কাইফোসিস হলো মেরুদ-ের রেখার অস্বাভাবিকতা, যা নানা কারণে বেঁকে যেতে পারে। সাধারণত প্রত্যেকের শরীরেই প্রায় ২৫ থেকে ৪৫ ডিগ্রি ব্যাপ্তিতে একটি বাঁকা মেরুদ- থাকে। কিন্তু কাইফোসিস আক্রান্তদের কারও কারও মেরুদ-ের বক্রতা ৫০ ডিগ্রি বা তারও বেশি পৌঁছতে পারে। এই অবস্থা হলে অনেক সময় আক্রান্ত ব্যক্তিটির মাথা নত রাখতে হয়। কিছু সমস্যা হলেও অনেকের আবার চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। এ সময় চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার পদ্ধতির মাধ্যমে রোগীকে সুস্থ হতে হয়।
লক্ষণ : ডান এবং বাম কাঁধের উচ্চতায় পার্থক্য। স্ক্যাপুলার উচ্চতা বা অবস্থানের পার্থক্য। মাথা শরীরের অন্যান্য অংশের চেয়ে বেশি এগিয়ে বা সামনে দেখায়। নিচে বাঁকানোর সময় ওপরের পিঠ অস্বাভাবিকভাবে উঁচু দেখায়। হ্যামস্ট্রিংয়ের পেশি টান অনুভব করে। তবে প্রাথমিক অবস্থায় কোনো লক্ষণ দেখা যায় না।
কারণ
পোস্টারাল কাইফোসিস
পোস্টারাল কাইফোসিস বৃদ্ধির সময় দেখা যায়। এটি ৫০ ডিগ্রি বা তারও বেশি বর্ধিত হয়। এই কাইফোসিস হলে ব্যথা তেমন অনুভূত হয় না। সাধারণত ভুল দেহভঙ্গি বা আচরণের কারণে ঘটে থাকে।
স্কিউম্যানের কাইফোসিস
এর ফলে মেরুদ- অস্বাভাবিক বিকাশ হয়। মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। সাধারণত এর বক্রতা শক্ত হয় এবং বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আরও খারাপ হয়। আক্রান্ত ব্যক্তি সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।
জন্মগত কাইফোসিস
গর্ভাশয়ে থাকা অবস্থায় মেরুদ-ের অস্বাভাবিক বিকাশের কারণে এই ধরনের কাইফোসিস হয়। জন্মগত কাইফোসিসের সঠিক কারণ কী তা জানা যায়নি।
চিকিৎসা : বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এটি ভুল দেহভঙ্গির কারণে হয়। এই ধরনের রোগীদের কেবল ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে তাদের দেহভঙ্গি উন্নত করা হয়। কাইফোসিসের চিকিৎসায় যে ধরনের ওষুধ ব্যবহৃত হয় তা হলো ব্যথা উপশমকারী যেমন প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন, পাশাপাশি অস্টিওপরোসিসের ওষুধ। স্কিউম্যানের কাইফোসিস আক্রান্ত বাচ্চাদের মধ্যে সতর্কতা জরুরি। যাতে মেরুদ- বাঁকা হয়ে না যায়। এ ধরনের রোগে চিকিৎসকরা হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে সহায়তা করার জন্য রোগীদের প্রায়শই ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ খাবার
গ্রহণ, মদ্যপান না করা এবং ধূমপান এড়াতে বলেন।
