কয়লাভিত্তিক বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আসছে পবিত্র মাসে রমজান। উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলা বিদ্যুৎহীন কিংবা লো-ভোল্টেজের কবলে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে পুরোপুরি কয়লাভিত্তিক বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ায় ১২৫ মেগাওয়াটের ১ নম্বর ইউনিট ও ২৭৫ মেগাওয়াটের তৃতীয় ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।
কয়লাভিত্তিক ৫২৫ মেগাওয়াট বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দীকি বলেন, বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ায় ইউনিট দুটি বন্ধ হয়ে যায়। ১ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার বয়লারটি ঠান্ডা হলে মেরামত কাজ শুরু হবে। আশা করছি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন ফিরতে এক সপ্তাহ থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টার দিকে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ১২৫ মেগাওয়াট ইউনিট থেকে প্রতিদিন ৭০-৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হতো। ১ নম্বর ইউনিটটি চালু রাখতে প্রতিদিন ৮০০ থেকে ৯০০ টন কয়লা ব্যবহার হতো। এর আগে পানির পাইপ ফাটে এবং বিয়ারিং ভেঙে যাওয়ায় গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩ নম্বর ইউনিটটির যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদন বন্ধ। ২৭৫ মেগাওয়াট তৃতীয় ইউনিট থেকে প্রতিদিন ১৭০-১৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হতো। ৩ নম্বর ইউনিটটি চালু রাখতে দৈনিক বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ১৮০০ থেকে ১৯০০ টন কয়লা লাগত। এদিকে, ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিটি সংস্কার করার জন্য ওভার হোলিংয়ের কাজ চলছে। ১২৫ মেগাওয়াট ২ নম্বর ইউনিট দিয়ে প্রতিদিন ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো।
পল্লীবিদ্যুৎ অফিস মূত্র জানিয়েছে, পার্বতীপুরে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট লোডশেডিংয়ে পড়তে পারে ১ লাখ ১০ হাজার সাধারণ গ্রাহক। এ উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ১৮ থেকে ২০ মেগাওয়াট। কিন্তু বরাদ্দ পায় তারা ১০ থেকে ১১ মেগাওয়াট। পল্লীর আওতাধীন প্রায় ৯০ হাজার গ্রাহক। চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে সর্বোচ্চ ১১ মেগাওয়াট।
নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) পার্বতীপুর কার্যালয় জানিয়েছে, পার্বতীপুর শহরে বিদ্যুতের চাহিদা ৬ থেকে ৭ মেগাওয়াট। কিন্তু বরাদ্দ মিলছে ৩ থেকে ৪ মেগাওয়াট। শহরে নেসকোর আওতাধীন প্রায় ২০ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। নেসকোর পার্বতীপুর শহরে বিদ্যুতের চাহিদা বর্তমানে ৭ মেগাওয়াট। চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে সর্বোচ্চ ৩ মেগাওয়াট। দুই সপ্তাহ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ থাকলে এ অঞ্চলের মানুষ বিদ্যুৎহীন কিংবা লো-ভোল্টেজের কবলে পড়বে।
