আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অচিরেই সুফল পাবে ঢাকা

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:৫১ এএম

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। অচিরেই আইনশৃঙ্খলার সুফল মিলবে। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি প্রধান) অতিরিক্ত কমিশনার রেজাউল করিম মল্লিক এ কথা বলেন।

ডিবি প্রধান বলেন, আমরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছি, ঢাকাসহ সারা দেশে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে যা যা করণীয় দরকার পুলিশ তা করছে। ছিনতাইকারী যারা বিঘ্ন সৃষ্টি করছে তাদের ধরার জন্য আমাদের ডিবির স্পেশাল টিমগুলো দিনরাত ২৪ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছে। আমার মনে হয় আমরা অচিরেই সুফল পাব। আমাদের যে আইনানুগ ব্যবস্থা রয়েছে, আমাদের সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ছিনতাইকারী, অন্যায়কারী সবাইকেই আমরা আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হব।

জামিনে মুক্তি পাওয়া ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’দের বিষয়ে এক প্রশ্নে ঢাকার ডিবি প্রধান বলেন, পিচ্চি হেলাল বা ইমনসহ শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রুপের যেই থাকুক তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসব। ইতিমধ্যে এসব গ্রুপের কয়েকজন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। তবে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের এখনো ‘ট্রেস’ করা সম্ভব না হলেও প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান ডিবির এই কর্মকর্তা।

এর আগে ডিবির কয়েকটি অভিযানে আসামি গ্রেপ্তারের তথ্য তুলে ধরে অতিরিক্ত কমিশনার রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, গত ২৮ জানুয়ারি দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সামনে মিনহাজ নামের এক শিক্ষার্থীকে হত্যার ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় একটি মামলা হয়। এর প্রেক্ষিতে শুক্রবার পটুয়াখালী থেকে কিং মাহফুজ গ্রুপের প্রধান মাহফুজ সরকারসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের বাকিরা হলেন জাহিদুল ভূঁইয়া শাওন, সাব্বির সরকার, আশিক ও সোহান মিয়া। এর আগে এই ঘটনায় আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান আরও বলেন, মিনহাজকে পূর্ব শক্রতার জের ধরে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে গ্রেপ্তার কিং মাহফুজ গ্রুপের রাজনৈতিক পরিচয় আমরা এখনো জানতে পারিনি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি, ঘটনার সঙ্গে যারই সংশ্লিষ্টতা থাকুক আমরা তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসব।

গত ২১ জানুয়ারি পল্টনের বিজয়নগর এলাকায় ছুরিকাঘাতে প্রাইভেটকার চালক মোহাম্মদ সাজু মিয়া হত্যাকা-ের ঘটনায় শুক্রবার রাতে কুমিল্লা থেকে রোকন মিয়া নামে একজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন ডিবির এই কর্মকর্তা। রোকন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকা-ের কথা স্বীকার করেছেন জানিয়ে রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে সেদিন সাজু মিয়াকে ছুরিকাঘাত করে মোবাইল-মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে মোবাইলটি মতিঝিল এলাকার এক লোকের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেদিন তার সঙ্গে আসিফুজ্জামান লিসান, মোহাম্মদ মিজান এবং মোহাম্মদ সজীব ছিলেন। ইতিমধ্যে লিসান ও সজীব মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত ৩০ জানুয়ারি আদাবরে চাপাতির কোপে সুমন শেখ নামে এক যুবকের কবজি বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় শুক্রবার ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে আলমগীর, শাহজাহান, তরিকুল ইসলাম ও রাহাত হোসেন নামে চারজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। এ ছাড়া শুক্রবার রাতে ঢাকার রামপুরা এলাকা শামীম হোসেন নামে এক ছিনতাইকারীকে ছিনতাইয়ের সময় ‘হাতে-নাতে’ গ্রেপ্তার করেন। তার বিরুদ্ধে টঙ্গী পূর্ব থানায় ছিনতাই ও ডাকাতি প্রস্তুতির ঘটনায় সাতটি মামলা রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত