পরিপাকতন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগ

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৬:৩৪ এএম

পরিপাকতন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগকে ডাক্তারি ভাষায় ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ  বলা হয়। রোগটির কারণ এখন পর্যন্ত পুরোপুরি জানা সম্ভব  হয়নি। তবে কিছু জিনগত ও পরিবেশগত বিষয়কে এর জন্য দায়ী বলে মনে করা হয়। বর্তমানে আমাদের দেশেও এই রোগে আক্রান্তের হার ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রকার

এই রোগ সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে। একটি হলো ক্রোনস ডিজিজ, অপরটি আলসারেটিভ কোলাইটিস। ক্রোনস ডিজিজ মুখ থেকে শুরু করে মলদ্বার পর্যন্ত পরিপাকতন্ত্রের যেকোনো অংশকে আক্রান্ত করতে পারে বা হয়ে থাকে। অপরদিকে আলসারেটিভ কোলাইটিস শুধু কোলন বা বৃহদন্ত্রের রোগ।

লক্ষণ

দীর্ঘমেয়াদি পেটে ব্যথা, পাতলা পায়খানা, রক্তমিশ্রিত পায়খানা, বদহজম, ওজন কমে যাওয়া। অনেক সময় জটিলতায় অন্ত্র সরু হয়ে গিয়ে পেট ফুলে যেতে পারে। কখনো কখনো অন্ত্র ছিদ্র হয়ে প্রচ- পেটে ব্যথা হয়ে থাকে। অনেকের মলদ্বারের ফিস্টুলা ও অন্ত্রের ফিস্টুলাও হয়ে থাকে। আর আলসারেটিভ কোলাইটিসে দীর্ঘমেয়াদি রক্তমিশ্রিত পাতলা পায়খানা, তলপেটে ব্যথা ইত্যাদি উপসর্গ লক্ষণীয়। মলদ্বারে মারাত্মক রক্তক্ষরণ, পেট ফুলে যাওয়াইত্যাদি সমস্যা হয়ে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।  এসব রোগীদের অনেক সময় মুখ, চোখ ও চামড়ায় প্রদাহজনিত সমস্যাও হতে পারে।

পরীক্ষা

রক্ত ও মলের কিছু বিশেষ পরীক্ষার পাশাপাশি এন্ডোস্কপি, কোলনোস্কোপি ও এন্টেরোস্কোপি পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয়। অনেক ক্ষেত্রে পেটের সিটি স্ক্যান এবং এমআরআই পরীক্ষা করতে হয়। কিছু রোগীর অন্ত্রের অপারেশন করার পর বায়োপসি পরীক্ষায় রোগ শনাক্ত  করা হয়।

চিকিৎসা

নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন ও নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের পাশাপাশি কাউন্সেলিং রোগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কখনো কখনো আইবিডি রোগের চিকিৎসায় অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসা ব্যয়বহুল হতে পারে। এই ধরনের চিকিৎসায় বিশেষ করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখাতে হয় ও রোগ নিয়ে কোনো হেলাফেলা করতে নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত