বরগুনার আমতলী ও সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে ৪১ জন আহত হয়েছেন।
বরগুনার আমতলী পৌরসভার বটতলা ঢাকা বাসস্ট্যান্ডের ইউনিক পরিবহনের কাউন্টার দখলকে কেন্দ্র করে উপজেলা যুবদল ও পৌর বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে ১৬ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত ১১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে বটতলা থেকে আমতলী বাঁধঘাট চৌরাস্তা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ওই কাউন্টার দখল নিয়ে পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কবির ফকির ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সামসুল হক চৌকিদারের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। চার মাস ধরে কবির ফকির কাউন্টার পরিচালনা করছেন।
এদিকে গত ২৭ জানুয়ারি ইউনিক পরিবহন কর্তৃপক্ষ সামসুল হক চৌকিদারকে লিখিতভাবে কাউন্টার পরিচালনার দায়িত্ব দেয়। গতকাল শনিবার সকালে সামসুল হক চৌকিদারের লোকজন কাউন্টারের দখল নিতে যান।
এ সময় কবির ফকিরের চাচাতো ভাই উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল ফকিরের দুই ছেলে ফরহাদ ফকির ও রাহাত ফকিরের নেতৃত্বে তার লোকজন এসে বাধা দেয়। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জের ধরে দুপুরে সামসুল হক চৌকিদার ও কবির ফকিরের লোকজনের মধ্যে সংঘর্র্ষে ১৬ জন আহত হন। গুরুতর আহত রাহাত ফকির, ফরহাদ ফকির, আলী, সামসুল হক চৌকিদার, রেজাউল চৌকিদার, বেল্লাল চৌকিদার, আল আমিন, মিজানুর, শহীদ, বায়েজিদ ও মিল্টনকে আমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত অন্যদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
সামসুল হক চৌকিদার বলেন, ‘ইউনিক পরিবহন কর্তৃপক্ষ গত ২৭ জানুয়ারি আমাকে লিখিতভাবে কাউন্টার পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। কিন্তু কবির ফকির কাউন্টার জোরপূর্বক দখলে রেখেছেন। গতকাল আমি কাউন্টারে গেলে কবির ফকিরের লোকজন আমার লোকজনকে কুপিয়ে জখম করেছে। এতে আমিসহ ১০ জন আহত হন।’
আমতলী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কবির ফকির বলেন, ‘আমার কাউন্টার সামসুল হক চৌকিদার ও তার লোকজন দখল করতে যায়। এতে আমার লোকজন বাধা দেয়। ক্ষিপ্ত হয়ে সামসুল হক চৌকিদার ও তার লোকজন আমার দুই ভাতিজাসহ সাতজনকে কুপিয়ে জখম করেছে।’
আমতলী থানার ওসি আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষে এক সাংবাদিকসহ ২৫ জন আহত হয়েছেন। গতকাল দুপুরে মনিরামপুর বাজারের জেলা পরিষদ মার্কেটের সামনের সড়কের এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে জেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য গোলাম সরোয়ার ২০/৩০ সমর্থক নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশের সময় জেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির অন্য সদস্য ড. এমএ মুহিতের সমর্থক ও নেতাকর্মীরা বাধা দেন। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ২৫ জন আহত হন।
