বিচারপতির পদ ছাড়লেন শাহেদ নূরউদ্দিন

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:২৩ এএম

সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল কর্তৃক অনুসন্ধান চলমান থাকাবস্থায় পদত্যাগ করলেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিন। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে তার পদত্যাগপত্র পাঠান। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটের ‘নিউজ আপডেট’র স্ক্রলে বলা হয়েছে, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল কর্তৃক অনুসন্ধান পরিচালনাধীন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিন প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে নিজ স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। গত বছরের মধ্য অক্টোবরে প্রধান বিচারপতির বরাত দিয়ে হাইকোর্টের যে কয়েকজন বিচারককে বেঞ্চ না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছিল তাদের মধ্যে শাহেদ নূরউদ্দিনও ছিলেন। গত ৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে বলা হয়, বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৬ (৫) (বি) অনুচ্ছেদ অনুসরণ রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন বিচারপতির বিষয়ে তদন্তের জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছে নির্দেশনা পাঠিয়েছেন। সে অনুযায়ী সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কয়েক দিন পর থেকে তদন্ত শুরু করে।

সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে গত ১৬ অক্টোবর বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের অবস্থান ও বিক্ষোভের সময় কয়েকজন বিচারপতির পদত্যাগের দাবি ওঠে। এদিন প্রধান বিচারপতির বরাত দিয়ে হাইকোর্ট বিভাগের ১২ বিচারককে বেঞ্চ না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানায় সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। তারা হলেন বিচারপতি আতাউর রহমান খান, বিচারপতি নাইমা হায়দার, বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ, বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার, বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাস, বিচারপতি খিজির হায়াত, বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামান, বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামান, বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিন, বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামান, বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলাম ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসাইন দোলন। এই বিচারকরা ওইদিন থেকে বিচারকাজের বাইরে ছিলেন এবং তারা ছুটিতে যান। এর আগে পাঁচ বছরের বেশি সময় আগে অসদাচরণের অভিযোগ ওঠা তিন বিচারক গত বছরের ১৯ নভেম্বর পদত্যাগ করেন। তারা হলেন সালমা মাসুদ চৌধুরী, কাজী রেজা-উল হক এবং এ কে এম জহিরুল হক।

২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে আলোচিত ২১ আগস্ট মামলার রায় দিয়েছিলেন শাহেদ নূরউদ্দিন। এ রায়ে ১৯ জনকে মৃত্যুদ- ও ১৯ জনের যাবজ্জীবন সাজা হয়। পরে ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদ- অনুমোদন) ও আপিলের ওপর শুনানি নিয়ে গত বছরের ৩০ নভেম্বর হাইকোর্ট এ মামলার সব আসামিকে খালাস দেয়। এ ছাড়া তিনি আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলা, সাবেক ডেপুটি স্পিকার হুমায়ুন খান পন্নি হত্যা মামলা, সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার নিউটন হত্যা মামলা, ফরিদপুরের সাংবাদিক গৌতম দাস হত্যা মামলার রায় দিয়েছিলেন। ১৯৬০ সালে জন্ম নেওয়া শাহেদ নূরউদ্দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিলাভের পর ১৯৮৩ সালের ২০ এপ্রিল জুডিশিয়াল সার্ভিসে মুন্সেফ হিসেবে যোগ দেন। এরপর ২০০০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি তিনি জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদোন্নতি পান। ২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর তিনি হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। এর দুই বছর পর তিনি হাইকোর্টে স্থায়ী হন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত