বাটলার কোচ থাকলে আর খেলবেন না সাবিনারা

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:৩৬ পিএম

পিটার বাটলারের অধীনে অনুশীলন ক্যাম্পে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাফজয়ী বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড়েরা। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এই ব্রিটিশ কোচকে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকলে একযোগে অবসরের হুমকিও দিয়েছেন তারা। 

সন্ধ্যায় বাফুফে ভবনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ সব ঘোষণা দেন সাবিনা খাতুন, মনিকা চাকমা, মারিয়া মান্ডা, সানজিদা আক্তারসহ ১৮ ফুটবলার। এই সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তাদের অনেকেই। 

এক লিখতে বিবৃতিতে বাটলারের বিরুদ্ধে কাঠমান্ডুতে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের ঘটনা উল্লেখ করে খেলোয়াড়রা বলেন, '⁠বাংলাদেশের মহিলা ফুটবলে এই ঘটনা একেবারেই প্রথম। একটা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কোচ ভুলে যান যে তাঁর হাতে ৫টা পরিবর্তন আছে! সাফের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে আমরা যখন ১-০ গোলে হারার পথে, তখন হেড কোচ সানজিদাকে নামানোর সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু নামানোর সময় দেখেন খেলোয়াড় বদলের কাগজ তার কাছে নেই। আগে তিনটা পরিবর্তন করায় সঙ্গে থাকা তিনটি কাগজই শেষ হয়ে গেছে! তখন ম্যাচের ৯৫ মিনিট চলে। যেখানে বাংলাদেশ ১-০ গোলে পিছিয়ে রয়েছে। তখনও বাংলাদেশের হাতে ২টা খেলোয়াড় পরিবর্তনের অপশন ছিলো, কিন্তু কাগজ ছিলো না। ব্যপারটা খুবই লজ্জাজনক ও হাস্যকর। এতো বড় ডিগ্রিধারী কোচের থেকে এটা আশা করা যায় না।' 

তারা জানান, 'ওই ম্যাচেই কৃষ্ণাকে নামানোর আগ মূহুর্তে এক সহকারী কোচ তাঁর জার্সির নাম্বার জিজ্ঞেস করলে আরেকজন টিমমেট বলে দেয়। কৃষ্ণা তখনও সেভগার্ড পড়ায় ব্যাস্ত থাকায় দ্বিতীয়বার আবার জিজ্ঞেস করেন জার্সি নাম্বার। আবারও অন্য টিমমেট বলে দেওয়ায় কোচ রেগে কৃষ্ণার দিকে তেড়ে আসেন। মামুলি জার্সি নাম্বার না বলায় এরকম আচরণ কোনো কোচের পক্ষে সম্ভব কিনা আমাদের জানা নেই।' 

কেবল মাঠ নয়, মাঠের বাইরেও প্রতিনিয়ত কোচ তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ করেন ফুটবলাররা, 'দলের অভ্যন্তরে খেলোয়াড়দের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়রের কথা বলে বিভাজনের সৃষ্টি করেছেন। মেয়েদের পোশাক-আশাক নিয়ে কথা বলতে ছাড়েননি। বডি শেমিংও করেছেন। মেয়েদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলেন, বাজে মন্তব্য্ও করেন কোচ। আমাদের বিরুদ্ধে কোচ সবসময় শৃঙ্ক্ষলাভঙ্গের অভিযোগ করেন। এটা যে ডাহা মিথ্যা কথা, তার বড় প্রমাণ হলো, অতীতের কোন কোচ মেয়েদের শৃঙ্ক্ষলা নিয়ে কখনো কোন প্রশ্ন তুলতে পারেননি। পিটাররে এরকম উল্টাপাল্টা আরচণের বিষয়গুলো সহকারী কোচরা্ও জানেন। কিন্তু তারা চাকুরি যা্ওয়ার ভয়ে মুখ খোলেন না।' 

খেলোয়াড়রা জানান, এসব বিষয় জানিয়ে বাফুফের মাননীয় সভাপতির কাছে বুধবার একটি চিঠি দিয়েছেন তারা। সেখানে উল্লেখ করেছেন, কোচের কারণে ক্যাম্পে একটি আতঙ্ক বিরাজ করছে। খেলোয়াড়রাও তাতে ভীষণ অসম্মানিত এবং হতাশার মধ্যে সময় কাটাচ্ছে। খেলোয়াড়রা, বিশেষ করে দলের সিনিয়র সদস্যরা, ধারাবাহিক বৈষম্য এবং অন্যায় আচরণের শিকার হচ্ছেন। কোচের এসব আচরণ কেবল অবমাননাকর নয়, দলগতভাবে পারফরর্ম করার ক্ষেত্রেও বাধা সৃষ্টি করেছে। এটা মানতে হবে যে, কোচিংয়ে শুধুমাত্র কৌশল এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা থাকলেই হয় না বরং পারস্পরিক সম্মান, বিশ্বাস এবং সমর্থনের পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষমতাও কোচের থাকতে হয়। দুর্ভাগ্যবশত, কোচ পিটারের নেতৃত্বে, খেলোয়াড়রা বিচ্ছিন্ন এবং হতাশাগ্রস্ত বোধ করে, যা একটি বাজে সংস্কৃতি তৈরি করেছে।।' 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত