ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের পর বিশাখাপত্তনমে ভারতের বিপক্ষে এক টি-টোয়েন্টিতে ৪৭ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান জশ ইংলিস। কিন্তু ২০২৪-এর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তবুও তাকে খেলায়নি অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকেরা। এবার শ্রীলঙ্কায় টেস্ট সফরে হঠাৎ করে লাল বলের দলে জায়গা দেন তারা ইংলিসকে। কনস্টাসকে বাদ দিয়ে গল টেস্টে অভিষেকেরও সুযোগ দেন। কাল নিয়মিত উইকেটকিপার অ্যালেক্স ক্যারির আগে খেলতে নেমে ৯০ বলে সেঞ্চুরি করে ইংলিস জানান দিয়েছেন, যে কোনো ফরম্যাটেই খেলার যোগ্যতা রাখেন তিনি।
৫৮টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার পর ২৯ বছর বয়সে টেস্ট অভিষেকের উপলক্ষটা রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরিতে রাঙালেন ইংলিস। ৯০ বলে সেঞ্চুরি টেস্ট অভিষেকে দ্বিতীয় দ্রুততম।
২০১৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মোহালিতে অভিষেকে ৮৫ বলে সেঞ্চুরি করে চূড়ায় আছেন ভারতের শিখার ধাওয়ান। ২০০৪ সালে কেপ টাউনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অভিষেকে ৯৩ বলে সেঞ্চুরি করা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডোয়াইন স্মিথ নেমে গেছেন এখন তালিকার তিন নম্বরে। একশর কম বলে অভিষেকে সেঞ্চুরি আছে আর কেবল একজনের। ২০১৮ সালে রাজকোটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৯৯ বলে তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন ভারতের পৃথ্বি শ।
একটি জায়গায় অবশ্য ইংলিস ছাড়িয়ে গেছেন সবাইকে। ১০ চার ও এক ছক্কায় ৯৪ বলে ১০২ রান করে আউট হয়েছেন তিনি। স্ট্রাইক রেট ১০৮.৫১। টেস্ট অভিষেকে সেঞ্চুরি করা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেটের ইনিংস এটিই।
অস্ট্রেলিয়ার ৪৭০তম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট ক্যাপ পান ইংলিস। এর মধ্যে তিনিসহ অভিষেকে সেঞ্চুরি করতে পেরেছেন কেবল ২১ জন। উপমহাদেশে তৃতীয় অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন তিনি। ২০০৪ সালে বেঙ্গালুরুতে ভারতের বিপক্ষে মাইকেল ক্লার্ক ও ২০১১ সালে পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শন মার্শ অভিষেকে সেঞ্চুরি করেছিলেন। এই তিন জন ছাড়া দেশের বাইরে অভিষেকে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সেঞ্চুরি করতে পেরেছেন আর কেবল চার জন।
স্যাম কনস্টাসের জায়গায় ট্রাভিস হেডকে ওপেনিংয়ে তুলে আনায় ইংলিস এই ম্যাচে খেলার সুযোগ পেয়েছেন মিডল অর্ডারে। কিপার হলেও বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান হিসেবেই ম্যাচটিতে খেলছেন তিনি। ১৪১ রান করে স্টিভেন স্মিথের বিদায়ের পর পাঁচ নম্বরে যখন ব্যাটিংয়ে নামেন ইংলিস, ততক্ষণে চারশ পেরিয়ে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে গেছে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম বলেই লেগ স্পিনার জেফ্রি ভ্যান্ডারসেকে চার মেরে রানের খাতা খোলেন তিনি। পরে তার রানের গতি কমে যায় কিছুটা। প্রথম ১৫ রান করতে খেলেন ২১ বল। এরপর আবার গতি বাড়িয়ে ৫১ বলে পূর্ণ করেন পঞ্চাশ। সেখান থেকে পরের পঞ্চাশ করতে লাগে মাত্র ৩৯ বল। পরের ওভারেই বাঁহাতি স্পিনার প্রাবাথ জায়াসুরিয়ার বলে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় তার রেকর্ড গড়া ইনিংস।
এই ইনিংসের পথে চতুর্থ উইকেটে উসমান খাওয়াজার সঙ্গে ১৪৬ রানের জুটি গড়েন তিনি। ওপেনার খাওয়াজা করেন ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি (৫০৩ মিনিটে ২৩২)। আর অধিনায়ক স্টিভ স্মিথের সেঞ্চুরি (১৪১)তে ৬ উইকেটে ৬৫৪ রান তুলে নিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে অস্ট্রেলিয়া, যা এশিয়ায় তাদের সর্বোচ্চ ইনিংস।
১৫৪ ওভার ফিল্ডিংয়ে থাকার পর ব্যাট করতে নেমে ১৫ ওভারে ৪৪ রান তুলতে ৩ উইকেট হারিয়েছে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা।
বাটলার কোচ থাকলে আর খেলবেন না সাবিনারা
বিপিএলে পারিশ্রমিক কেলেঙ্কারি তদন্তে ‘সত্যানুসন্ধান কমিটি’