প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৩:৪৫ এএম

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সভাপতি করে সাত সদস্যের জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়েছে। সহসভাপতি হিসেবে আছেন সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আবদুর রশীদ স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগামীকাল শনিবার থেকে কমিশন কাজ শুরু করবে। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনব্যবস্থা, পুলিশ, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, সংবিধান ও দুর্নীতি দমন বিষয়ে সংস্কারের জন্য গঠিত কমিশনগুলোর সুপারিশগুলো বিবেচনা ও জাতীয় ঐকমত্য গঠনের জন্য রাজনৈতিক দল ও শক্তিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে এ কমিশন।

এদিকে ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রথম বৈঠকও একই দিন হওয়ার কথা রয়েছে। ইতিমধ্যে যে ছয়টি সংস্কার কমিশন পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সেগুলো নিয়েই শুরু হবে সংলাপ। প্রথম বৈঠকটি একসঙ্গে সব দলের সঙ্গে হবে।

তবে সংলাপে বরাবরের মতো এবারও পতিত আওয়ামী লীগসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিপক্ষে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো আমন্ত্রণ পাচ্ছে না বলে সরকারি সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

ঐকমত্য কমিশনের সদস্য হিসেবে আছেন জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন প্রধান আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী, পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রধান সফর রাজ হোসেন, নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের প্রধান বিচারপতি এমদাদুল হক এবং দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. ইফতেখারুজ্জামান।

কমিশনের মেয়াদ হবে কার্যক্রম শুরুর তারিখ হইতে ছয় মাস। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় এই কমিশনকে সাচিবিক সহায়তা দেবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।

এর আগে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছিলেন, বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের সুপারিশমালা নিয়ে চলতি মাসের ‘মাঝামাঝি সময়ে’ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় সরকার। রাজনৈতিক দলগুলো চাইলে রোজার মধ্যেও আলোচনা চলবে।

শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক বিফ্রিংয়ে তিনি বলেন, ‘ছয়টি সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন অনলাইনে আপলোড করা হয়েছে। কমিশনগুলো বিভিন্ন পর্যায়ে সংস্কারের কথা বলেছে। কিছু সংস্কার প্রস্তাব দীর্ঘমেয়াদি, যেগুলো নির্বাচিত সরকার বাস্তবায়ন করবে। আশু করণীয় যেগুলো আছে, আশা করছি, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচনের আগেই করা হবে। মধ্যমেয়াদি যেসব সংস্কার প্রস্তাব আছে, সেগুলো নির্ভর করবে রাজনৈতিক দলগুলো কতটুকু করতে রাজি আছে, তার ওপর।’

রাষ্ট্র সংস্কারে গঠিত ১১টি কমিশনের মধ্যে ছয়টি কমিশন ইতিমধ্যে প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এগুলো হলো প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ এবং সংবিধান সংস্কারে গঠিত কমিশন। বাকি পাঁচটি কমিশনের প্রতিবেদন এ মাসেই জমা পড়ার কথা রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত