যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একুশে উদযাপন অনুষ্ঠানে স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে হট্টগোল, চরম উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা হয়েছে। স্থানীয় সময় একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে নিউইয়র্কের উড সাইড তিব্বতি কমিউনিটি সেন্টারে বাংলাদেশ সোসাইটির এক অনুষ্ঠানে এমন ঘটনা ঘটে।
অনুষ্ঠানে সোসাইটির পক্ষ থেকে বার বার কোনো ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য-স্লোগান না দেওয়ার অনুরোধ সত্ত্বেও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা দলীয় স্লোগান দিতে থাকে। এতে পুরো অনুষ্ঠানস্থলে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। অস্থায়ী বেদিতে ফুল দিতে আসা শতাধিক সামাজিক-সাংস্কৃতিক-আঞ্চলিক সংগঠনসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিতিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়।
জানা যায়, অনুষ্ঠানটি নিয়ম মাফিক চলছিল। ট্রাস্টিবোর্ডের চেয়ারম্যান এম আজিজ তার বক্তব্যে বিদায়ী কমিটির মৃদু সমালোচনা করেন। এরপর সাবেক ও আগামী কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান পাল্টা বক্তব্য দিলে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। পরে সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম তার বক্তব্যে ৪৭, ৭১, ৯০ ও ৫ আগস্টের গণআন্দোলনের কথা তার বক্তব্যে তুলে ধরে সাবেক স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। একপর্যায়ে উপস্থিত আওয়ামী লীগ কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন।
ফখরুল আলমের বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন আওয়ামী লীগ নেতা আবুল হাসিব মামুন ও মুজাহিদুল ইসলাম। সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, মহিউদ্দীন দেওয়ান ও মাহবুব তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। আওয়ামী লোকজন মারমুখী হয়ে উঠলে বিএনপির রিপন, কাজী আজম, জসিম ভূঁইয়া, মোশাররফ হোসেন, সেলিম রেজাসহ অনেকে প্রতিবাদ করতে থাকেন। এ সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থী নেতাকর্মীদের মধ্যে তুমুল হট্টগোল শুরু হয়।
এর আগে গত বছর ১৬ ডিসেম্বরের যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি সামাজিক সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির অভিষেক ও বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে তুমুল হট্টগোল ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। ওইদিন সন্ধ্যায় নিউ ইয়র্কের উডসাইডের তিব্বত কমিউনিটি সেন্টারে অভিষেক ও বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে একজন বক্তার উদ্দেশ্য প্রণোদিত রাজনৈতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগ ও বিএনপিপন্থী নেতা-কর্মীদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটেছিল। ফলে প্রায় আধাঘণ্টা অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। পরে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র আসার দোহাই দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়।
