এলিটা করিম। গান করছেন দীর্ঘদিন। ব্যান্ডের পাশাপাশি গেয়েছেন বিভিন্ন মিশ্র অ্যালবামে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে মাত্র তিনটি অ্যালবাম। ডেব্যু অ্যালবাম ‘এলিটা’ বেরোয় ২০১৫ সালে। পরের বছর ‘চলো উৎসবে’। সর্বশেষ প্রকাশিত হলো ‘চিনি দেড় চামচ’। তার কথা শুনেছেন নাজমুস সাকিব রহমান
সংগীতাঙ্গনে দুই দশক ও পরিবর্তন
আমি আন্ডারগ্রাউন্ড কনসার্টের মাধ্যমে সংগীতাঙ্গনে এসেছি। তখন সিডিতে গান বেরোত। এরপর সোশ্যাল মিডিয়া এসে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হাজির হয়েছে। স্পটিফাইসহ অনেক মিউজিক প্ল্যাটফর্ম আছে। এখন আমি ডিজিটালি মিউজিক কিনি, ডিজিটালি ডিল করি। আমাদের কনসার্ট, আর্টিস্ট-অর্গানাইজারদের চিন্তা সবই বদলেছে। প্রতি দু-তিন বছর পরপর বিশ্ব বদলায়, কাজের ধরন বদলায়। দুই দশকেও তা হয়েছে।
এখন কেউ কেউ বলতে পারেন সিডি বের করেন। কিন্তু আমি ডিজিটাল মিউজিক অফ করে দিতে পারব না। অর্থাৎ সিডির জমানায় যখন আমার গান বের হতো, তখন সবার বাসায় সিডি প্লেয়ার ছিল। কম্পিউটারে ডিস্ক ছিল। এখনো বেরোলে বিক্রি হবে। কিন্তু সংখ্যাটা অনেক কম। বিশেষ করে ডিজিটাল মিউজিকের তুলনায়। এই পরিবর্তনগুলো স্বাভাবিকভাবেই হয়েছে এবং আমিও সেভাবে নিয়েছি।
‘শ্লোক’ এবং ‘যখনই নিবিড় করে’
ব্ল্যাকের জন্য যখন গান করি, তখন আমি অনেক ইয়াং ছিলাম। ‘শ্লোক’ ছাড়াও ব্ল্যাকের কয়েকটি গানে আমার ভয়েস আছে। প্রথম গানটা ছিল ‘মিথ্যা’। যেটা ব্ল্যাকের প্রথম অ্যালবামে ছিল। বেশিরভাগই ইমন জুবায়েরের লেখা। আমি তখন এত কিছু জানতাম না। ওরা বলত আমি গাইতাম। পরে জন ভাই ইমন জুবায়েরের সঙ্গে দেখা করতে নিয়ে যান। একবারই দেখা হয়েছিল। উনি নিজের দুনিয়ায় থাকতেন। তার কথাবার্তা আমার ভালো লেগেছিল। অন্যরকম মানুষ ছিলেন।
আর ‘যখনই নিবিড় করে’ যখন গাই, তখন ফুয়াদ আল মুক্তাদির অনেকগুলো মিক্সড নিয়ে কাজ করছিলেন। নিলয় দাসের এই গানটার মূল সুরকার ফুয়াদ নাসের বাবু। লিখেছেন আহমেদ ইউসুফ সাবের। গানটি যখন করি, তার আগের বছর মারা যান নিলয় দাস। তখন এখনকার মতো টেকনোলজি ছিল না। আমি মূল গানটা শুনতাম এবং নিজের মতো করে বুঝে নিয়ে ফুয়াদের মিউজিকে টেক দিয়েছি। গানটার শেষ ভার্সটা আমার পছন্দের। আমি লাকি যে গানটা সব জায়গায় কভার করতে পারি। নিলয় দাশ বড় গিটারিস্ট ছিলেন। তার অনেক স্টুডেন্ট আছেন যারা এখন সিনিয়র। তাদের কাছে যখন শুনি নিলয় দাশ কেমন মেন্টর ছিলেন, শুনতে ভালো লাগে।
বিভিন্ন প্রজন্মের সঙ্গে গান
