বই কেনায় হিসেবি পাঠক

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:২৬ এএম

অমর একুশে বইমেলা শুরু হলেই নতুন বইয়ের গন্ধে যেন মৌমাছির মতো ছুটে আসেন বইপ্রেমীরা। তাই তো ফেব্রুয়ারি মাসের শুরু থেকেই দেখা যায় বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নামে বইপ্রেমীদের ঢল। মেলার প্রথমদিকে পাঠকের আনাগোনা কম থাকলেও শুক্র এবং শনিবার ছুটির দিনে ছিল উপচে পড়া ভিড়। আর তাতে বিক্রিও বেড়েছে আগের তুলনায়। তবে কাগজের দাম বৃদ্ধির প্রভাব বইয়ের বাজারে পড়ায় বিপাকে পড়ছেন প্রকাশক ও পাঠক উভয়ই। দাম বেশি থাকায় অনেক পাঠক চাইলেও কিনতে পারছেন না পছন্দের বই। তারা বলছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে বইয়ের দামটাও বেড়ে যাওয়ায় চাইলেও আগের মতো কিনতে পারছেন না তারা। পাঠকের কথা বিবেচনায় নিয়ে বইয়ের দামে সমন্বিত সিদ্ধান্তে আসা যেত বলে মনে করছেন তাদের কেউ কেউ।

বই কেনার জন্য তালিকা তৈরি করে মেলায় এসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরমান আহমেদ। তিনি বলেন, ‘পছন্দের ১০টি বইয়ের তালিকা হাতে নিয়ে মেলায় এসেছি। কিন্তু এসে দেখি বাজেটের তুলনায় বইয়ের দাম অনেক বেশি। তাই এখনো কিনতে পারছি না। অনেক হিসাব-নিকাশ করে চলতে হয়। বইয়ের দাম আগের মতো থাকলে এত চিন্তা করা লাগত না। এখন কেন জানি বইয়ের আশপাশে যেতেও ভয় লাগে।’

একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘যে বইটা ভালো লাগে সেটা কিনতে গিয়ে আবার থমকে যাই। কেননা দাম অনেকটা সাধ্যের বাইরে। বলা যায় সাধ আছে সাধ্য নেই। পছন্দের এবং ভালো বইগুলোর দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বা তারচেয়েও বেশি। এত টাকা দিয়ে বই কেনা সবার পক্ষে সহজ নয়। তবুও অতি জরুরি দুই-একটা বই কিনছি।’

পুনর্মুদ্রিত বইয়েরও উচ্চমূল্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে আরেক পাঠক আব্দুর রহমান বলেন, ‘মেলায় নতুন বইয়ের দাম কিছুটা বাড়বে সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু মেলায় এসে দেখি, আগের বইও পুনর্মুদ্রণ করে দাম বাড়ানো হয়েছে। এত দাম বাড়লে তো বই কেনা যাবে না। বেশ কয়েকটি বই কেনার জন্য তালিকা করে মেলায় এসেছিলাম। কিন্তু সে আশায় গুড়েবালি।’

প্রকাশকরা বলছেন, কাগজের দাম বাড়ায় তারা বাধ্য হয়েছেন বইয়ের দাম বাড়াতে। যে হারে কাগজের দাম বাড়ছে, সেই হারে বইয়ের দাম না বাড়ানোর চেষ্টা করছেন তারা। নতুন বই কম ছাপানোর পাশাপাশি বিক্রিও এবার কম হচ্ছে বলে জানান তারা। এ ছাড়া অনেক প্রকাশক বলছেন, চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বই ছাপাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

শোভা প্রকাশের প্রকাশক মিজাজুর রহমান বলেন, ‘এবার কাগজের দাম অনেক বেশি, প্রতিদিনই বাড়ছে। প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও অনেক বই ছাপাতে পারিনি। বইপ্রতি অন্তত ১০০ টাকা বাড়ছে দাম। আর তাতে শুরু থেকেই বিক্রিও কম।’ এবার বিক্রি তেমন ভালো হবে না বলে আফসোস প্রকাশ করেন তিনি।

ভাষাচিত্রের স্বত্বাধিকারী খন্দকার সোহেল বলেন, ‘বইয়ের সংখ্যা এবার অবশ্যই কমে এসেছে। আমিও ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও অনেক বই করতে পারিনি। পা-ুলিপি তৈরি আছে। কিন্তু সাহস পাই না। অসংখ্য প্রকাশক বই প্রকাশ কমিয়ে দিয়েছেন। গত দুই বছর আগে যে বইটার দাম ছিল ২০০ টাকা, সেটার দাম এবার ৩৫০-৪০০ টাকা। স্বভাবতই এত টাকা দিয়ে এ রকম চিকন একটা বই আমাদের পাঠকরা কিনবেন বলে মনে হয় না।’

গতকাল ছিল অমর একুশে বইমেলার অষ্টম দিন। মেলা শুরু হয় দুপুর ২টায় এবং চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। এদিন মেলায় নতুন বই এসেছে ১০২টি।

শিশু-কিশোর সংগীত প্রতিযোগিতা : অমর একুশে বইমেলা উদযাপনের অংশ হিসেবে সকাল সাড়ে ৯টায় বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে শিশু-কিশোর সংগীত প্রতিযোগিতার প্রাথমিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ক-শাখায় ৩৪ জন, খ-শাখায় ৬৬ জন এবং গ-শাখায় ৩৯ জনসহ সর্বমোট ১৩৯ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে।

আলোচনা অনুষ্ঠান : বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে হয় ‘একজন মোহাম্মদ হারুন-উর-রশিদ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আবদুস সেলিম এবং মোহাম্মদ হারুন রশিদ। সভাপতিত্ব করেন খালিকুজ্জামান ইলিয়াস। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, অধ্যাপক মোহাম্মদ হারুন-উর-রশিদ উচ্চশিক্ষার মাধ্যম হিসেবে বাংলা প্রচলনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী বিরল প্রকৃতির একজন মানুষ।

আজকের অনুষ্ঠান : আজ রবিবার অমর একুশে বইমেলার নবম দিন মেলা শুরু হবে বিকেল ৩টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত ‘স্মরণ : মাকিদ হায়দার’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন চঞ্চল আশরাফ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন আসিফ হায়দার এবং সৈকত হাবিব। সভাপতিত্ব করবেন আতাহার খান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত