লিওনেল মেসি যখন বার্সেলোনায় ছিলেন, তখন চারটি বিশ্বকাপে খেলেও ট্রফির স্বাদ পাননি। ক্লাবের সাফল্যের ভার, আর্জেন্টিনার ব্যর্থতার চাপ—সব মিলিয়ে তার জাতীয় দলের ক্যারিয়ার ছিল দুঃখভারাক্রান্ত। কিন্তু ২০২১ সালে পিএসজিতে যাওয়ার পরই যেন সব বদলে যায়। ক্লাব ফুটবলের চাপ কমে যাওয়ায় জাতীয় দলে আরও স্বচ্ছন্দে খেলতে শুরু করেন মেসি, যার চূড়ান্ত পুরস্কার আসে ২০২২ বিশ্বকাপে।
এবার নেইমারের ক্ষেত্রেও কি ঘটতে যাচ্ছে তেমন কিছু?
মাত্র ২১ বছর বয়সে ইউরোপে পাড়ি জমিয়ে বার্সেলোনায় যোগ দেন নেইমার। তারপরের গল্প এক বিস্ময় ও বিতর্কের মিশ্রণ—চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন, কিন্তু কখনোই ছিলেন না মূল কেন্দ্রবিন্দু। ২০১৭ সালে রেকর্ড ট্রান্সফারে পিএসজিতে গিয়েও তেমন কিছুই বদলায়নি। দলের সবচেয়ে বড় তারকা হতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ছায়ায় পড়ে গেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পের।
এরপর সৌদি আরবে যাওয়ার সিদ্ধান্ত আরও এক ব্যর্থতার প্রতিচিত্র। ৭৭ মিলিয়ন পাউন্ডের ট্রান্সফার, সপ্তাহে ২.৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বেতন—কিন্তু ইনজুরির কারণে মাত্র ৭ ম্যাচ খেলেই শেষ হয়ে যায় তার অধ্যায়।
এখন নেইমার ফিরছেন সান্তোসে। যেখানে তার কোনো বড় ট্রফি জয়ের চাপ থাকবে না, নেই থাকবে ইউরোপিয়ান ফুটবলের বিশাল প্রত্যাশা। তার সামনে এখন একটাই সুযোগ—চাপমুক্ত থেকে নতুন করে জাতীয় দলের জন্য নিজেকে গড়ে তোলা।
মেসির মতো নেইমারেরও জাতীয় দলে একাধিক হৃদয়ভাঙা মুহূর্ত আছে। ২০১৪ বিশ্বকাপে ইনজুরিতে ছিটকে যাওয়া, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায়—সবমিলিয়ে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার হতাশার গল্পেই ঠাসা।
তবে বয়স এখনো ৩২ হয়নি, ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ থাকছে। যদি তিনি সত্যিই নিজেকে পুনর্গঠন করতে পারেন, তাহলে হয়তো তাকেও এক নতুন রূপে দেখা যাবে।
কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—নেইমার কি পারবেন মেসির মতো চাপমুক্ত থেকে ফুটবলের পরম আরাধ্য ট্রফিটা জিততে? নাকি এই প্রত্যাবর্তন হবে কেবল অতীতের স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার এক প্রচেষ্টা?
নাটকীয়তার ছোঁয়া নিয়ে আবার মুখোমুখি ম্যানসিটি-আর্সেনাল