ধীরে ধীরে মুখর হয়ে উঠেছে অমর একুশে বইমেলা। বিশেষ করে মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে বিকেলে যেন ঢল নামে। শুরুর কয়েকদিন খুব বেশি দর্শনার্থী দেখা না গেলেও দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিতি বাড়ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার মেলার ষষ্ঠ দিনে দর্শক সমাগম অন্যান্য দিনের চেয়ে বেশি দেখা যায়। স্টল-প্যাভিলিয়নেও দেখা গেছে ভিড়। স্টলগুলোতে দর্শনার্থীরা ঘুরে ঘুরে বই দেখছেন। তবে বিক্রেতারা বলছেন, দর্শকদের ভিড় থাকলেও সে অনুযায়ী বাড়েনি বইয়ের বিক্রি। তবে আজ শুক্রবার বিক্রি ও দর্শনার্থী বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।
পুথিনিলয় প্রকাশনীর বিক্রেতা মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের নির্দিষ্ট কিছু বই বেশি বিক্রি হচ্ছে। কাক্সিক্ষত বই বিক্রি হচ্ছে বলা চলে। আমি বলব, পাঠক মাত্র আসা শুরু করেছে। সামনের দিনগুলোতে বই বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা রাখছি।’
আহমেদ প্রকাশনীর প্রকাশক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘মেলায় যে হারে মানুষ এসেছে সে হারে বিক্রি হয়নি। অনেকে দলবলে স্টলে আসেন।
তাদের মধ্যে কেউ বই কিনেন, আবার কেউ কিনেন না। তাই স্টলের সামনে জটলা থাকলেও বই বিক্রি তেমন বাড়েনি।’
শোভা প্রকাশের প্রকাশক মিজানুর রহমান বলেন, ‘শুরুর তুলনায় এখন দর্শনার্থী মেলায় আসছেন তবে সবাই শুধু ঘুরছেন আর দেখছেন। বই কেনায় আগ্রহ অনেক কম দেখছি। বিক্রি প্রত্যাশা অনুযায়ী অনেক কম। আশা করি, আগামীতে বাড়বে।’
প্রথমার বিক্রয়কর্মী আনাস বলেন, ‘গত কয়েকদিনের তুলনায় দর্শনার্থী বাড়ছে। আর আমাদের স্টলে বিক্রিও খুব কম নয়, তবে প্রত্যাশা পূরণ করছে না। কাল (শুক্রবার) ছুটির দিন থাকায় আশা করি, অনেক ভালো বিক্রি হবে। দর্শনার্থীর সংখ্যাও দিন দিন আরও বাড়বে। আমাদের এখানে সাজ্জাদ শরিফ সম্পাদিত ‘গণ-অভ্যুত্থানের সাক্ষ্য’ এবং অধ্যাপক আসিফ নজরুলের লেখা ‘শেখ হাসিনার পতনকাল’ বই দুটি বেশি বিক্রি হচ্ছে। পাঠকরা অভ্যুত্থানকেন্দ্রিয় বই বেশি খুঁজছেন।’
বইমেলায় ঘুরতে এসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইমদাদুল আজাদ। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘মেলায় ঘুরে ঘুরে বই দেখছি আর কিছু লিস্ট করছি। শেষদিকে বইগুলো কেনার ইচ্ছে আছে। এর আগেও এক দিন মেলায় এসেছিলাম। তার তুলনায় দর্শনার্থী বেশি মনে হয়েছে। আশা করি, শুক্রবার থেকে মেলা আরও বেশি জমবে।’
গতকাল অমর একুশে বইমেলা ২০২৫-এর ষষ্ঠ দিন। মেলা শুরু হয় বিকেল ৩টায় এবং চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। মেলায় গতকাল নতুন বই এসেছে ৮০টি। বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘স্মরণ: মাহবুবুল হক’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তারিক মনজুর। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মাহবুব বোরহান এবং মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান। সভাপতিত্ব করেন সৈয়দ আজিজুল হক।
সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ আজিজুল হক বলেন, ‘মাহবুবুল হক বাংলা ভাষার উৎকর্ষ সাধনে আজীবন নিবেদিত ছিলেন। প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণেই তিনি একজন মানবিক, সুশৃঙ্খল ও সামাজিক দায়বোধসম্পন্ন মানুষ হয়ে উঠতে পেরেছিলেন। তার আলোকিত জীবন ও সৃজন আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগাবে।
লেখক বলছি মঞ্চে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন কবি টোকন ঠাকুর ও কবি জাকির আবু জাফর।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন কবি সাখাওয়াত টিপু এবং কবি জব্বার আল নাঈম। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী শহীদুল ইসলাম এবং আশরাফুল হাসন বাবু। গতকাল ছিল শাহাবুদ্দিন আহমেদ দোলনের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সুরসুধা সংগীতায়ন’ এবং সাইফুল ইসলামের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘উজান’-এর পরিবেশনা।
বইমেলার দুদিনের পরিবর্তিত সময়সূচি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাজনিত কারণে আগামী ৮ ও ১৫ ফেব্রুয়ারি তারিখ বইমেলা শুরু হবে বেলা ১১টার পরিবর্তে দুপুর ২টায়। এ দুদিন মেলায় থাকবে না পূর্বঘোষিত শিশুপ্রহর।
আজকের অনুষ্ঠানসূচি : আজ শুক্রবার বইমেলা শুরু হবে বেলা ১১টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মেলায় থাকবে শিশুপ্রহর। এ ছাড়া অমর একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে সকাল সাড়ে ৮টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের প্রাচ্যকলা বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুস সাত্তার।
