গাজা দখলের ঘোষণা ট্রাম্পের, তীব্র নিন্দা সৌদি আরবের

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:১৬ এএম

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার দখল নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কাজ করবে। তবে তার আগে সেখানকার ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের ‘অন্য কোথাও’ সরিয়ে নেওয়া হবে। ওয়াশিংটন সফররত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক যৌথ সম্মেলনে এই বিস্ময়কর পরিকল্পনার কথা জানান ট্রাম্প। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি। এমনকি এভাবে গাজা দখল করে দীর্ঘসময় সেই দখল ধরে রাখার এখতিয়ার আছে কি না যুক্তরাষ্ট্রের, এ প্রশ্নেরও সরাসরি জবাব দেননি তিনি।

সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র গাজা উপত্যকার দখল নেবে এবং আমরা সেখানে কিছু কাজও করব। আমরা এর মালিকানা নেব এবং সেখান থেকে সব বিপজ্জনক, অবিস্ফোরিত বোমা অকার্যকর করব ও অন্যান্য অস্ত্র সরিয়ে নেব। তিনি আরও বলেন, তেমনটা হলে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং এটা এমন একটা কিছু হবে যার জন্য পুরো মধ্যপ্রাচ্য গর্বিত হবে। যুক্তরাষ্ট্র গাজা দখল করে নেওয়ার পর সেখানে কারা থাকবেন, এ প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, এটা সারা বিশ্বের মানুষের বাড়ি হবে।

তবে বিশ্লেষকদের মত, ট্রাম্পের এই বক্তব্যে বেশ কয়েক দশক ধরে ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র যে নীতিমালা ও দৃষ্টিভঙ্গি অবলম্বন করে এসেছে তা থেকে সরে আসার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। মঙ্গলবার আবারও ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে সরিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে পুনর্বাসনের পরিকল্পনার কথা জানান ট্রাম্প। তিনি গাজাকে ‘ধ্বংসস্তূপ’ বলে উল্লেখ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্যের মাধ্যমে ভবিষ্যতে গাজাকে একটি পর্যটন বান্ধব, সমুদ্র তীরবর্তী অবকাশ যাপন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার চিন্তাধারা ফুটে উঠেছে।

এদিকে ট্রাম্পের এই প্রস্তাবের নিন্দা জানিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ আরব মিত্র সৌদি আরব। ট্রাম্পের বক্তব্যের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দেশটি বলেছে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করবে না তারা। বুধবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জোরের সঙ্গে এ কথা বলেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে রিয়াদ বলেছে, ফিলিস্তিনিদের তাদের ভূখণ্ড থেকে সরানোর যেকোনে চেষ্টার বিরোধিতা করবে সৌদি আরব। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীনভাবে নিজের দেশের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। ফিলিস্তিন নিয়ে তাদের অবস্থান বদলানো, আলোচনা বা দর-কষাকষির কোনো সুযোগ নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত