প্রাথমিকে সাড়ে ৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ বাতিল

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৫:১৮ এএম

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে তৃতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে চূড়ান্ত ফলাফলে উত্তীর্ণ সাড়ে ৬ হাজার প্রার্থীর নিয়োগ বাতিল করে রায় দিয়েছে উচ্চ আদালত। এ-সংক্রান্ত রিট আবেদনের ওপর দেওয়া রুল যথাযথ ঘোষণা করে গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি ফাতেমা নজিব ও বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজীর সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।

লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পর গত বছরের ৩১ অক্টোবর ৬ হাজার ৫৩১ পরীক্ষার্থীকে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ দেখিয়ে ফলাফল প্রকাশ ও পরে তাদের নিয়োগ বিষয়ে নির্দেশনা প্রকাশিত হয়।

এদিকে গতকাল হাইকোর্টের এ রায়ের পর আড়াই শতাধিক প্রার্থী আদালতের সামনে বিক্ষোভ করেন। রায় শুনে তাদের অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তারা সুপ্রিম কোর্ট অ্যানেক্স ভবনের সামনে বসে অবস্থান নেন। দুপুর পৌনে একটার দিকে তারা সচিবালয় অভিমুখে রওনা হন এবং সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

সহকারী শিক্ষক পদে তৃতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে চূড়ান্ত ফলাফলে উত্তীর্ণ ব্যক্তিদের নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি অনুসরণের অভিযোগে নিয়োগ না পাওয়া ৩০ প্রার্থী হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন।

গত বছরের ১৯ নভেম্বর হাইকোর্টের একই বেঞ্চ নিয়োগের কার্যক্রম স্থগিত করে। পাশাপাশি ফলাফল ও নিয়োগের নির্দেশনা-সংবলিত স্মারকের বৈধতা নিয়ে রুল দেয়। সেই রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে গতকাল এ রায় দেয় আদালত। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান ভূঁইয়া ও ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আখতার হোসেন মো. আবদুল ওয়াহাব।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, নিয়োগের প্রক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ যে সিদ্ধান্ত (৯৩ শতাংশ মেধা) দিয়েছিলেন, তা অনুসরণ করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘হাইকোর্টের এ রায়ের বিষয়টি অ্যাটর্নি জেনারেলকে অবহিত করা হয়েছে। আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে কি না, তা পূর্ণাঙ্গ রায় পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত হবে।’ 

রিটকারীদের আইনজীবীদের অভিযোগ, সাড়ে ৬ হাজার প্রার্থীকে নিয়োগের ক্ষেত্রে আগের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৯ অনুসরণ করা হয়, যেখানে নারী কোটা ৬০ শতাংশ এবং পোষ্য কোটা ২০ শতাংশ ছিল। ফলে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলযোগ্য। আপিল বিভাগের রায়ে কোটাপদ্ধতি সংশোধনের পর গত বছরের ২৩ জুলাই কোটাপদ্ধতি সংশোধনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবরের জারি করা পরিপত্রসহ আগের এ-সংক্রান্ত সব পরিপত্র, প্রজ্ঞাপন বা আদেশ রহিত করে সরকারি চাকরিতে ৭ শতাংশ কোটা রাখা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত