জেলা, উপজেলা ও গ্রামাঞ্চলে যেসব ব্যবসায়ী, চিকিৎসক ও আইনজীবী এবং সরকারি-বেসরকারি কর্মজীবী রয়েছেন; তাদের মধ্যে করযোগ্য আয় যাদের আছে, তাদের করের আওতায় আনার জন্য উদ্যোগ নিতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত দ্বিতীয় অধিবেশন শেষে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘গ্রামে অনেকে কর দেওয়ার মতো অর্থ উপার্জন করছেন বলে ডিসিরা জানিয়েছেন। কিন্তু তারা কর দিচ্ছেন না। আমরা এখন কর সংগ্রহ বাড়িয়ে রাজস্ব বাড়াতে চাই। এ বিষয়ে এনবিআর এখন উদ্যোগ নেবে। এ লক্ষ্যে করযোগ্য আয় যাদের আছে, তাদের একটি তালিকা প্রস্তুত করে দেবেন ডিসিরা।’
উপদেষ্টা জানান, ব্যবসায়ীরা যে বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করেন, চিকিৎসক ও আইনজীবী যে ফি নেন, তাদের রসিদ বা ডিজিটাল পেমেন্ট মেথডে এনে তাদেরও করের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, দেশের চিকিৎসক-আইনজীবীরা সরাসরি ক্যাশ লেনদেন করেন। এ কারণে তাদের করের আওতায় আনা যায় না। চিকিৎসকরা যে ফি নেন, তার রসিদ তো কোনো মানুষ নেয় না। এই ফি যদি ডিজিটাল মাধ্যমে দেওয়া হয়, তাহলে কিন্তু তার একটা রেকর্ড থাকে। বিদেশে এগুলো সব রেকর্ড করা হয়।
প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে করের আওতা বাড়িয়ে রাজস্ব আরও বিস্তৃত করতে পারি। মোটকথা জোর করে করের পরিমাণ না বাড়িয়ে করের আওতা বা নেট বাড়ানো হবে। আমাদের নিবন্ধিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান আছে ৫০ থেকে ৬০ লাখ। কিন্তু কর দেয় মাত্র পাঁচ লাখ। তিনি বলেন, দেশে যেসব দুর্গম এলাকা রয়েছে, সেগুলোতে যোগাযোগ ব্যবস্থা বাড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের ব্যবস্থার কথা বলেছেন ডিসিরা। তারা বলেছেন, এসএমই খাতে ছোট উদ্যোক্তা ঋণ পায় না। সেগুলোর বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নেব।
উপদেষ্টা আরও বলেন, গ্রামাঞ্চলে কৃষি এখন একটি বড় উৎস। সেটা ঠিক না থাকলে আমরা এত মানুষকে খাওয়াতে পারতাম না। সেদিকে নজর দেওয়ার কথা আমরা বলেছি ডিসিদের।
