ম্যানচেস্টার সিটি আবারও প্রিমিয়ার লিগের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নামল। এবার তারা চ্যালেঞ্জ করেছে অ্যাসোসিয়েটেড পার্টি ট্রানজ্যাকশনস (এপিটি) সংক্রান্ত নতুন নিয়ম—যা গত নভেম্বরে ক্লাবগুলোর ভোটে অনুমোদিত হয়েছিল।
এর আগে, সিটির আপত্তির ভিত্তিতে এপিটি নিয়মের কিছু দিককে অবৈধ ঘোষণা করেছিল সালিসি আদালত। তবে নতুন নিয়মেও আপত্তি জানিয়ে সিটি ২০ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে নতুন এক সালিসি মামলা শুরু করেছে। প্রিমিয়ার লিগের প্রধান নির্বাহী রিচার্ড মাস্টার্স বৃহস্পতিবার ক্লাবগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সিটির দাবি ও প্রিমিয়ার লিগের অবস্থান
ম্যানচেস্টার সিটি নতুন এপিটি নিয়মকে 'বেআইনি ও বাতিলযোগ্য' বলে দাবি করছে। অন্যদিকে, প্রিমিয়ার লিগ বলছে, নতুন নিয়ম সব ধরনের প্রতিযোগিতা আইনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মাস্টার্স জানিয়েছেন, তারা দ্রুত এ মামলা নিষ্পত্তি করতে চান এবং একই সালিসি ট্রাইব্যুনাল দিয়ে বিষয়টি পরিচালিত হবে।
নভেম্বরে যখন নতুন এপিটি নিয়ম অনুমোদিত হয়, তখন সিটি, অ্যাস্টন ভিলা, নিউক্যাসল ও নটিংহ্যাম ফরেস্ট এর বিরুদ্ধে ভোট দেয়, আর চেলসি ভোটদানে বিরত থাকে। ভোটের আগেই সিটি অন্য ক্লাবগুলোকে সতর্ক করেছিল যে, যদি নিয়ম পাস হয়, তাহলে তারা আইনি পদক্ষেপ নেবে। ভিলা সেই সময় এক চিঠিতে বলেছিল, 'নতুন নিয়ম পাস হলে তাৎক্ষণিকভাবে সিটির মামলা হবে, যা লিগের জন্য সময় ও অর্থের অপচয় ঘটাবে।'
ট্রান্সফার ব্যয় নিয়ে গার্দিওলার বক্তব্য
এদিকে, ম্যানচেস্টার সিটি এই শীতকালীন ট্রান্সফার উইন্ডোতে ৪ জন খেলোয়াড়ের জন্য ১৭২ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করেছে। কিছু গুঞ্জন ছিল, যদি ক্লাব দোষী সাব্যস্ত হয়, তাহলে সম্ভাব্য ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর জন্যই তারা আগেভাগে এই বিনিয়োগ করেছে।
তবে সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা এ অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তার ভাষায়, 'আমরা যা খরচ করেছি, সেটার তুলনায় শেষ পাঁচ বছরে আমরা ‘বিগ সিক্স’-এর মধ্যে সবচেয়ে কম খরচ করা দল। তবুও মানুষ ভাবে, এটা শুধু টাকার খেলা। আমরা চেলসি, ম্যান ইউনাইটেড, আর্সেনাল, টটেনহ্যাম, এমনকি লিভারপুলের চেয়েও কম খরচ করেছি।'
সিটির নতুন সাইনিংগুলোর মধ্যে নিকো গনজালেজ দলে এসেছেন রদ্রির দীর্ঘমেয়াদি চোটের কারণে। তবে চমকপ্রদভাবে, চোটের কারণে মৌসুমের বাকি সময় মাঠের বাইরে থাকার শঙ্কা থাকা সত্ত্বেও রদ্রিকে সিটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
গার্দিওলা বলছেন, 'আমরা তিনজন খেলোয়াড়কে স্কোয়াডে নিতে পারতাম। ভিতর রেইস ছিল সবচেয়ে অনভিজ্ঞ, তাই তাকে বাদ দিতে হয়েছে। আমি চাইবো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ধাপে পৌঁছাতে এবং রদ্রি যদি ফিরে আসে, তাহলে সেটা আমাদের জন্য ভালো হবে। কিন্তু আমার ধারণা, সে পরের মৌসুমে ফিরবে।'
সিটির বিরুদ্ধে ১৩০ অভিযোগের রায় আসছে শিগগিরই
ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার লিগের নিয়ম লঙ্ঘনের ১৩০টি অভিযোগ রয়েছে, যার বিষয়ে রায় এই বসন্তেই আসার কথা। গার্দিওলা জানিয়েছেন, রায় প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি পুরো পরিস্থিতি নিয়ে নিজের মতামত জানাবেন।
ম্যানচেস্টার সিটি ও প্রিমিয়ার লিগ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
নতুন সংকট; বদলে যেতে পারে পাকিস্তানের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দল
দলের সবাইকে আইফোন ১৬ উপহার ফরচুন বরিশালের
কোন মানদণ্ডে ‘উদয়ীমান খেলোয়াড়’ হলেন তানজিদ?