জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অন্য কোনো নির্বাচন চায় না বামগণতান্ত্রিক জোট। জোটের শীর্ষ নেতাদের মতে, চলতি বছরের মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। সরকার যদি জাতীয় সংসদ নির্বাচনমুখী না হয় তাহলে দেশে অস্থিতিশীলতা আরও বাড়বে। এই সুযোগে পরাজিত অপশক্তি নানা সংকট তৈরি করতে চাইবে।
গতকাল মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাম জোটের নেতারা এসব কথা বলেন।
বেঠক শেষে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘দেশের মানুষ স্বস্তি চেয়েছিল, মর্যাদা চেয়েছিল, ভয়মুক্ত পরিবেশ চেয়েছিল। অন্তর্র্বর্তী সরকারের প্রথম ইনিংসে মানুষ সেই পরিবেশ পায়নি। সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য যা যা সংস্কার করা দরকার তাই করে নির্বাচন সম্পন্ন করা এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করাই এই মুহূর্তের প্রধান কাজ। আমরা আশা করব, সরকার তার তৃতীয় ইনিংসের শুরুতে এই কাজটি সফলভাবে সম্পন্ন করার দিকে এগোবে।’
তিনি বলেন, এ কাজে যেকোনো অজুহাত তৈরি করে টালবাহানা করা হলে, তা দেশকে নতুন সংকটের দিকে নিয়ে যেতে পারে। তৃতীয় ইনিংসেই আমরা নির্বাচিত সরকারের ভূমিকা দেখতে চাই।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন প্রস্তুত আছে বলে তারা আমাদের জানিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে অথবা কোনো মহলের পক্ষ থেকে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অযথা কোনো কালক্ষেপণ না করে অবিলম্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হোক। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য যতটুকু সংস্কার প্রয়োজন ততটুকু সংস্কার করে অবিলম্বে নির্বাচন ঘোষণা করুক। আমরা এটা সরকারকেও বলেছি নির্বাচন কমিশনকেও বলেছি।’
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী) সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা বলেন, বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল মনে করে জাতীয় নির্বাচন আগে হওয়া উচিত। ফলে এই মতামতের প্রতিফলন সরকারের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে থাকবে এই প্রত্যাশা আমরা এখন পর্যন্ত করছি।
সিপিবি সভাপতি মোহম্মদ শাহ আলম বলেন, জাতীয় নির্বাচন আগে হবে নাকি স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে হবে এ নিয়ে বিতর্ক চলছে। আমরা মনে করি এই কাউন্টার প্রসেসের মধ্যে দিয়ে সরকার জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সময়ক্ষেপণ করছে । এই সময়ক্ষেপণ জাতীর জন্য আত্মঘাতী হবে। এ সরকার যতই কালক্ষেপণ করবে ততই জটিলতা বাড়বে।
বামগণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশের অধিকাংশ ক্রিয়াশীল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের আকাক্সক্ষা অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে অর্থাৎ এ বছরের মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন জরুরি কর্তব্য। আগে স্থানীয় নির্বাচনসহ যেসব নির্বাচনের আলোচনা হচ্ছে, আমরা মনে করি, এসব নির্বাচন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরেই সম্পন্ন করা বাঞ্ছনীয়।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী প্রমুখ।