ব্ল্যাক যেহেতু ব্যান্ড তাদের কম্পোজিশন, স্টাইল সব আলাদা। আবার যারা সুর করেন, কম্পোজিশন করেন, তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টা অন্যরকম। বাচ্চু ভাই (আইয়ুব বাচ্চু) যখন জীবিত ছিলেন তার সঙ্গে লাইভ শো করেছি। পিলু খানের ক্ষেত্রে জানি না কার সঙ্গে তুলনা করব। তার মাথায় প্রচুর সুর আসে। উনি লিরিকস নিয়ে ভাবেন। মিটারের বিষয় থাকে। আগে সুর করলে ওভাবেই লিখতে বলেন। ট্যাকনিক্যালি উনি আলাদা। আর প্রিন্স মাহমুদের কাজও অন্যরকম। ওনার মেলোডি খুব সুন্দর। উনি যখন গান বানান, লিরিকসটাও লেখেন। আমি যেসব গান ওনার সঙ্গে করেছি, সবই তার লেখা-সুর। উনি একজন পারফেকশনিস্ট। যখন আমরা গান রেকর্ড করি স্টুডিওতে কয়েকবার টেক নেন। মাঝখানে আবার চেঞ্জও করেন, যাতে আরেকটু ভালো শোনায়। একেকজন একেকভাবে কাজ করেন। তবে আমি অনেক লাকি, ব্যান্ড ছাড়াও সব ধরনের মিউজিশিয়ানের সঙ্গে কাজের সুযোগ পেয়েছি।
সিগনেচার সং ‘কোথায়’
গানটা লিখেছেন ও সুর করেছেন আশিক রহমান। এটা রেকর্ড করেছিলাম রাগার জন্য। তারপর সব জায়গায় গাওয়া শুরু করলাম। এটা একটা লাভ সং। গানটা অনেক প্রশান্তি দেয়, সুরটা সহজ, লিরিকসও। গানটা খুব সুন্দর করে মানুষের সঙ্গে কানেক্ট করেছে। এখন আমি যখন কোথাও গানটা গাই, তখনো কানেক্ট করে। দুই দশক পর আমি বলব, এটা একটা এভারগ্রিন সং। তখনকার জেনারেশনের সঙ্গে গানটা যেভাবে কানেক্ট করে, এখনো তাই করছে।
পপ নিয়ে কথকতা
আমি তো পপই গাই। যদিও সবই চেষ্টা করেছি। গত মাসে একটা গান বেরিয়েছে। নাম, ‘বাগান বিলাস’। সুর ও সঙ্গীত করেছেন প্রীতম হাসান । লিখেছেন ইনামুল তাহসিন। এই গানটা এখন ইউটিউবে ট্রেন্ডিংয়ে আছে। এটা একটা মিউজিক্যাল ফিল্ম। এতে জয়া আহসান আছেন। আমি ও প্রীতম আছি। গানটা খুবই জনপ্রিয় হয়েছে। যারা এ ধরনের গান শুনতে ভালোবাসে, তারা পছন্দ করেছে।
নিজেকে নিয়ে
আমি প্রধানত একজন শিল্পী এবং একজন জার্নালিস্ট। এই দুটো আমার প্রফেশন। অন্তত ২০ বছরের বেশি সময় ধরে গান করছি বা সাংবাদিকতা করছি; আর তা প্রায় একই সময়ে। ২০০৩ সালে ডেইলি স্টারে ট্রেইনি রিপোর্টার হিসেবে শুরু করেছিলাম। গত বছর ছেড়েছি। তার আগে অনেক ভূমিকায় কাজ করেছি। আমি এখন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকতা করছি। লেখালেখি করছি। এটা আসলে ব্লাডে আছে, বন্ধ করা যাবে না। আমার মনে হয়, একই সময় শুরু করেছি বলে হয়তো ব্যালান্স করতে পেরেছি। পাশাপাশি আমার এডুকেশন ফিল্ডের প্রতি প্যাশন আছে। যখনই সময়-সুযোগ পাই, এটা নিয়ে ব্যস্ত থাকি। চেষ্টা করি আরও শেখার, আরও জানার।
