুলনামূলক বেশি ইনিংসে ১০ হাজার রান করেছেন।
স্মিথ আসলে সিডনি টেস্টেই ১০ হাজার রান ছুঁতে পারতেন। কিন্তু ভারতের বিপক্ষে ঐ ম্যাচে তিনি ৩৩ রানে আউট হলে ৯ হাজার ৯৯৯ রানে আটকে যান। শেষ ইনিংসে মাত্র ৫ রান দরকার ছিল, কিন্তু প্রসিধ কৃষ্ণার অসাধারণ এক ডেলিভারিতে আউট হয়ে যান তিনি। এক ম্যাচেই দুইবার ৯ হাজার ৯৯০-র ঘরে আউট হওয়ার প্রথম ক্রিকেটার হয়ে যান স্মিথ!
স্মিথ মজার ছলে বলেন, 'প্রসিধের বলটা ছিল আসলে খুবই কঠিন। আমি ভাবছিলাম, একটা পাঞ্চ মারব পয়েন্টে, কিন্তু বল আচমকাই লাফিয়ে উঠল।'
স্মিথ অবশ্য আগেই বলেছিলেন, 'আমি মাঠে নামার সময় মাথায় রাখতে চাই না যে ৩৮ রান দরকার। আমি শুধু বর্তমানের উপর মনোযোগ দিতে চাই।'
স্মিথের সাম্প্রতিক ব্যাটিং ফর্ম নিয়ে সংশয় ছিল। কিন্তু ভারতের বিপক্ষে ব্রিসবেন (১০১) এবং মেলবোর্ন (১৪০) টেস্টে টানা দুটি সেঞ্চুরি করে তিনি জানিয়ে দেন, এখনো তার ব্যাটিং ধার কমেনি।
ফক্স ক্রিকেটকে স্মিথ বলেন, 'অনেকেই বলছিল, আমার চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে গেছে। আমি তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, একটু এগিয়ে খেলব যাতে বল দেখার সময় বেশি পাই।'
তিনি আরও বলেন, 'আমি সবসময় বলেছি, ফর্ম হারানো আর রান না পাওয়া এক জিনিস নয়। আমি শুধু রান পাচ্ছিলাম না।'
স্মিথের সামনে এখনো দীর্ঘ ক্যারিয়ার পড়ে আছে, আর অস্ট্রেলিয়া আশা করবে, তার ব্যাট থেকে আরও অনেক রান আসবে।
ফুটবলে ঘৃণার কোনো জায়গা নেই, রেফারিকে আর্তেতা
সান্তোসে রামোস পারেদেস পগবাদের চান নেইমার
বলিভিয়াকে হারিয়ে ফাইনাল হেক্সাগোনালের পথে আর্জেন্টিনা
সান্তোসে নেইমারের প্রত্যাবর্তন ম্যাচ ৫ ফেব্রুয়ারি!