বলিউডের পরিচিত মুখ ঋদ্ধি ডোগরা। অভিনেত্রী হিসেবে পার করছেন দুই দশক। প্রযোজনার মাধ্যমে বিনোদনজগতে হাতেখড়ি হলেও নৃত্যশিল্পী-সঞ্চালক হিসেবে দেখা গেছে তাকে। কাজ করেছেন বলিউড কিং শাহরুখ খানের সঙ্গে। ‘জওয়ান’ সিনেমায় ছিলেন শাহরুখের মায়ের চরিত্রে। পরে ‘দ্য সবরমতী রিপোর্ট’ সিনেমায়।
নিজেকে ‘অ্যাক্সিডেন্টাল অ্যাকটর’ মনে করেন ঋদ্ধি। ফিল্মফেয়ারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি আসলে কেবল শুরু করেছি। পরিকল্পনা করে কাজ করিনি, এখনো করি না।’ অভিনয়ের জন্য চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন ঋদ্ধি। বলেন, ‘আমরা সবাই চাকরি করতে পছন্দ করি, যেখানে মাসের শেষে বেতন পাই। সেটা ছেড়ে অভিনেত্রী হয়ে গেলাম।’
ক্যারিয়ারে শুরুতে টিভিতে এবং পরে ছয় বছর ওটিটিতে কাজ করেছেন তিনি। অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি টেলিভিশন ছেড়ে ওটিটিতে ঢুকলাম। এমন নয় যে, আমি এখন স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি। তবে আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ, এত দীর্ঘ সময় ধরে আছি।’
সবরমতী রিপোর্ট প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, ‘প্রযোজক অমল (মোহন) আমার কাছে এসেছিলেন। আমি খুব সন্দিহান ছিলাম। আমি এক রকম না বলে দিয়েছিলাম। তবে তিনি জোর দিয়েছিলেন যেন একবার পরিচালকের সঙ্গে দেখা করি। এভাবেই এটি হয়েছে।’
সবরমতীতে একজন সাংবাদিক চরিত্রে অভিনয় করেছেন ঋদ্ধি। সাংবাদিকের ভূমিকায় কোন বিষয়টি আকৃষ্ট করেছে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘প্রতিপক্ষের চরিত্রে অভিনয় করা সবসময়ই রোমাঞ্চকর। তবে আমি সবসময় লিডিং লেডির চরিত্রে অভিনয় করেছি। এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ আমি যাই করি না কেন আমাকে চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে হবে। আমাকে এটি বিশ্বাসযোগ্য চরিত্র বানাতে হয়েছিল।’
শাহরুখ খানের মায়ের চরিত্র অভিনয় করা নিয়ে ঋদ্ধি বলেন, ‘আমি এটা করার বিষয়ে নিশ্চিত ছিলাম না। প্রচণ্ড দুশ্চিন্তার মধ্যে শুটিং করেছি। এটা যে আমার জন্য সহজ ছিল তা নয়। মজার ঘটনা হলো যখন পরিচালক অ্যাটলি আমার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন, আমি প্রত্যাখ্যান করেছি। অ্যাটলি আমাকে কাস্ট করতে চেয়েছিলেন।’
জওয়ান নিয়ে তিনি বলেন, ‘শাহরুখ খান, দীপিকা পাড়ুকোন, অ্যাটলি, বিজয় সেতুপতি ও ফারাহ খান খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ। এমনকি সালমান খানও। তারা তাদের সফলতার পরও বিনয়ী। যখন তাদের মতো লোকদের সঙ্গে দেখা করবেন তখন আপনি ভালো বোধ করেন।’
ঋদ্ধি বলেন, ‘এমন ঘটনাও ঘটেছে যখন আমি কলাকুশলীদের সঙ্গে বসেছিলাম। আমি জানি না দীপিকা ইচ্ছাকৃতভাবে এটি করেছিলেন কি না। তবে আমার মনে আছে আমরা একটি দৃশ্য করছিলাম এবং তিনি আমার সঙ্গে বসেছিলেন। উপস্থিত ছিলেন তার টিমও। আমি সাধারণত মানুষের ব্যক্তিগত জায়গায় হস্তক্ষেপ করি না। আমার অভ্যাস আছে কাউকে না চিনলে সরে যাওয়া। তাই চেয়ারটা একটু পেছনে ঠেলে দিলাম।’ ‘আমার মনে আছে দীপিকা তার চেয়ারটি পেছনে টেনে আমার সঙ্গে একই লাইনে বসেছিলেন। এটা খুবই সামান্য ব্যাপার হতে পারে, তবে আমার মনে দাগ কেটেছে।’
অ্যানিমেল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অ্যানিমেলে যা দেখেছি তা আলাদা ছিল। অনেক ভয়ংকর পুরুষ আছে যারা নারীদের প্রতি করুণা করে। তবে আমি এটাও মনে করি, অনেক পুরুষ বা ছেলে রয়েছে যারা আসলেই ভালো, নম্র-ভদ্র।’
