গাজীপুরে কাসেমের জানাজা ও দাফনে মানুষের ঢল

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৩:৪০ এএম

গাজীপুরের ধীরাশ্রমে আওয়ামী লীগের লোকজনের হামলায় নিহত শিক্ষার্থী আবুল কাসেমের জানাজার নামাজ গাজীপুরে রাজবাড়ী ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজায় বিএনপি, জামায়াত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা, পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শত শত লোক উপস্থিত ছিলেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা থেকে আবুল কাসেমের মরদেহ বহনকারী একটি গাড়িতে রাজবাড়ীতে এসে পৌঁছায়। এর আগে থেকেই শত শত লোক রাজবাড়ী ময়দানে এসে উপস্থিত হয়। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজবাড়ীতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে তার লাশ বোর্ডবাজারের দক্ষিণ কলমেশ্বর বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে আরেকটি জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

জানাজায় অংশ নেন গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার ডা. নাজমুল করিম খান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জাহিদুল ইসলাম, গাজীপুর জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মামুন আল রশিদ, রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) মো. রায়হানুল ইসলাম, গাজীপুর মহানগর জামাতের আমির অধ্যক্ষ জামাল উদ্দিন, গাজীপুর সদর মেট্রো থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান এলিস, টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির সভাপতি বশির উদ্দিন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির সদস্য ইমতিয়াজ আহমেদ তানভীর, হেফাজতে ইসলাম গাজীপুরের আমির নাসির উদ্দিন, ছাত্র অধিকারের নেতা ফরিদুজ্জামান জাহিদ মহানগর বিএনপি নেতা প্রভাষক বশির উদ্দিন, ইসলামী ছাত্রশিবির জেলা কমিটির সভাপতি রেজাউল করিম। এ সময় মহানগর বিএনপি নেতা ড. শহিদুজ্জামান, গণমাধ্যমবিষয়ক সম্পাদক সাংবাদিক দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জানাজার আগে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ড. নাজমুল করিম খান বলেছেন, বাংলাদেশে যারা পলাতক তারা আবারও হায়নার মতো আক্রমণ করেছে। সে আক্রমণের মাধ্যমে আজকের প্রথম শহীদ আবুল কাসেম।

তিনি বলেন, অপারেশন ডেভিল হান্টের মাধ্যমে প্রচুর সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি, সন্ত্রাসীরা কোনো দলের হয় না। ফ্যাসিবাদ কোনো দলের হয় না। যারা রাজনীতি করে তারা ফ্যাসিবাদ হয় না। হতে পারে না। রাজনীতি আর ফ্যাসিবাদ এক জিনিস নয়। জনগণের রাজনীতি যারা করে আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করতে চাই। আমরা জনগণের কল্যাণে যারা কাজ করে তাদের সঙ্গে কাজ করতে চাই। আমরা পুলিশ জনগণকে নিয়ে সব সন্ত্রাসীকে দমন করতে চাই। সব ক্রিমিনালকে আইনের আওতায় আনতে চাই। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আপনারা প্রতিরোধ গড়ে তুলুন পুলিশ আপনাদের সঙ্গে আছে, প্রশাসন আপনাদের পাশে আছে। কখনোই আর ওই হায়নার দল আর মাথা চারা দিয়ে উঠতে পারবে না।’

এদিকে শহীদ আবুল কাসেমের একমাত্র ছোট বোনের লেখাপড়া ও বিয়ের দায়িত্ব নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

গাজীপুর মহানগরীর ধীরাশ্রম দক্ষিণখান এলাকায় সাবেক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের পৈত্রিক বাড়িতে গত শুক্রবার রাতে দুষ্কৃতকারীরা হামলা চালায়। খবর পেয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যরা হামলাকারীদের প্রতিহত করতে সেই বাড়িতে যান। এ সময় পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগের লোকজন ছাত্রদের ওপর হামলা চালায়।

হামলায় ১৭ জন গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাদের মধ্যে কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার বিকেলে আবুল কাশেম মারা যান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত